অন্যান্য শ্রেণি ও বিষয়

বি সি এস প্রিলিমিনারি: সাধারণ বিজ্ঞান

পদার্থবিজ্ঞান

 

বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থ এবং শক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে বলা হয় পদার্থবিজ্ঞান। পদার্থবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং বিশ্লেষণের আলোকে বস্তু এবং শক্তির রূপান্তর ও সম্পর্ক উদঘাটন এবং পরিমাণগতভাবে তা প্রকাশ করা।

পদার্থবিজ্ঞানকে আমরা  প্রধানত নিম্নোক্ত শাখাগুলোতে ভাগ করতে পারি

(i)বলবিজ্ঞান

(ii)তাপগতিবিজ্ঞান

(iii)শব্দবিজ্ঞান

(iv)আলোকবিজ্ঞান

(v)তাড়িতচৌম্বক বিজ্ঞান

(vi)কঠিন অবস্থার বিজ্ঞান

(vii)পারমাণবিক বিজ্ঞান

(viii)নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান

(ix)কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান

(x)ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি।

থেলিস(খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৮-৫৬৯ ) সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত ভবিষৎবাণীর জন্য বিখ্যাত। তিনি লোডস্টোনের চৌম্বকধর্ম সম্পর্কে জানতেন।

 পিথাগোরাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৫২৭-৪৯৭ ) বিভিন্ন জ্যামিতিক উপপাদ্য ছাড়াও কম্পমান তারের উপর তাঁর কাজ রয়েছে। বর্তমান বাদ্যযন্ত্র এবং সংগীত বিষয়ক অগ্রগতির পিছনে তাঁর অবদান আছে।

গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০-৩৭০) পরমাণু সম্পর্কে প্রথমে ধারণা দেন।

গ্রিক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস(খ্রিষ্টপূর্ব ২৮৭-২১২ ) লিভারের নীতি ও তরলে নিমজ্জিত বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্বমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করে ধাতুর ভেজাল নির্ণয়ে সক্ষম হন। তিনি গোলীয় দর্পণের সাহায্যে সূর্যের রশ্মি কেন্দ্রীভূত করে আগুন ধরানোর কৌশল জানতেন।

আলোক তত্ত্বের উপর ইবনে আল হাইথাম(৯৬৫-১০৩৯) এবং আল হাজেন(৯৬৫-১০৩৮) এর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। টলেমী(১২৭-১৫১) ও অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে কোন বস্তু দেখার জন্য চোখ নিজে আলোক রশ্মি পাঠায়। আল হাজেন এই মতের বিরোধিতা করেন এবং বলেন যে বস্তু থেকে চোখে আলো আসে বলেই আমরা বস্তু দেখতে পাই। আতশি কাজ নিয়ে পরীক্ষা তাকে উত্তল লেন্সের আধুনিকতত্ত্বের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

আল মাসুদী(৮৯৬-৯৫৬) প্রকৃতির ইতিহাস সম্পর্কে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লেখেন। এই বইয়ে বায়ুকলের উল্লেখ পাওয়া যায়।

রজার বেকন(১২১৪-১২৯৪) পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবক্তা। তাঁর মতে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমেই বিজ্ঞানের সব সত্য যাচাই করা উচিত।

লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি(১৪৫২-১৫১৯) পাখি ওড়া পর্যবেক্ষণ করে উড়োজাহাজের একটি মডেল তৈরি করেছিলেন। তিনি মূলত চিত্রশিল্পি হলেও বলবিদ্যা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য জ্ঞান ছিল। ফলে তিনি বহু যন্ত্র দক্ষতার সাথে উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন।

ডা গিলবার্ট(১৫৪০-১৬০৩) চুম্বকত্ব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা এবং তত্ত্ব প্রদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

জার্মানির স্নেল(১৫৯১-১৬২৬) আলোর প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন।    

হাইগেন(১৬২৬-১৬৯৫) দোলকীয় গতি পর্যালোচনা করে ঘড়ির যান্ত্রিক কৌশলের বিকাশ ঘটান এবং আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।

রবার্ট হুক(১৬৩৫-১৭০৩) পদার্থের স্থিতিস্থাপক ধর্মের অনুসন্ধান করেন।

বিভিন্ন গ্যাসের ধর্ম বের করার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান রবার্ট বয়েল(১৬২৭-১৬৯১)।

ভন গুয়েরিক(১৬০২-১৬৮৬) বায়ু পাম্প আবিষ্কার করেন।

রোমার(১৬৪৪-১৭১০) বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে আলোর বেগ পরিমাপ করেন।

কেপলার(১৫৭১-১৬৩০) কোপার্নিকাস যে সৌরকেন্দ্রিক তত্ত্বের ধারণা উপস্থিত করেন তাঁর গাণিতিক বর্ণনা দেন তিনটি সুত্রের সাহায্যে। কেপলার গ্রহদের প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষের পরিবর্তে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা দেন। গ্রহদের গতিপথ সম্পর্কে তাঁর গাণিতিক সূত্রগুলোর সত্যতা তিনি যাচাই করলেন টাইকোব্রাহের(১৫৪৬-১৬০১) পর্যবেক্ষণ লব্ধ তথ্যের দ্বারা।

আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা ঘটে ইতালির বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর(১৫৬৪-১৬৪২) হাতে। তিনি প্রথম দেখান যে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং সুশৃঙ্খল ভৌত রাশির সংজ্ঞা প্রদান এবং এদের সম্পর্ক নির্ধারণ বৈজ্ঞানিক কর্মের মূল ভিত্তি। গাণিতিক তত্ত্ব নির্মাণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে সে তত্ত্বের সত্যতা যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা করেন গ্যালিলিও। তিনি সরণ, গতি, ত্বরণ, সময় ইত্যাদির সংজ্ঞা প্রদান ও তাদের মধ্যের সম্পর্ক নির্ধারণ করেন। ফলে তিনি বস্তুর পতনের নিয়ম আবিষ্কার ও সৃতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন।

নিউটন(১৬৪২-১৭২৭) তাঁর বিস্ময়কর প্রতিভার সাহায্যে আবিষ্কার করেন বলবিদ্যা ও বলবিদ্যার বিখ্যাত তিনটি সূত্র এবং বিশ্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র। আলোক, তাপ ও শব্দবিজ্ঞানেও তাঁর অবদান আছে। গণিতের নতুন শাখা ক্যালকুলাসও তাঁর আবিষ্কার।

জেমস ওয়াটের(১৭৩৬-১৮১৯) আবিস্কৃত বাষ্পীয় ইঞ্জিন শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড(১৭৭৭-১৮৫১) দেখান যে তড়িৎপ্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আছে।

মাইকেল ফ্যারাডে(১৭৯১-১৮৬৭), হেনরী (১৭৯৭-১৮৭৯) ও লেঞ্জ (১৮০৪-১৮৬৫) চৌম্বক ক্রিয়া তড়িৎপ্রবাহ উৎপাদন করে এই ঘটনা আবিষ্কার করেন। এর ফলে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।

১৮৬৪ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল(১৮৩১-১৮৭৯) দেখান যে আলোক এক প্রকার তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। তিনি তড়িৎক্ষেত্র এবং চৌম্বকক্ষেত্রকে একীভূত করে তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের বিকাশ ঘটান।

১৮৮৮ সালে হেনরিখ হার্জও(১৮৫৭-১৮৯৮) একই রকম বিকিরণ উৎপাদন ও উদঘাটন করেন।

১৮৯৬ সালে মার্কনী(১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে মোর্সকোডে সংকেত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর আগে বাঙালী বিজ্ঞান জগদীশ চন্দ্র বসু(১৮৫৮-১৯৩৭)  তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ করেন। এভাবে বেতার যোগাযোগ জন্ম লাভ করে।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে রনজেন(১৮৪৫-১৯২৩) এক্স রে এবং বেকেরেল(১৮৫২-১৯০৮) ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।

ম্যাক্স প্লাংক(১৮৫৮-১৯৪৭) আবিস্কার করেন বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব।  

