বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য সাপ্তাহিক পরামর্শ; বাংলা পর্ব-৩

আপডেট: জুন ২৯,২০১৬ | 

বাংলা : সাপ্তাহিক টিপ্স 3 

চাষার দুক্ষু : রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

১. ‘চাষার দুক্ষু’ শীর্ষক রচনাটি নেয়া হয়েছে—বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘রোকেয়া রচনাবলি’ থেকে

২. কৃষকদের জোটে না—পেটে খাদ্য, পান্তাভাতে লবণ, শীতে বস্ত্র, অসুখে চিকিৎসা।

৩. রংপুরের কৃষকগণ টাকায় পঁচিশ সের চাল কিনতে না পেরে কেনে—লাউ, কুমড়া, পাটশাক, লাউশাক।

৪. কৃষকদের চরম দারিদ্র্যের জন্য দায়ি—এক শ্রেণির মানুষের বিলাসিতা

৫. কৃষকদের দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ—গ্রামীণ কুটির শিল্পের বিপর্যয়।

৬. কুটির শিল্পকে ধ্বংস করে দিয়ে আত্মনির্ভরশল গ্রাম-সমাজকে চরম সংকটের মধ্যে ফেলেছে—ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী।

৭. কৃষকদের মুমূর্ষু অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে দরকার—গ্রামে পাঠশালা প্রতিষ্ঠার করা।

আহ্বান : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

১. ‘আহ্বান’ গল্পটি সংকলিত হয়েছে—বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনাবলি থেকে

২. ‘আহ্বান’ উপজীব্য বিষয়—ধনী-দরিদ্রের শ্রেণিবিভাগ ও বৈষম্য, ধর্মের সংস্কার, গোঁড়ামি সব দূর গতে পারে নিবিড় স্নেহ ও উদার হৃদয়ের আন্তরিকতা ও মানবীয় দৃষ্টির ফলে।

৩. গল্পে লেখক প্রকাশ ঘটিয়েছেন—দুটি ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও আর্থিক অবস্থানে বেড়েওঠা চরিত্রের মধ্যে সংকীর্ণতা ও সংস্কারমুক্ত মনোভঙ্গির।

আমার পথ : কাজী নজরুল ইসলাম

১. ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি সংকলিত হয়েছে—কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘রুদ্র-মঙ্গল’ থেকে

২. ‘আমি’— ভাবনা বিন্দুতে সিন্ধুর উচ্ছ্বাস জাগায়। সীমায় ব্যাপ্ত করতে চেয়েছেন। মানুষের সঙ্গে মিলিয়ে ‘আমরা’ হয়ে উঠতে চেয়েছেন। রুদ্র-তেজে মিথ্যার ভয়কে জয় করে সত্যের আলোয় নিজেকে চিনে নিতে সাহায্য করে।

৩. ‘আমার কর্ণধার—আমি।

৪. আমার পথ দেখাবে—আমার সত্য’।

৫. নজরুল ভুল করতে রাজি আছে কিন্তু —ভণ্ডামি করতে প্রস্তুত নন।

৬. মনুষ্যত্ববোধে জাগ্রত হতে পারলেই—ধর্মের সত্য উন্মোচিত হবে।

৭. গোটা মানব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা; আর এই ঐক্যের মূল শক্তি হলো—সম্প্রীতি।

জীবন ও বৃক্ষ /মোতাহের হোসেন চৌধুরী

১. মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধটি সংকলিত হয়েছে—‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থ থেকে

২. বিবেকবোধ সম্পন্ন মানবজীবনের মহত্তম প্রত্যশা থেকে লেখক মানুষের জীবনকাঠামোকে তুলনা করেছেন—বৃক্ষের সঙ্গে।

৩. ক্ষের বিকাশ, পরিপূর্ণতা ও সার্থকতার পেছনে রয়েছে—নীরব সাধনা।

৪. মানব-জীবনের সার্থকতার জন্য হওয়া উচিত—বৃক্ষের মতো পরিপূর্ণতা পাওয়া, অন্যকে দান করে সার্থকতা পাওয়া।

