ক্যাটাগরিসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

Please login to write new post.
User Image

Imran Raihan

সেই শিকারি

কথাটা কে বলেছেন মনে নেই। সম্ভবত লর্ড ওটওটল কিংবা তারই মতো মাথাওয়ালা কেউ। কথাটা হলো, সব কাজের জন্য একটা নিখুঁত পরিকল্পনা চাই। হুম, নিখুঁত পরিকল্পনা। একেবারে মোক্ষম জিনিস। তবে স্বামী ঘুটঘুটানন্দের কথাটাও প্রণিধানযোগ্য। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, একটা নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনাতেও ঢুকে যেতে পারে আলপিনের মাথা।

আমার ক্ষেত্রেও আজ তাই হয়েছে।

সকাল থেকেই পরিকল্পনা করেছি। মামার বইয়ের তাক থেকে জিনিসটা সরাতে হবে। জিনিসটা আর কিছু নয়। রকীব হাসানের কিশোর জাদুকর। মামার কাছে চেয়েছি। তিনি জানিয়েছেন এই বই পড়ার জন্য আমাকে কিশোর হতে হবে। ব্যাপারটা ছিলো তার স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রকাশ এবং সত্যি কথা বলতে গেলে অপার সম্ভাবনাময় একটি চারাগাছের মাথাটা ভেংগে দেয়ার মতোই মর্মান্তিক।

আপনারা অনেকেই অপরাধকাহিনী পড়েছেন যেখানে প্রায়ই দেখা যায় পরিস্থিতির কারনে লোকে কীভাবে অপরাধ করতে বাধ্য হয়। আমার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এমনই দাঁড়ালো। ভেবে দেখলাম মামার ঘোষিত আইনকে পাশ কাটিয়ে কিছু একটা করতে হবে। এর জন্যে রাত্রীবেলার তুলনা নেই।

সারাদিন বইটার উপর নজর রাখলাম। কয়েকবার দক্ষ সেনাকর্মকর্তার মতো মামার রুমটা রেকি করলাম।

আসলে ব্যাপারটা খুব সোজা। মামা যখন ঘুমাবেন, অবশ্যই তিনি ঘুমাবেন কারন রাত্রীকালে লোকে তাই করে, যদিও শুনেছি এই শহরে এমন এলাকাও আছে যেখানকার লোক জেগে উঠে, আমরা যখন ঘুমাতে যাই তখন। যা বলছিলাম, মামা ঘুমালে আমার কাজ হবে মামার রুমে প্রবেশ করা। তারপর তাক থেকে বইটা নিয়ে আসা।

পরিকল্পনাটা উল্টেপাল্টে দেখলাম। নাহ, কোনো আলপিনের মাথা দেখা যাচ্ছে না।

অবশেষে রাত হলো। মামা ঘুমাতে গেলেন। তার নাক ডাকার শব্দ পেলাম। আমি শিকারি চিতার মতো আস্তে আস্তে এগোলাম তার রুমের দিকে। দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করতে কোনো সমস্যাই হলো না। ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। তবে সমস্যা নেই। তাকটা কোথায় জানা আছে।

এইতো এগিয়ে যাচ্ছি। ডানহাতে কি যেনো লাগলো। ওহ হো, এটা মামার পড়ার টেবিল। হুহ, বুঝেছি, বামে যেতে হবে। আরে একি, এটা মনে হচ্ছে খাট। খাট হলে খাটের কোন মাথা?? সামনে এগুলাম। এটা কি?? ওহ হো, আলমারি। আহা, বইয়ের তাকটা কোথায়?? আবার মোড় নিলাম। সামনে পড়লো কম্পিউটার টেবিল। আরে বাবা, তোরা এখানে কি করিস?? বইয়ের তাকটাকে আসতে বল। আসবে না?? দাড়া নিজেই খুজে নিচ্ছি।

ডানে ঘুরলাম। আলমারী। আবার ডানে পড়ার টেবিল। ডানে গেলাম খাট। আরে ঘরটা মনে হচ্ছে ঘুরছে। নাকি আমি ঘুরছি।

এই তো আলমারি আবার টেবিল। আবার খাট। আবার কম্পিউটার। একটু ক্রলিং করা যাক। ওমা এবার কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। কই গেলো সব। মাথা তুললাম।

ঠকাস।

উহ, অসহ্য ব্যাথা পেলাম। মামার কন্ঠ শুনে বুঝতে পারলাম ক্রলিং করতে করতে খাটের নিচে ঢুকে গেছিলাম।

user image

Bashar


Inspiring you for regular writing...

Please login for the comments.