আলবার্ট আইনস্টাইন(১৮৭৯-১৯৫৫) প্রদান করেন আপেক্ষিক তত্ত্ব।

আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের(১৮৭১-১৯৩৭) পরমাণু বিষয়ক নিউক্লিয় তত্ত্ব ও নীলস বোরের(১৮৮৫-১৯৬২) হাইড্রোজেন পরমাণুর ইলেকট্রন স্তরের ধারণা পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।

১৯৩৮ সালে অটো হান(১৮৭৯-১৯৬৮) ও স্ট্রেসম্যান(১৯০২-১৯৮০) বের করেন নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য। এর ফলে জন্ম নেয় নিউক্লিয় বোমা এবং নিউক্লিয় চুল্লী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১৮৯৪-১৯৭৪) তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ম্যাক্স প্লাংকের কোয়ান্টাম তত্ত্বের একটি শুদ্ধতর প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তাঁর তত্ত্ব বোস – আইনস্টাইন সংখ্যায়ন নামে পরিচিত। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি সরূপ এক শ্রেণীর মৌলিক কণাকে তাঁর নামানুসারে বোসন বলা হয়।

তিনজন নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী পাকিস্তানের আবদুস সালাম (১৯২৬-১৯৯৬), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেলডন গ্ল্যাশো(১৯৩২- ) এবং স্টিভেন ওয়াইনবার্গ(১৯৩৩- ) একীভূত ক্ষেত্রতত্ত্বের বেলায় মৌলিক বলগুলোকে একীকরণের ক্ষেত্রে তাড়িত দুর্বল বল আবিষ্কার করে অসামান্য অবদান রাখেন।

নোবেল বিজয়ী ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর রমন(১৮৮৮-১৯৭০) রমন প্রভাব আবিষ্কার করেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে পদার্থবিজ্ঞান যথেষ্ট অবদান রাখেন। এর ফলে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পাশাপাশি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বিভিন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিজ্ঞানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ  অগ্রগতি মহাশুন্য অভিযান।

কৃত্রিম উপগ্রহ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দানে এবং যোগাযোগকে সহজ করে দিয়েছে।

আন্তঃআণবিক শক্তি

পদার্থ হল এমন ভৌত অবস্থা যার ভর ও আয়তন আছে।পদার্থ তিন অবস্থায় বিরাজ করে।পদার্থের অণুসমূহের মাঝে যে আকর্ষণ শক্তি বিদ্যমান তাকে আন্তঃআণবিক শক্তি বলে(তবে পদার্থের পরমানুসমূহ যে শক্তিবলে  আবদ্ধ থাকে তা বন্ধন নামে পরিচিত)। কঠিন অবস্থায় অনূসমূহ কাছাকাছি থেকে কাঁপতে থাকে এবং এদের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি থাকে,তরল অবস্থায় কম থাকে এবং গ্যাসীয় অবস্থায় এদের কম্পন সবচেয়ে বেশি হয় ফলে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ একেবারেই কম থাকে।অন্যদিকে পদার্থের আন্তঃআণবিক  আকর্ষণ যত বেশি হয় আন্তঃআণবিক দূরত্ব তত কম হয়।তাই কঠিন পদার্থে আন্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে  কম ও তরলে সবচেয়ে বেশি থাকে। 

উর্ধপাতন

ঊর্ধ্বপাতন 

কিছু পদার্থ আছে যাদের তাপ দিলে তারা কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় এবং শীতলীকরণে গ্যাসীয় অবস্থা থেকে কঠিনে পরিণত হয়।একে ঊর্ধ্বপাতন বলে।যেমন -ন্যাপথালিন,কর্পূর,কঠিন CO_2। 

পদার্থ কি

পদার্থের প্রকারভেদ 

যাদের নিজস্ব ভর ও আয়তন আছে এবং বল প্রয়োগে বাধা দেয় তাদের পদার্থ বলা হয়।  পদার্থ তিন  প্রকার।মৌলিক পদার্থ,মিশ্র পদার্থ ও যৌগিক পদার্থ।যেসব পদার্থ শুধুমাত্র একটি উপাদান দ্বারা তৈরি তাকে মৌলিক পদার্থ বলে। যেমন-কার্বন,নাইট্রোজেন ইত্যাদি।এ পর্যন্ত ১১৪ টি মৌলিক পদার্থের নামকরণ করা হয়েছে।এদের মধ্যে ২৩ টি মৌলিক পদার্থ কৃত্রিম উপায়ে তৈরী করা হয়েছে।আর ৯২ টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত। 

মৌলিক পদার্থকে আবার ধাতু,উপধাতু, অপরিবাহী ইত্যাদি বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়।

অপরিবাহীঃতাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী মৌল অপরিবাহী নামে পরিচিত।

পরিবাহীঃতাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী মৌল অপরিবাহী নামে পরিচিত।

উপধাতুঃ যেসব মৌলিক পদার্থ অধাতুর মত আচরণ করে তাদের উপধাতু বলা হয়।

প্রকৃতিতে  বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের সমন্বয়ে অণু গঠিত হয়।অণু হল পদার্থের সেই ক্ষুদ্রতম অংশ যা বস্তুর ধর্ম ধারণ করে। আর যেসব পদার্থ একাধিক উপাদান দ্বারা তৈরি তাকে যৌগিক পদার্থ বলে। যেমন-পানি,ফসফিন প্রভৃতি।পানিতে উপস্থিত  হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের ভরের অনুপাত ১ঃ৮।আবার যদি একাধিক পদার্থ বিক্রিয়া না করে কেবল একসাথে অবস্থান করে তবে তাকে মিশ্র পদার্থ বলা হয়।যেমন-বায়ু। অন্যদিকে আলো,বিদ্যুৎ এগুলো পদার্থ নয়,শক্তি।কেননা এরা কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয় এবংপদার্থের বৈশিষ্টগুলো  এদের নেই।   

স্থায়ী কণিকা

পরমাণুতে তিনটি স্থায়ী কণিকা আছে।এগুলো হল-ইলেকট্রন,প্রোটন ও নিউট্রন(উল্লেখ্য হাইড্রোজেনের পরমাণুতে নিউট্রন নেই)।এদের মধ্যে ইলেক্ট্রন পরমাণুর চারপাশে নিয়ন  সঞ্চরণশীল থাকে। এটি ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট।পরমাণুর কেন্দ্রে ধনাত্মক চার্জের প্রোটন ও আধান নিরপেক্ষ নিউট্রন থাকে।এটি নিউক্লিয়াস নামে পরিচিত যা  পরমাণুর সবচেয়ে ভারী অংশ।বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াসের ধারনা  প্রদান করেন।ফলে আধুনিক রসায়নে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়।যেহেতু, নিউট্রনের কোন আধান নেই।তাই নিউক্লিয়াসের আধান বলতে ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট প্রোটনের আধানকেই নির্দেশ করে।উল্লেখ্য সোডিয়ামের একটি পরমাণুতে ১১ টি প্রোটন ও ১২ টি নিউট্রন রয়েছে।পরমাণুতে ইলেক্ট্রন  ও প্রোটনের আধান সমান ও বিপরীত।তাই সামগ্রিকভাবে পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। এছাড়া পরমাণুতে নানা রকম অস্থায়ী কণিকা আছে।যেমন- মেসন,পাইওন, বোসোন ইত্যাদি। 

আইসোটোপ

আইসোটোপঃবিভিন্ন ভরসংখ্যাবিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।আইসোটোপসমূহের নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হয়।বিভিন্ন পরমাণুর আইসোটোপ সংখা বিভিন্ন।যেমন-হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ রয়েছে-হাইড্রোজেন,ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম। প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উপায়ে তৈরি আইসোটোপের সংখ্যা 1300 এর বেশি।আইসোটোপ দুই প্রকার-সুস্থিত ও অস্থিত।অস্থিত আইসোটোপগুলো তিন ধরনের রশ্মি-alpha ,eta,gamma বিকিরণ করে।ইউরেনিয়ামের তিনটি আইসোটোপ রয়েছে।যেমন-ইউরেনিয়াম-২৩৪,ইউরেনিয়াম-২৩৫,ইউরেনিয়াম-২৩৮।এর মধ্যে ইউরেনিয়াম-২৩৫ সবচেয়ে পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত আইসোটোপ। 