৫. স্বার্থপর, অহংকারী, বিবেকহীন, নিষ্ঠুর জবরদস্তিপ্রবণ মানুষের জায়গায় দেখা দেবে— প্রেমে, সৌন্দর্যে, সেবায় বিকশিত বিবেকবান পরিপূর্ণ ও সার্থক মানুষ।

মাসি-পিসি /মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

১. ‘মাসিপিসি’ গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয়—কলকাতার ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় (১৩৫২ বঙ্গাব্দের চৈত্র সংখ্যায়, মার্চ-এপ্রিল ১৯৪৬)।

২. গল্পটি সংকলিত হয়— ‘পরিস্থিতি’ (অক্টোবর ১৯৪৬) নামক গল্পগ্রন্থে।

৩. বর্তমান গল্পটি পাওয়া যায়— ‘ঐতিহ্য’ প্রকাশিত মানিক-রচনাবলি পঞ্চম খণ্ডে।

৪. ‘মাসি-পিসি’ গল্পের কাহিনি—স্বামীর নিমর্ম নির্যাতনের শিকার পিতৃমাতৃহীন আহ্লাদি নামের এক তরুণী।

৫. আহ্লাদি নামক তরুণীর আত্মীয়— মাসি ও পিসি দুজনই বিধবা ও নিঃস্ব মহিলা।

মাসি ও পিসি তাকে বাঁচায়—অত্যচারী স্বামী এবং লালসা-উন্মত্ত জোতদার, দারোগা ও গুণ্ডা-বদমাশদের আক্রমণ থেকে।

৬. গল্পটির বৈচিত্র্যময় দিক হলো—দুর্ভিক্ষের মর্মস্পর্শী স্মৃতি, জীবিকার নির্বাহের কঠিন সংগ্রাম, নারী হয়ে নৌকাচালনা ও সবজি ব্যাবসায়ী দিই বয়স্ক নারী।

বায়ান্নার দিনগুলো /শেখ মুজিবুর রহমান

১. জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বায়ান্নার দিনগুলো’ সংকলিত হয়েছে—‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’(২০১২) গ্রন্থ থেকে

২. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আত্মজীবনী লেখা আরম্ভ করেন—১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে রাজবন্দি থাকা অবস্থায়।

৩. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবনী লেখা বন্ধ হয়ে যায়—১৯৬৮ সালের ১৭ই জানুয়ারি থেকে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলায় ঢাকা সেনানিবাসে আটক থাকায়।

৪. জীবনীটিতে ঘটনাবলি স্থান পেয়েছে—১৯৫৫ সাল পর্যন্ত।

৫. যৌবনের অধিকাংশ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন—আপসহীন, নির্ভীক।

৬. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহজ-সরল ভাষায় ‘বায়ান্নার দিনগুলো’ প্রকাশ করেছেন—জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, গভীর উপলব্ধি ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে।

৭. ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনায় ১৯৫২ সালে বিবৃত হয়েছে— বঙ্গবন্ধুর জেলজীবন ও জেল থেকে মুক্তলাভের স্মৃতি।

৮. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনশন ধর্মঘট করেন—১৯৫২।

৯. স্মৃতিচারণে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে—ঢাকায় একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখে ছাত্রজনতার মিছিলে গুলির খবর।

১০. স্মৃতিচারণে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে—অনশনরত অবস্থায় মৃত্যু অত্যাসন্ন জেনে পিতামাতা-স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ভাবনা

১১. স্মৃতিচারণে সংকলিত হয়েছে—অবশেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি পেয়ে স্বজনদের কাছে ফিরে আসার স্মৃতি হৃদয়স্পর্শী বিবরণ।

