ক্যাটাগরিসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

Please login to write new post.
User Image

Imran Raihan

আমি ক্লক খেলি না

আপনাদেরকে ক্ল্যাশ অব ক্ল্যান সংক্রান্ত বিচ্ছিরি ঘটনাটার কথা বলাই হয়নি। ঘটনা ঘটে এক শুক্রবার সকালে। আপনারা তো জানেনই শুক্রবার সকালগুলো কেমন হয়।

হাতে কোনো কাজ নেই, মনের আনন্দে ক্ল্যাশ অব ক্ল্যান খেলছি। সম্প্রতি এই গেমসের প্রতি আমার খানিকটা অনুরাগ জম্মেছে। বরাবরের মতোই আমার বউ ব্যাপারটা ভালো চোখে দেখছে না। ইতিমধ্যে ইশারা ইংগিতে সে জানিয়েছে কক খেলা তৃতীয় শ্রেনীর অকর্মাদের কাজ এবং এতে বুদ্ধিবৃত্তিক ভারসাম্যহীনতার সুস্পষ্ট প্রমান বিদ্যমান। আমি তার সাথে এ ব্যাপারে কোন বিতর্কে জড়াইনি। সে যখনি আপত্তি জানিয়েছে খেলা বন্ধ করে দিয়েছি।

তবে আজকের এই সকালে এখন পর্যন্ত কোন বিপত্তি ঘটেনি। আমি মনের আনন্দে কক খেলছি, বউ নাস্তা বানাচ্ছে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট।

'নাস্তা খেতে এসো' বউ হুকুম করলো।

তাকিয়ে দেখি পরোটা আর ডিম ভাজি। আমার প্রিয় খাবার। কিন্তু এই মুহুর্তে একটা ওয়ার এটাকে আছি। তাই উঠা হলো না।

'কি হলো? আসো' বউ আবার ডাকলো।

'আসছি' বলেই ওয়ার্কারদের কাজ দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।

কতসময় পার হলো মনে নেই। বউয়ের কন্ঠে সম্বিত ফিরলো

'একটা কথা বলি??'

আপনার বউ যদি আপনার কাছে কথা বলার অনুমতি চায়, তাহলে ধরে নিন আপনি কিছু একটাতে ফেসে যাচ্ছেন। হতে পারে সেটা শাড়ী গয়না সংক্রান্ত কিছু। অথবা কপালের আচিলের মতো পুরনো কোনো অভ্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা।

'বলো' ভিতরে ভিতরে ঘাবড়ে গেছি।

'তোমার গেমসের নেশাটা দিনদিন বেড়েই চলছে। ভেবেছিলাম কিছু বলবো না। কিন্তু না বলে উপায় নেই। আজ থেকে তোমার গেমস খেলা বন্ধ' মার্গারেট থেচারের মতো কঠিন গলায় বললো সে।

এই দেখুন, বউদের লাই দিলে কি হয়। এখন সে আমার গেমস খেলাতেও নাক গলাচ্ছে। কোন তেজী পুরুষের পক্ষেই ব্যাপারটা সহ্য করা সম্ভব না। উইনস্টন চার্চিলের মতো দীপ্ত কন্ঠে বললাম

'আমি গেমস ছাড়বো না।'

'কি বললে?? তুমি আমার কথা শোনবে না?'

'শোনো, একটা কথা বলি, টমাস জেফারসন কিংবা তার মতো মাথাওয়ালা কেউ বলেছে কথাটা। কথাটা হলো, প্রত্যেকের নিজস্ব সীমানা আছে। সেই সীমানার বাইরে যাওয়া উচিত নয়। তোমাকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে দেয়ার সময় হয়েছে' সাহিত্যিকদের ভাষায় বলতে গেলে, চাবিয়ে চাবিয়ে বললাম।

'এভাবে বলতে পারলে??' কন্ঠ শুনে বুঝলাম এটাকেই উপন্যাসে আহত গলা বলে।

'হুম পারলাম'

'সামান্য একটা গেমসের জন্য এমন করতে পারলে?? আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি তোমার গেমস নিয়ে থাকো।'

দুপদাপ করে পাশের রুমে চলে গেলো সে। আলমারি খোলার আওয়াজ পেলাম। বুঝতে পারছি বাপের বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উহু, ব্যাপারটা পাত্তা দেয়া যাবে না। গেমস খেলায় ডুবে গেলাম। দুই মিনিট পরেই ভেসে উঠতে হলো। একটা দরকারী কথা মনে পড়েছে।