আইসোমারঃএকই আণবিক সংকেত যুক্ত কিন্তু আলাদা গঠন ও ধর্মবিশিষ্ট একাধিক জৈব যৌগ পাওয়া যায় ।  এই ধরনের যৌগগুলিকে  আইসোমার  বলে। 

আইসোবারঃযে সকল পরমানুর ভর সংখ্যা বা নিউক্লিয়ন সংখ্যা ( অর্থাৎ প্রোটন ও নিউট্রনের মিলিত সংখ্যা) একই কিন্তু পারমানবিক সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলে।

আইসোটোনঃ যেসব পরমাণুর নিউটন সংখ্যা সমান থাকে কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়, তাদেরকে বলা হয়।

ইলেক্ট্রন বিন্যাস

পরমাণুর ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন শক্তিস্তরে অবস্থান করে।শক্তিস্তরগুলোকে যথাক্রমে K,L,M,N দ্বারা প্রকাশ করা হয়।সুতরাং প্রথম,দ্বিতীয় ও তৃতীয় শক্তিস্তরে  যথাক্রমে সর্বোচ্চ 2,8,18,32 টি ইলেকট্রন থাকতে পারে। 

পারমাণবিক সংখ্যা

কোন মৌলের প্রোটন সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়। যেমন-আর্সেনিকের প্রোটন সংখ্যা ৩৩,ফলে এর পারমাণবিক সংখ্যাও ৩৩।অনুরূপভাবে সিলিকনের পারমাণবিক সংখ্যা ১৪ ও ক্লোরিনের ১৭,ইউরেনিয়মের ৯২।  

আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর

কোন মৌলের একটি পরমাণুর ভর একটি কার্বন-12 আইসোটোপের ভরের 1/12 অংশের যত ভাগ তাকে তার আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বলে।জিংকের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ৬৫।জন ডাল্টন পারমাণবিক ভর ধারণার প্রবর্তক। 

যৌগমূলক

যেসব পদার্থ কোন বিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে ঐ বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট নিয়ন্ত্রন করে তাদের যৌগমূলক বলা হয়।এরা দুই প্রকার।যথা-ধনাত্মক যৌগমূলক( অ্যামোনিয়াম) ও ঋণাত্মক যৌগমূলক(হাইড্রক্সাইড আয়ন)।

আণবিক ভর

কোন যৌগে উপস্থিত পরমানুর সংখ্যাকে তাদের পারমাণবিক ভর দ্বারা গুণ করে গুণফলকে যোগ করে যে সংখ্যা পাওয়া যায় তাকে ঐ মৌলের আণবিক ভর বলা হয়। যেমন-কার্বন ডাইঅক্সাইডে একটি কার্বন ও দুটি অক্সিজেন রয়েছে তাই এর আণবিক ভর ৪৪।অনুরূপভাবে  সালফিউরিক এসিডে দুটি হাইড্রোজেন,একটি সালফার ও চারটি অক্সিজেন রয়েছে।তাই এর  আণবিক ভর ৭৮।

মোল

কোন মৌলের পারমাণবিক ভরকে গ্রামে প্রকাশ করা হলে তাকে ঐ মৌলের  এক গ্রাম পারমাণবিক ভর বা এক মৌল বলা হয়।যেমন -এক মোল অক্সিজেন বলতে ১৬ গ্রাম অক্সিজেনকে বুঝায়,আর এক মৌল ম্যাগনেসিয়াম বলতে ২৪ গ্রাম ম্যাগনেসিয়ামকে বুঝিয়ে থাকে। 

প্রতীক

মৌলের প্রতীক কোন মৌলের একটি পরমাণুকে নির্দেশ করে।এটি কোন মৌলের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ।যেমন-'H' দ্বারা হাইড্রোজেন মৌলের পরমাণুকে নির্দেশ করা হয়।  

পারমাণবিক সংখ্যা

পরমাণু অতিশয় ক্ষুদ্র।এর ব্যাস 10^-^8 cm।পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে প্রোটন ও নিউট্রন।ইলেকট্রন সংখ্যা সবসময় প্রোটন সংখ্যার সমান হয়।প্রোটন সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা (Z)বলা হয়।প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যাকে একত্রে ভর সংখ্যা (A) বা নিউক্লিয়ন সংখ্যা বলা হয়।

কার্বনের ব্যবহার

কার্বন একটি অধাতু।এর দুটি রূপভেদ (হীরক ও গ্রাফাইট ) রয়েছে।এর মধ্যে হীরকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে,এটি সবচেয়ে কঠিন পদার্থ  এবং  বিদ্যুৎ পরিবহন করে না। তবে গ্রাফাইটে কার্বন-কার্বন ত্রিবন্ধন ব্যবহৃত হওয়ায় এটি  বিদ্যুৎ পরিবহন করে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার লক্ষ করা যায়।যেমন-হীরক চূর্ণ রঙ তৈরিতে ও কাচ কাটতে ব্যবহার করা হয়,কালো রঙ তৈরিতে ভুষা কয়লা ব্যবহার করা হয়,অস্তিজ কয়লাকে HCl দ্বারা প্রক্রিয়াজাত করে  আইভরি ব্ল্যাক তৈরি করা হয়,এছাড়া স্টেনলেস স্টিল তৈরিতে ৭৪% লোহা,১৮%ক্রোমিয়াম,৮%নিকেল ও ১% কার্বন ব্যবহার করা হয়।এছাড়া জৈব বস্তুর অসম্পূর্ণ দহনে যে কার্বন ডাইওক্সাইড তৈরি হয় তা পানিতে দ্রবীভূত করে সোডা ওয়াটার এবং একে চাপ প্রয়োগে কঠিন করে শুষ্ক বরফ তৈরি করা হয়।  

তেজস্ক্রিয়তা

যেসব পদার্থ থেকে আলফা,বিটা ও গামা রশ্মি নির্গত হয় তাদের তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলা হয়।ইউরেনিয়াম,নেপচুলিয়াম,প্লুটোনিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় পদার্থ।আর তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে অবিরত আলফা( ধনাত্মক চার্জযুক্ত),বিটা(ঋণাত্মক চার্জযুক্ত) ও গামা(চার্জ নিরপেক্ষ) রশ্মি নির্গমনের ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলা হয়।১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল ইউরেনিয়ামের  তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।আর এর কৃতিত্বস্বরূপ তাঁকে নোবেল দেয়া হয়।  

গ্রিন হাউস

জীবাশ্ম জ্বালানির দহনে ( বিঃদ্রঃ জীবাশ্ম জ্বালানির অসম্পূর্ণ দহনে কার্বন মনোক্সাইড সৃষ্টি হয়) ও অন্নান্য কারণে বায়ুতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।ফলে সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবী থেকে বের হতে পারছে না এবং ফলস্রুতিতে বায়ুর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।যা গ্লুবাল ওয়ার্মিং নামে পরিচিত।একে বলা হয় গ্রিন হাউস প্রভাব ।এর ফলে সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

সিএফসি

এরোসল ও হিমায়ক যন্ত্রে যে সিএফসি গ্যাস ব্যবহৃত হয় তা আমাদের বায়ুমন্ডল ভেদ করে ওজন স্তরে পৌছে এবং সেখানে এটি বিযোজিত হয়ে ক্লোরিন গ্যাস উৎপন্ন করে,যা নীল বর্ণের ওজনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজন স্তর ধ্বংস করে। 

মরিচা

লোহার তৈরি জিনিস অনেক দিন আর্দ্র বাতাসের সংস্পর্শে রেখে দিলে বাতাসে অক্সিজেনের সাথে লোহার বিক্রিয়ার এক ধরনের যৌগগ আয়রন অক্সাইড সৃষ্টি হয়। এই যৌগ মরিচা। প্রতিরোধের উপায়ঃ ধাতুর উপরিতলে রং বা গ্রীজ দিয়ে মেশিনের ঘূর্ণনশীল অংশে তেল বা গ্রীজ দিয়ে মরিচা রোধ করা যায়। লোহাকে গলিত দস্তায় ডুবিয়ে লোহার উপর দস্তার পাতলা প্রলেপ দিয়ে মরিচা প্রতিরোধ করা সম্ভব। গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় মরিচা রোধ করা সম্ভব। ইলেকট্রোপ্লেটিং পদ্ধতিতে লোহা ও ইস্পাতের উপর মরিচা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সাবান