জাদুঘরে কেন যাব : আনিসুজ্জামান

১. ‘জাদুঘরে কেন যাব’ রচনাটি সংকলিত হয়েছে— চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘরে রজতজয়ন্তী উপলক্ষ্যে শামসুল হোসাইনের সম্পাদনায় প্রকাশিত স্মারক পুস্তি ‘ঐতিহ্যান’ (২০০৩) থেকে।

২. জাদুঘর হলো—একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান যেখানে মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংগ্রহ করে রাখা হয় সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও গবেষণার জন্যে।

৩. জাদুঘর— কেবল বর্তমান প্রজন্মের কাছে নিদর্শনগুলি প্রদর্শন করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সেগুলি সংরক্ষণ করে রাখে।

৪. জাদুঘরে আয়োজন করা হয়— বক্তৃতা, সেমিনার, চলচ্চিত্র প্রদর্শন ইত্যাদির।

৫. জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে—ইতিহাস ও ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি ইত্যাদি সম্পর্কিত জ্ঞান ও তথ্যের সঙ্গে জনগণকে আকৃষ্ট ও সম্পৃক্ত করায়।

রেইনকোট /আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

১. ‘রেইনকোট’ গল্পটি প্রকাশিত হয়—১৯৯৫ সালে।

২. ‘রেইনকোট’ গল্পটি সংকলিত হয়—‘জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল’ (১৯৯৭) গ্রন্থে।

৩. ‘রেইনকোট’ গল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে আখতারুজ্জামানা ইলিয়াস ‘রচনাসমগ্র ১’ থেকে।

৪. ‘রেইনকোট’ গল্পটি রচিত হয়েছে—মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে।

৫. ঢাকা কলেজের সামনে গেরিলা আক্রমণ করে— বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার ধ্বংস করা হয়।

৬. পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কলেজের শিক্ষকদের তলব করে এবং গ্রেপ্তার নির্যাতন চালিয়—নুরুল হুদা ও আবদুস সাত্তার মৃধাকে।

৭. গল্পের কথক—নুরুল হুদা।

৮. নুরুল হুদার কথায় উঠে আসে —পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র।

৯. বৃষ্টির মধ্যে নুরুল হুদাকে কলেজে যেতে যে রেইনকোটটি পরতে হয় সেটি ছিল—তার শ্যালক মুক্তিযোদ্দা মন্টুর।

১০. মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে সাধারণ ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয়—উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম।

মহাজাগতিক কিউরেটর /মুহম্মদ জাফর ইকবাল

১. মুহম্মদ জাফর ইকবাল রচিত ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পটি গৃহীত হয়েছে—‘জলজ’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘সায়েন্স ফিকশন সমগ্র’ তৃতীয় খণ্ড (২০০২) থেকে।

২. ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’—বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি।

৩. ‘মানুষ’ প্রাজতির নির্বুদ্ধিতায় তারা শঙ্কিত হয় অবশেষে তারা পরিশ্রমী সুশৃঙ্খল সামাজিক প্রাণী পিঁপড়াকেই শনাক্ত করে—পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রজাতি হিসেবে।

৪. তারা পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী বিবেচনায় সংগ্রহ করে নিয়ে যায়— সুবিবেচক ও পরোপকারী পিঁপড়া যে কেডাইনোসরের যুগ থেকে বেঁচে আছে।

নেকলেস : মূল, গি দ্য মোপাসাঁ

১. মোপাসাঁ রচিত বিখ্যাত গল্প ‘নেকলেস’ প্রকাশিত হয়—১৮৮৪ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি ফরাসি পত্রিকা ‘La Gaulois-এ।

২. মোপাসাঁ রচিত বিশ্ববিখ্যাত গল্প—‘নেকলেস’।

৩. ‘নেকলেস’ গল্পে বলা হয়েছে একটি মেয়ে জীবনের করুণ কাহিনি।

৪. ফরাসি ভাষায় ‘নেকলেস’ গল্পটির নাম ‘La Parure’।

সাম্প্রতিক তথ্যসমূহ