'এই শোনো' চেঁচালাম।

'শুনছি' জবাব এলো।

'দুপুরের খাবার রান্না করে যেও'

'নিজে রান্না করে নিও'

এ ধরনের বুর্জোয়া মানসিকতা প্রকাশের পর আলোচনা চালিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন।

'বেশ বেশ ' জবাব দিলাম।

কিছু সময় পার হলো। পাশের রুমে শব্দ শোনা যাচ্ছে। সব কিছু প্যাকেট করছে।

বুকের কোনায় চিনচিন করে উঠলো। আমি নিশ্চিত নই, তবে মনে হলো ডান চোখের পাতাটাও একবার কেপে উঠলো।

'হ্যালো কমরেড' ডাক দিলাম।

'বলো, শুনছি'

'আমরা দ্বিপাক্ষিক সংলাপের মাধ্যমে ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করতে পারি। এটা আমাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সহায়ক হবে' নব্য সমাজতন্ত্রীর মতো চেঁচালাম।

'তোমার সাথে সহাবস্থানে আপত্তি নেই। শর্ত হলো ওই গেমস ছাড়তে হবে' এনার্কিস্টদের মতো কন্ঠ তার।

'গেমসটা আমি ছাড়ছি না'

'যা ইচ্ছা করো'

'বেশ বেশ' বলে আবার গেমসে ডুবে গেলাম। বেশ কিছু গোল্ড পেলাম। ওয়ার সার্চ দিতে দিতে বললাম

'তুমি নিশ্চয় সত্যি সত্যি চলে যাচ্ছো না?'

'হা, আমি তাই করছি'

'আমার মনে হয় তুমি থাকছো'

'না আমি চলে যাচ্ছি'

'আমি বলতে চাইছি, ব্যাপারটা ভালোভাবে ভেবে দেখা উচিত'

'তুমি গেমসের ব্যাপারটা ভেবে দেখো'

'আমি গেমসটা ছাড়ছি না'

'যা ইচ্ছা করো। আমি যাচ্ছি'

'বেশ বেশ' বলে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গী করলাম। একথা ঠিক যে দীর্ঘদিন আগুনে পুড়ে পুড়ে আমি কঠিন ধাতুপিন্ডে পরিণত হয়েছি। আমার সর্বশেষ সংলাপের দিকে তাকালে আপনারাও ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। আমি জানি অনেকেই মনে মনে বলছেন, নাহ, ছোকরার বুকের পাটা আছে বলতে হয়। বউয়ের সাথে এভাবে কথা বলা সহজ কম্ম নয় বাপু।

সমস্যা হলো পাশের রুমের শব্দ আমার বুকের চিনচিন ব্যাথাটা বাড়িয়ে তুলছে। মনে হচ্ছে আসলেই ব্যাপারটা ভেবে দেখা উচিত।

আচ্ছা টমাস জেফারসন কিংবা তার মতো মাথাওয়ালা কেউ যেকথাটা বলেছেন সেটা কতটুকু বাস্তব। তার কথামতো সবার নাকি একটা সীমানা থাকে এবং সেই সীমানার বাইরে যাওয়া উচিত নয়। সুক্ষ্ম বিশ্লেষনে মনে হচ্ছে তার কথাটা বউয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারন পাসপোর্ট ভিসা থাকলে সীমানার বাইরে যেতে কোনো সমস্যা নাই। আর বিয়ে করে বউকে সেই পাসপোর্ট ভিসা আরো আগেই দিয়ে রেখেছি। তার মানে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো?? ভাবতে ভাবতে আমি দাঁড়িয়ে গেলাম।

'এই শোনো গেমসটা আর খেলবো না' সিদ্ধান্ত জানালাম।

'ডিলেট করো'

করে দিলাম। কী দরকার এসব ছাইপাঁশ খেলে দাম্পত্যকলহ বাড়ানোর।

'এই নাস্তা খাবো' বলতে বলতে পাশের রুমে গেলাম। ওমা বউ দেখি ময়লা কাপড় চোপড় বের করছে ধোয়ার জন্য। তারমানে এতক্ষণ অভিনয় করছিল

Please login for the comments.