সাবান হল উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণ(যেমন সোডিয়াম স্টিয়ারেট)।তেল বা চর্বিকে(গরুর চর্বি ট্যাল্লো নামে পরিচিত) কস্টিক সোডা বা কস্টিক পটাশ  সহযোগে সাবান প্রস্তুত করা হয়।সাবান প্রস্তুতির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন উৎপন্ন হয়। সাবন কোমল ও কঠিন দুই ধরণের হয়ে থাকে কোমল সাবান প্রস্তুত করতে কস্টিক পটাশ ব্যবহার করা হয়।কাপড় কাচা ছাড়াও চাপড়া নরম করলে সাবান ব্যবরার করা হয়।সাবান ব্যবহার করে ময়লা পরিষ্কার না হলে আমরা ডিটার্জেন্ট ব্যবহার করে থাকি যা বিভিন্ন ধরণের সিনথেটিক পদার্থ নিয়ে গঠিত।এটি খর পানিতেও ময়লা পরিষ্কার করে।তবে কাপড়ের দাগ দূরীকরণে ব্লিচিং পাউডার(CaOCl)Cl ব্যবহার করা হয়। 

সংকর ধাতু

যেসব ধাতু একাধিক ধাতুর সমন্বয়ে গঠিত তাদের সংকর ধাতু বলা হয়।যেমন- পিতলে  মোট ৬৫% কপার  ও ৩৫% জিংক থাকে।২১ ক্যারটের স্বর্ণে মোট ৮৭.৫%  স্বর্ণ ও ১২.৫% কপার  থাকে।স্টিলে ৯৯%লোহা ও ১% কার্বন থাকে।​পেটা লোহায় ০.২৫-১.৫% কার্বন মিশ্রিত থাকে।ডুরালামিনে ৯৫% অ্যালুমিনিয়ামের সাথে ৪% কপার ও ১% ম্যাগনেসিয়াম,ম্যাঙ্গানিজ ও লোহা মিশালে  ব্যবহৃত  হয়।স্টেইনলেস স্টিলে ৭৪% লোহার সাথে ১৮% ক্রোমিয়াম ও ৮% নিকেল ধাতু মিশানো হয়।কাসায় ৯০% তামার সাথে ১০% জিংক ব্যবহার করা হয়।স্টিলে ৯৯% লোহা ও ১% কার্বন ব্যবহৃত হয়।     

আকরিক

ধাতু                                  আকরিক


মার্কারী                             সিন্নাবার HgS


জিংক                                জিংক ব্লেন্ড ZnS

                                        ক্যালামাইন  ZnCO_3


লেড                                   গ্যালেনা PbS


আয়রন                               ম্যাগনেটাইট Fe_3O_4

                                         হেমাটাইট Fe_2O_3

                                         লিমোনাইট Fe_2O_3.3H_2O


কপার                                  কপার পাইরাইট CuFeS_2

                                           চেলকোসাইট  Cu_2S


আ্যলুমিনিয়াম                           বক্সাইট Al_2O_3.2H_2O


সোডিয়াম                                 সাগরের পানি NaCl


ক্যালসিয়াম                               চুনাপাথর CaCO_3


মেঙ্গানিজ                                   পাইরোলুসাইট MnO₂  

সংকর ধাতুর সংযুক্তি

 বিভিন্ন প্রকার সংকর ধাতু,তাদের সংযুক্তি ও ব্যবহারঃ

ধাতু উপাদান ও সংযুক্তি ব্যবহার 
22 ক্যারট স্বর্ণ 91.67% স্বর্ণ, 8.33% কপারসহ অন্নান্য ধাতু।   অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।
21 ক্যারট স্বর্ণ

87.5% স্বর্ণ, 12.5% কপারসহ অন্নান্য ধাতু।

 অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।
 24 ক্যারট স্বর্ণ 100% স্বর্ণ  অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।
ডুরালামিন   আ্যলুমিনিয়াম 95%,কপার 4%,লোহা 1%   উড়োজাহাজের বডি, বাইসাইকেলের পার্টস ইত্যাদি। 
কাসা(ব্রোঞ্জ)     কপার 90%, টিন 10%  ধাতু গলানো, যন্ত্রাংশ, থালা, গরাস ইত্যাদি। 
পিতল(ব্রাস)   কপার 65%,জিংক 35%,  অলঙ্কার,বিয়ারিং,বৈদ্যুতিক সুইচ,দরজার হাতল।
স্টেইনলেস স্টিল    লোহা  74%,  ক্রোমিয়াম 18%,  নিকেল 8%,  ছুরি,কাটাচামচ,পাকঘরের সিঙ্ক,রসায়ন  শিল্পের বিক্রিয়া পাত্র,অস্ত্রোপাচারের যন্ত্রপাতি। 
স্টিল    লোহা 99%, কার্বন 1%   রেলের লাইন,ইঞ্জিন,জাহাজ,যানবাহন,ছুরি,কাঁচি,ঘড়ির স্প্রিং, ক্রেইন,যুদ্ধাস্ত্র,চুম্বক,কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ।

 

কার্বন বিজারণ

অনেক ধাতুর আকরিক ধাতব অক্সাইড এবং এই ধাতব অক্সাইডকে কার্বনসহ তাপ দিলে ধাতু মুক্ত হয় । এই প্রক্রিয়াকে কার্বন বিজারণ বলে । কার্বন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে । যেমন,

2PbO + C \rightarrow 2Pb + CO_2

এ প্রক্রিয়াকে স্মেল্টিং বা আকরিক গলিয়ে ধাতু নিষ্কাশন বলা হয় ।

জারণ বিজারণ

জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সময় সাধারণত একটি বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে এবং অপর বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে। যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে। ধাতব জিংক (দস্তা) কপার সালফেটের সাথে বিক্রিয়া করে জিংক সালফেট ও কপার ধাতু উৎপন্ন হয়। এটি একটি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার দুটি অংশ- জারণ ও বিজারণ।

Zn + CuSO_4 \rightarrow ZnSO_4+ Cu

বিক্রিয়ার আয়নিক রূপ :

Zn + Cu^2^+ \rightarrow Zn^2^+ + Cu

 

জারক-বিজারক

জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সময় বিক্রিয়ক থেকে ইলেকট্রন বর্জন বা অপসারণ প্রক্রিয়াকে জারণ বলে।আর যে পদার্থ ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক বলা হয়।উপরের বিক্রিয়ায় বিক্রিয়কে Zn -এর জারণ সংখ্যা শূন্য (০) এবং উৎপাদ ZnSO_4 এ Zn -এর জারণ সংখ্যা +২। অর্থাৎ বিক্রিয়ায় Zn দুটি ইলেকট্রন অপসারণ করে জারিত হয় এবং ZnSO_4 -এ পরিণত হয়।সুতরাং Zn একটি বিজারক পদার্থ।বিক্রিয়ার জারণ অংশকে নিম্নের সমীকরণের সাহায্যে উপস্থাপন করা হয়।

Zn - 2e^- 
ightarrow Zn^2^+

জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সময় বিক্রিয়ক কর্তৃক ইলেকট্রন গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বিজারণ বলে।আর যে পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলা হয়। উপরের বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক CuSO_4 এ Cu -এর জারণ সংখ্যা +২ এবং উৎপাদে Cu -এর জারণ সংখ্যা শূন্য
(০)। অর্থাৎ বিক্রিয়ায় CuSO_4 দুটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিজারিত হয় এবং Cu -এ পরিণত হয়।তাই CuSO_4 একটি জারক পদার্থ। বিক্রিয়ার বিজারণ অংশকে নিম্নের সমীকরণের সাহায্যে উপস্থাপন করা হয়।

Cu^2^+ + 2e^- 
ightarrow Cu

অনুরূপভাবে নাইট্রিক এসিড বিক্রিয়াকালে ইলেক্ট্রন গ্রহন  করে বিজারিত হয়।তাই এটি একটি জারক পদার্থ। 

জারণ সংখ্যা

যৌগ গঠনের সময় কোনো মৌল যত সংখ্যক ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্মক আয়ন উৎপন্ন করে অথবা যত সংখ্যক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন উৎপন্ন করে তাকে মৌলের জারণ সংখ্যা বলে। নিরপেক্ষ বা মুক্ত মৌলের জারণ সংখ্যা শূন্য (০) ধরা হয়। ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হলে মৌলের জারণ সংখ্যাকে ঋণাত্মক জারণ সংখ্যা এবং ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হলে মৌলের
জারণ সংখ্যাকে ধনাত্মক জারণ সংখ্যা বলে। ধাতুসমূহের জারণ সংখ্যা সাধারণত ধনাত্মক, অধাতুসমূহের জারণ সংখ্যা ঋণাত্মক এবং যৌগমূলকের জারণ সংখ্যা তাদের আধান অনুসারে হয়।বিভিন্ন মৌলের জারণ অবস্থা বিভিন্ন।যেমন-MnO4⁻ ও MnO এ  Mn এর জারণ সংখ্যা  যথাক্রমে +৬ ও +২।এছাড়া Sn এর দুটি জারণ অবস্থা(Sn²+ Sn⁴+) দেখা যায়।সালফারের তিনটি জারণ অবস্থা(S²+,S⁴+ S⁶+ )  নাইট্রোজেনের দুটি জারণ অবস্থা (N³+,N⁵+) দেখা যায়।ক্যালসিয়ামের একটি জারণ অবস্থা( Ca²+ ) রয়েছে। 

তড়িৎ বিশ্লেষণ

বিগলিত বা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করাকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলা হয়।তড়িৎ বিশ্লেষণকালে  যেসব তড়িৎদ্বার তড়িৎ উৎসের ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে তাদের বলা হয় অ্যানোড।অ্যানোডে অ্যানায়ন  যুক্ত হয়। যেসব তড়িৎ দ্বার তড়িৎ উৎসের ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে তাদের বলা হয় ক্যাথোড।ক্যাথোডে ক্যাটায়ন যুক্ত হয়।আর যে  কোষে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তা গ্যালভানিক কোষ নামে পরিচিত। 

তড়িৎ বিশ্লেষণ

তড়িৎ অবিশ্লেষ্য বস্তুতে কোন ধাতব পরমানু থাকে না।ফলে কোন মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না।তাই  এরা কখনো বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।তাই তড়িৎ বিশ্লেষণে এদের ব্যবহার করা হয় না।আর যেবব পদার্থ বিগলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে তাদের তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলা হয়।যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড একটি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ।বিগলিত বা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করাকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলা হয়।তড়িৎ বিশ্লেষণকালে  যেসব তড়িৎদ্বার তড়িৎ উৎসের ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে তাদের বলা হয় অ্যানোড।অ্যানোডে অ্যানায়ন  যুক্ত হয়। যেসব তড়িৎ দ্বার তড়িৎ উৎসের ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে তাদের বলা হয় ক্যাথোড।ক্যাথোডে ক্যাটায়ন যুক্ত হয়।অর্থাৎ ক্যাথোডে বিজারণ ও অ্যানোডে জারণ ঘটে। পানির তড়িৎ বিশ্লেষণে ক্যাথোডে  হাইড্রোজেন বিজারিত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস ও অ্যানোড অক্সিজেন পরমানু জারিত হয়ে অক্সিজেন  গ্যাস উৎপন্ন হয়।উল্লেখ্য,বিশুদ্ধ পানি বিদ্যুৎ কুপরিবাহী অর্থাৎ খুব অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ পরিবহন করে।

 আর যে  কোষে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তা গ্যালভানিক কোষ নামে পরিচিত।তড়িৎ বিশ্লেষণ সম্পর্কে ১৯৩৩ সালে ফ্যারাডের দুটি সূত্র আছে।সূত্র ১- বিগলিত বা দ্রবীভূত পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করলে তড়িৎ দ্বারে সঞ্চিত বা দ্রবীভূত পদার্থের পরিমাণ প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণের সমানুপাতিক অর্থাৎ প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণ বাড়ালে তড়িৎ দ্বারে সঞ্চিত বা দ্রবীভূত পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়,আর প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণ কমালে তড়িৎ দ্বারে সঞ্চিত বা দ্রবীভূত পদার্থের পরিমাণ হ্রাস পাবে।সূত্র ২-যদি বিভিন্ন পদার্থে একই পরিমাণ পদার্থ বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় তবে তড়িৎ দ্বারে সঞ্চিত বা দ্রবীভূত পদার্থের পরিমাণ তাদের তড়িৎ রাসায়নিক তুল্যাংকের সমানুপাতিক।

এসিড

যেসব পদার্থ জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন দেয় তাদের এসিড বলা হয়।এগুলো নীল লিটমাসকে লাল করে।এসিড চিহ্নিতকরণে বিভিন্ন নির্দেশক ব্যবহার করা হয়।এদের মধ্যে ব্রোমোফেলনল একটি, যা অম্লীয় মাধ্যমে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্নভাবে এসিডের সান্নিধ্যে আসি। যেমন, সফট ড্রিংকসগুলো (কার্বনিক এসিড), লেবু বা কমলা (সাইট্রিক এসিড), তেঁতুলে (টারটারিক এসিড), ভিনেগার(ইথানয়িক এসিড),ব্যাটারি (সালফিউরিক এসিড) গয়না তৈরি( নাইট্রিক এসিড ব্যবহার),আমলকি( অক্সালিক এসিড ),দুধে (ল্যাকট্রিক এসিড),আঙুর ( টারটারিক এসিড) ,টমেটো(ম্যালিক এসিড)   । এছাড়া খাদ্য পরিপাকে,ভিটামিন সি এর চাহিদা মেটাতে এবং রোগ প্রতিরোধে এটি সহায়তা আমাদের  করে ।

ক্ষার

যে সকল পদার্থ  এসিডকে প্রশমিত করে এর বৈশিষ্ট্যসূচক ধর্ম বিলুপ্ত করে তাদের ক্ষার বলা হয়।ক্ষার কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য  প্রদর্শন করে।যেমন- এটি পানিতে হাইড্রোক্সাইড  আয়ন উৎপন্ন করে। তাই ক্ষারের জলীয় দ্রবণ বিদ্যুৎ পরিবহন করে।আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে বেকিং সোডা ব্যবহার করি তাও এক প্রকার ক্ষার।কেক ফোলাতে এবং পাকস্থলির এসিডিটি কমাতে এটি ব্যবহার করা হয়।

কোন দ্রবণ ক্ষারীয় না অম্লীয় তা দ্রবণের pH  থেকে বুঝা যায়।কেননা ক্ষারীয় মাধ্যমের pH ৭ এর বেশি হয়।অম্লীয় মাধ্যমের  pH ৭ এর কম হয়।আবার নিরপেক্ষ মাধ্যমের pH ৭ হয়। এছাড়া  ক্ষার লাল লিটমাসকে নীল করে। 

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন রকম লবণের ব্যবহার করি।যেমন আমরা খাদ্যে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ ব্যবহার করি।এটি পানিতে দ্রবীভূত হয়।আবার কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না যেমন-ক্যালসিয়াম কার্বনেট।অ্যামোনিয়াম সালফেটও এক প্রকার লবণ বংলায় যা ফিটকিরি নামে পরিচিত।আবার পাকা কলায় যে অ্যামাইল অ্যাসিটেট থাকে তাও এক প্রকার লবণ।  

প্রশমন বিক্রিয়া

প্রশমন বিক্রিয়া : এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়া বলা হয়। এসিডের জলীয় দ্রবণের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে। যেমন, এই দ্রবণে ভেজা লাল লিটমাস কাগজ প্রবেশ করালে নীলবর্ণে পরিণত হয়। দ্রবণের pH 7 -এর কম থাকে। অনুরূপভাবে ক্ষারের জলীয় দ্রবণের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে। যেমন, এই দ্রবণে ভেজা নীল লিটমাস কাগজ প্রবেশ করালে লালবর্ণে পরিণত হয়। দ্রবণের  pH 7-এর বেশি থাকে। এসিড ও ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে একত্রে মিশ্রিত করলে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।

এসিড + ক্ষার   
ightarrow  লবণ + পানি

জলীয় দ্রবণে এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার সময় দ্রবণের pH 7 -এর নিকটবর্তী হয়। প্রশমন বিক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে pH -এর মান 7  হয়।

সংযোজন বিক্রিয়াঃযে বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক মৌল বা যৌগ যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ তৈরি করে তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলা হয়।আর সংযোজন বিক্রিয়ায়  দুই বা ততোধিক মৌল  যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ তৈরি করলে  তাকে সংশ্লেষন বিক্রিয়া বলা হয়।যেমন-হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় পানি উৎপন্ন হয়।যা একটি সংশ্লেষন বিক্রিয়ার উদাহরণ। 

 

 

তড়িৎ কোষ

ড্রাই সেল একধরনের গ্যালভানিক কোষ । প্রচলিতভাবে ড্রাই সেলকে আমরা ব্যাটারী বলে থাকি । ড্রাই সেলের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর করা হয় ।সেলের ব্যবচ্ছেদ করলে আমরা দেখতে পাই,এর এর কেন্দ্রে কার্বন দন্ড,তার উপর ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইডের আবরণ,এর পর পানি দিয়ে তৈরি স্টার্চ,অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ও জিংক ক্লোরাইডের ঘন কাইএবং সর্ববাইরে ধাতব জিংকের কাই দেখতে পাই। সর্বাধিক পরিচিত ড্রাই সেল হলো - লেকলেন্স সেল । আমরা ড্রাইসেল সাধারনত টর্চ জ্বালাতে , রেডিও বাজাতে, টিভির রিমোট চালাতে, বাচ্চাদের খেলনা চালাতে প্রভৃতি কাজে ব্যবহার করি । গ্যালভানিক কোষের ন্যায় ড্রাই সেলও আ্যনোড ও ক্যাথোড দ্বারা গঠিত । তফাৎ হলো ড্রাই সেল গঠনে কোন তরল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রব থাকে না । 

পানির তড়িৎ বিশ্লেষণ

পানির অণু ২টি হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেন মৌলের পরমাণু দ্বারা গঠিত । 

H_2 + \frac{1}{2}O_2 \rightarrow H_2O + heat

পানির অণুকে ভাঙলে বিপরীত বিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন গ্যাস ও অক্সিজেন গ্যাস পাওয়া যায় ।

2H_2O \rightarrow 2H_2 + O_2

তড়িৎ রাসায়নিক কোষের মাথ্যমে পানিকে ভাঙা যায় । সাধারণত ধাতব প্লাটিনামের পাত আ্যনোড ও ক্যাথোড হিসাবে ব্যবহৃত হয় ।

তড়িৎ বিশ্লেষনে উৎপাদিত পদার্থের বাণিজ্যিক ব্যবহার

তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন আকরিক থেকে বিভিন্ন ধাতু যেমন - সোডিয়াম, আ্যলুমিনিয়াম, তামা, দস্তা, লোহা, সীসা ইত্যাদি নিষ্কাশন করা হয় । আধুনিক বিশ্বে এসব ধাতুর ব্যবহার অপরিসীম । লোহার বাণিজ্যিক ব্যবহার সবখানেই বিস্তৃত । তামা দিয়ে তৈরী বৈদ্যুতিক তার বহুল ব্যবহৃত হয় । স্বল্প বিদ্যুৎরোধী হওয়ার জন্য তামার তার বাণিজ্যিক ভাবে বেশ সমাদৃত । আ্যলুমিনিয়াম ধাতু ওজনে হালকা হওয়ায় বিমান তৈরীতে ব্যবহৃত হয় । তাছাড়া রান্না বান্নার জন্য ব্যবহৃত হাড়ি-পাতিল আ্যলুমিনিয়াম দিয়ে তৈরী ।

বাণিজিকভাবে ইলেক্ট্রোপ্লেটিং এর মাধ্যমে লোহার উপর অন্য ধাতুর বিশেষ করে দস্তা ও ম্যাগনেসিয়াম এর মরিচারোধী প্রলেপ দেওয়া হয় । এতে লোহার স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায় । ইলেক্ট্রোপ্লেটিং এর মা্ধ্যমে কোনো ধাতুর উপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দিলে তা অত্যন্ত মসৃণ হয় । সহজলভ্য কোনো ধাতুর উপর অন্য মূল্যবান ধাতুর প্রলেপ দিয়ে আকর্ষণীয় অলংকার তৈরী করা হয় । যেমন- রূপার তৈরি অলংকারের উপর সোনার প্রলেপ দিয়ে অলংকারের উজ্জল্য বৃদ্ধি করা হয় ।লোহার উপর দস্তা/জিঙ্কের  প্রলেপ দেয়াকে  গেলভানাইজিং বলা হয়।এই প্রকৃয়ায় লোহাকে মরিচার হাত থেকে রক্ষা করা হয়।

পানির তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে উৎপন্ন হাইড্রোজেন গ্যাস মূল্যবান ও পরিবেশবান্ধব গ্বালানি । হাইড্রোজেনকে পোড়ালে পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয় পানি ও তাপ উৎপন্ন হয় । সমুদ্রের তড়িৎ বিশ্লেষণে প্রাপ্ত ক্লোরিন গ্যাস জীবাণুনাশক হীসাবে ব্যবহার করা হয় এবং বিভিন্ন কারখানার কাঁচামাল হিসাবে সোডিয়অম হাইড্রক্সাইড ক্ষার প্রচুর ব্যবহৃত হয় । 

ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়নে বিজ্ঞানীদের অবদান১

ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়নে বিজ্ঞানীদের অবদান

থেলিস(খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৮-৫৬৯ ) সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত ভবিষৎবাণীর জন্য বিখ্যাত। তিনি লোডস্টোনের চৌম্বকধর্ম সম্পর্কে জানতেন।

 পিথাগোরাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৫২৭-৪৯৭ ) বিভিন্ন জ্যামিতিক উপপাদ্য ছাড়াও কম্পমান তারের উপর তাঁর কাজ রয়েছে। বর্তমান বাদ্যযন্ত্র এবং সংগীত বিষয়ক অগ্রগতির পিছনে তাঁর অবদান আছে।

গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০-৩৭০) পরমাণু সম্পর্কে প্রথমে ধারণা দেন।

গ্রিক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস(খ্রিষ্টপূর্ব ২৮৭-২১২ ) লিভারের নীতি ও তরলে নিমজ্জিত বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্বমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করে ধাতুর ভেজাল নির্ণয়ে সক্ষম হন। তিনি গোলীয় দর্পণের সাহায্যে সূর্যের রশ্মি কেন্দ্রীভূত করে আগুন ধরানোর কৌশল জানতেন।

আলোক তত্ত্বের উপর ইবনে আল হাইথাম(৯৬৫-১০৩৯) এবং আল হাজেন(৯৬৫-১০৩৮) এর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। টলেমী(১২৭-১৫১) ও অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে কোন বস্তু দেখার জন্য চোখ নিজে আলোক রশ্মি পাঠায়। আল হাজেন এই মতের বিরোধিতা করেন এবং বলেন যে বস্তু থেকে চোখে আলো আসে বলেই আমরা বস্তু দেখতে পাই। আতশি কাজ নিয়ে পরীক্ষা তাকে উত্তল লেন্সের আধুনিকতত্ত্বের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

আল মাসুদী(৮৯৬-৯৫৬) প্রকৃতির ইতিহাস সম্পর্কে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লেখেন। এই বইয়ে বায়ুকলের উল্লেখ পাওয়া যায়।

রজার বেকন(১২১৪-১২৯৪) পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবক্তা। তাঁর মতে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমেই বিজ্ঞানের সব সত্য যাচাই করা উচিত।

লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি(১৪৫২-১৫১৯) পাখি ওড়া পর্যবেক্ষণ করে উড়োজাহাজের একটি মডেল তৈরি করেছিলেন। তিনি মূলত চিত্রশিল্পি হলেও বলবিদ্যা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য জ্ঞান ছিল। ফলে তিনি বহু যন্ত্র দক্ষতার সাথে উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন।

ডা গিলবার্ট(১৫৪০-১৬০৩) চুম্বকত্ব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা এবং তত্ত্ব প্রদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

জার্মানির স্নেল(১৫৯১-১৬২৬) আলোর প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন।    

হাইগেন(১৬২৬-১৬৯৫) দোলকীয় গতি পর্যালোচনা করে ঘড়ির যান্ত্রিক কৌশলের বিকাশ ঘটান এবং আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।

রবার্ট হুক(১৬৩৫-১৭০৩) পদার্থের স্থিতিস্থাপক ধর্মের অনুসন্ধান করেন।

বিভিন্ন গ্যাসের ধর্ম বের করার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান রবার্ট বয়েল(১৬২৭-১৬৯১)।

ভন গুয়েরিক(১৬০২-১৬৮৬) বায়ু পাম্প আবিষ্কার করেন।

রোমার(১৬৪৪-১৭১০) বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে আলোর বেগ পরিমাপ করেন।

কেপলার(১৫৭১-১৬৩০) কোপার্নিকাস যে সৌরকেন্দ্রিক তত্ত্বের ধারণা উপস্থিত করেন তাঁর গাণিতিক বর্ণনা দেন তিনটি সুত্রের সাহায্যে। কেপলার গ্রহদের প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষের পরিবর্তে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা দেন। গ্রহদের গতিপথ সম্পর্কে তাঁর গাণিতিক সূত্রগুলোর সত্যতা তিনি যাচাই করলেন টাইকোব্রাহের(১৫৪৬-১৬০১) পর্যবেক্ষণ লব্ধ তথ্যের দ্বারা।

 

তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য

শব্দ তরঙ্গ
 

শব্দ এক প্রকার শক্তি। এই শক্তি সঞ্চালিত হয় শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে। শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ যা মাধ্যমের কণাগুলোর সংকোচন প্রসারনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

শব্দের উৎস এবং শ্রোতার মাঝে একটি জড় মাধ্যম থাকতে হবে এবং উৎসের কম্পাঙ্ক 20Hz থেকে 20,000Hz এর ভিতর থাকতে হবে।  

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যঃ কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। তাই  শব্দকে  একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ বলা হয়। এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক একই বলে এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভরশীল

ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়নে বিজ্ঞানীদের অবদান ২

আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা ঘটে ইতালির বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর(১৫৬৪-১৬৪২) হাতে। তিনি প্রথম দেখান যে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং সুশৃঙ্খল ভৌত রাশির সংজ্ঞা প্রদান এবং এদের সম্পর্ক নির্ধারণ বৈজ্ঞানিক কর্মের মূল ভিত্তি। গাণিতিক তত্ত্ব নির্মাণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে সে তত্ত্বের সত্যতা যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা করেন গ্যালিলিও। তিনি সরণ, গতি, ত্বরণ, সময় ইত্যাদির সংজ্ঞা প্রদান ও তাদের মধ্যের সম্পর্ক নির্ধারণ করেন। ফলে তিনি বস্তুর পতনের নিয়ম আবিষ্কার ও সৃতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন।

নিউটন(১৬৪২-১৭২৭) তাঁর বিস্ময়কর প্রতিভার সাহায্যে আবিষ্কার করেন বলবিদ্যা ও বলবিদ্যার বিখ্যাত তিনটি সূত্র এবং বিশ্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র। আলোক, তাপ ও শব্দবিজ্ঞানেও তাঁর অবদান আছে। গণিতের নতুন শাখা ক্যালকুলাসও তাঁর আবিষ্কার।

জেমস ওয়াটের(১৭৩৬-১৮১৯) আবিস্কৃত বাষ্পীয় ইঞ্জিন শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড(১৭৭৭-১৮৫১) দেখান যে তড়িৎপ্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আছে।

মাইকেল ফ্যারাডে(১৭৯১-১৮৬৭), হেনরী (১৭৯৭-১৮৭৯) ও লেঞ্জ (১৮০৪-১৮৬৫) চৌম্বক ক্রিয়া তড়িৎপ্রবাহ উৎপাদন করে এই ঘটনা আবিষ্কার করেন। এর ফলে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।

১৮৬৪ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল(১৮৩১-১৮৭৯) দেখান যে আলোক এক প্রকার তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। তিনি তড়িৎক্ষেত্র এবং চৌম্বকক্ষেত্রকে একীভূত করে তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের বিকাশ ঘটান।

১৮৮৮ সালে হেনরিখ হার্জও(১৮৫৭-১৮৯৮) একই রকম বিকিরণ উৎপাদন ও উদঘাটন করেন।

১৮৯৬ সালে মার্কনী(১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে মোর্সকোডে সংকেত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর আগে বাঙালী বিজ্ঞান জগদীশ চন্দ্র বসু(১৮৫৮-১৯৩৭)  তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ করেন। এভাবে বেতার যোগাযোগ জন্ম লাভ করে।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে রনজেন(১৮৪৫-১৯২৩) এক্স রে এবং বেকেরেল(১৮৫২-১৯০৮) ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।

ম্যাক্স প্লাংক(১৮৫৮-১৯৪৭) আবিস্কার করেন বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব।  

আলবার্ট আইনস্টাইন(১৮৭৯-১৯৫৫) প্রদান করেন আপেক্ষিক তত্ত্ব।

আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের(১৮৭১-১৯৩৭) পরমাণু বিষয়ক নিউক্লিয় তত্ত্ব ও নীলস বোরের(১৮৮৫-১৯৬২) হাইড্রোজেন পরমাণুর ইলেকট্রন স্তরের ধারণা পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।

১৯৩৮ সালে অটো হান(১৮৭৯-১৯৬৮) ও স্ট্রেসম্যান(১৯০২-১৯৮০) বের করেন নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য। এর ফলে জন্ম নেয় নিউক্লিয় বোমা এবং নিউক্লিয় চুল্লী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১৮৯৪-১৯৭৪) তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ম্যাক্স প্লাংকের কোয়ান্টাম তত্ত্বের একটি শুদ্ধতর প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তাঁর তত্ত্ব বোস – আইনস্টাইন সংখ্যায়ন নামে পরিচিত। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি সরূপ এক শ্রেণীর মৌলিক কণাকে তাঁর নামানুসারে বোসন বলা হয়।

তিনজন নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী পাকিস্তানের আবদুস সালাম (১৯২৬-১৯৯৬), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেলডন গ্ল্যাশো(১৯৩২- ) এবং স্টিভেন ওয়াইনবার্গ(১৯৩৩- ) একীভূত ক্ষেত্রতত্ত্বের বেলায় মৌলিক বলগুলোকে একীকরণের ক্ষেত্রে তাড়িত দুর্বল বল আবিষ্কার করে অসামান্য অবদান রাখেন।

নোবেল বিজয়ী ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর রমন(১৮৮৮-১৯৭০) রমন প্রভাব আবিষ্কার করেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে পদার্থবিজ্ঞান যথেষ্ট অবদান রাখেন। এর ফলে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পাশাপাশি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বিভিন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিজ্ঞানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ  অগ্রগতি মহাশুন্য অভিযান।

কৃত্রিম উপগ্রহ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দানে এবং যোগাযোগকে সহজ করে দিয়েছে।

তরঙ্গ সংশ্লিষ্ট রাশি

তরঙ্গ সংশ্লিষ্ট রাশি

পূর্ণ স্পন্দন : তরঙ্গের উপরস্থ কোনো কণা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করে আবার একই দিক থেকে সেই বিন্দুতে ফিরে এলে তাকে একটি পূর্ণ স্পন্দন বলা হয়।

পর্যায়কাল : যে সময় পর পর তরঙ্গের পুনরাবৃত্তি ঘটে। অর্থাৎ যে সময়ে তরঙ্গের উপরস্থ কোন কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হয় তাকে পর্যায়কাল বলে। পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর একক সেকেন্ড (s)।

কম্পাঙ্ক : প্রতি সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় তাকে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz)। স্পন্দনশীল কোনো কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে ১ Hz বলে। একে f দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কম্পাঙ্ক ও পর্যায়কালের সম্পর্ক হলো:

f = 1/T

বিস্তারঃ সাম্যাবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে তরঙ্গস্থিত কোন কণার সর্বাধিক সরণকে বিস্তার বলে। চিত্রে a হলো বিস্তার।

দশা : কোনো একটি তরঙ্গায়িত কণার যে কোনো মুহুর্তের গতির সামগ্রিক অবস্থা প্রকাশক রাশিকে তার দশা বলে। গতির সামগ্রিক অবস্থা বলতে কণার গতির দিক, ত্বরণ, সরণ, বেগ ইত্যাদি বুঝায়। অনুপ্রস্থ তরঙ্গের ঊর্ধ্বচূড়াসমূহ বা নিম্নচূড়াসমূহ সর্বদা একই দশায় থাকে। 

তরঙ্গ দৈর্ঘ্যঃ তরঙ্গের উপর  একই দশায় আছে এমন পর পর দু’টি কণার মধ্যবর্তী দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। কম্পমান একটি বস্তুর একটি পূর্ণ কম্পনে যে সময় লাগে সেই সময়ে তরঙ্গ যতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলে। একে λ দিয়ে প্রকাশ করা হয় এবং এর একক মিটার

তরঙ্গ বেগঃ নির্দিষ্ট দিকে তরঙ্গ এক সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ বেগ বলে।

 

 

মোমবাতি

অক্সিজেন বা অম্লজান একটি রাসায়নিক মৌল, এর প্রতীক O ও পারমানবিক সংখ্যা ৮।  অষ্টাদশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ের অম্লজান নামটি নির্দিষ্ট করেন, কারণ তখন মনে করা হতো সকল অম্লের মধ্যে অম্লজান বিদ্যমান থাকে যা ভুল ছিল। অক্সিজেনের যোজ্যতা সাধারণ ২। এই মৌলটি অন্যান্য মৌলের সাথে সাধারণত সমযোজী বা আয়নিক বন্ধন দ্বারা যৌগ গঠন করে থাকে। অম্লজান গঠিত সাধারণ কিছু মৌলের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে: পানি (H2O), বালি (SiO2, সিলিকা) এবং আয়রন অক্সাইড (Fe2O3)। দ্বিপরমাণুক অম্লজান বায়ুর প্রধান দুইটি উপাদানের একটি।

অক্সিজেন প্রত্যাহারের মাধ্যমে আগুন নিভানো সম্ভব যা শ্বাসরোধকারী আগুন নামে পরিচিত। আগুন খালি জায়গায় জ্বলতে পারে না অথবা এটি কার্বন ডাইঅক্সাইড দ্বারা আবৃত থাকাবস্থায় জ্বলে না।

সোডা ওয়াটার

বাইকার্বনেট সোডা হল আসরে সোডিয়াম-বাই-কার্বনেট যার রাসায়নিক ভাবে সোডিয়াম, হাইড্রোজেন ও কার্বনেট নামক একটি র‍্যাডিক্যাল দিয়ে তৈরি হয়; যেটি আবার তৈরি হয় কাবর্ন-ডাই-অক্সাইডের সাথে পানির বিক্রিয়ায়। এটি খাওয়ার সোডা নামে পরিচিত। বিভিন্ন ডায়েট ড্রিংকস (সোডা ওয়াটার), বেসন ইত্যাদিতে খাওয়ার সোডা হিসেবে বাই-কার্বনেট সোডা ব্যবহৃত হয়।

নাইট্রোজেন

নাইট্রোজেন একটি মৌল বা মৌলিক পদার্থ যার বাংলা নাম যবক্ষারজান।, এই মৌলিক পদার্থের প্রতীক N ও পারমাণবিক সংখ্যা ৭। বিশুদ্ধ নাইট্রোজেন স্বাভাবিক অবস্থায় বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদবিহীন। নাইট্রোজেন একটি নিষ্ক্রিয় ধরনের দ্বিপরমাণুক গ্যাস। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আয়তনের হিসাবে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ৭৮.০৯ শতাংশ।

১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে স্কটিশ পদার্থবিদ ড্যানিয়েল রাদারফোর্ড এটিকে বায়ু থেকে আলাদা করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তিনি এর নাম দেন নক্সাস এয়ার বা ফিক্সড এয়ার। রাদারফোর্ড বুঝতে পারেন যে এটি বাতাসের একটি উপাদান এবং এটি দহন বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না।

হীরক

হীরক বা হীরা সর্বাপেক্ষা মূল্যবান একটি রত্ন যা গহনা তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত হয়। বর্ণহীন এ রত্নটি একটি মাত্র বিশুদ্ধ উপাদান কার্বন থেকে সৃষ্ট। অন্য ভাষায় হীরক কার্বনের একটি বিশেষ রূপ মাত্র। পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ২৬০০০ কে.জি. খনিজ হীরা উত্তোলিত হয় যার মূল্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। কথিত আছে, হীরক সর্বপ্রথম ভারতবর্ষে মূল্যবান হিসেবে খনি থেকে উত্তোলন ও ব্যবহার করা শুরু হয়। হীরা ভারতবর্ষের মানুষের কাছে কমপক্ষে ৩ থেকে ৬ হাজার বছর ধরে পরিচিত বলে অনুমান করা হয়। মানুষের জানা সকল প্রাকৃতিক পদার্থ থেকে হীরা অনেক বেশি শক্ত এবং এটি দিয়ে উচ্চতম তাপমাত্রা পর্যন্ত কাজ সম্ভব। হীরাকে আদর্শ ধরে তৈরি করা Mohs Scale of mineral hardness ১-১০এ অনুযায়ী হীরার কাঠিন্য ১০। ভূ-অভ্যন্তরে প্রায় ১৪০ থেকে ১৯০ কি.মি. নিচে পৃথিবীর কেন্দ্র ও পৃথিবীর আবরণের মাঝে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের কারণে হীরা গঠিত হতে প্রায় ১ থেকে ৩.৩ বিলিয়ন বছর সময় লাগে বলে বৈজ্ঞানিকদের ধারণা। গবেষকদের মতে, সকল হীরাই পৃথিবীতে তৈরি হয়েছে এমন নয়; পৃথিবীতে এমন অনেক হীরা পাওয়া গেছে যেগুলো পৃথিবীর বাইরে তৈরী।

নাইট্রিক এসিড

নাইট্রিক এসিড যার রাসায়নিক সংকেত HNO3, যা একুয়া ফর্টিস এবং স্পিরিট অফ নাইটার নামে পরিচিত, একটি সক্রিয় খনিজ এসিড। যৌগটি বিশুদ্ধ অবস্থায় বর্ণহীন, পুরাতন এসিড হলুদাভ রঙ ধারণ করে কারণ এটা ভেঙে নাইট্রোজেনের অক্সাইড এবং পানি তৈরি করে। বাণিজ্যিক ভাবে উৎপন্ন নাইট্রিক এসিডের ঘনত্ব ৬৮%। যখন নাইট্রিক এসিডের ঘনত্ব ৮৬% এর বেশী হয় তখন একে "'ধূমায়িত নাইট্রিক এসিড"' বলে। নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের উপস্থিতির ভিত্তিতে ধূমায়িত নাইট্রিক এসিড সাদা এবং লাল দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ৯৫% এর বেশী ঘনত্বের নাইট্রিক এসিড নাইট্রেশান বিক্রিয়ার প্রধান রিএজেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নাইট্রিক এসিড সাধারণত দৃঢ় জারন উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ইউরিয়া

ওলন্দাজ বিজ্ঞানী হারমান বোওরহাভ সর্বপ্রথম ১৭২৭ সালে মূত্রে বা প্রসাবে ইউরিয়া আবিষ্কার করেন। ফরাসী বিজ্ঞানী হিলাইওে রোয়েলেও ১৭৭৩ সালে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে প্রসাব থেকে ইউরিয়ার স্ফটিক আবিষ্কারের কথা দাবি করেন। এর অনেক পরে ১৮২৮ সালে জার্মান রসায়নবিদ ফেডারিক হোলার কৃত্তিম উপায়ে সিলভার ছায়েনেটের সহিত এ্যামোনিয়াম কোরাইডের বিক্রিয়া ঘটায়ে ইউরিয়া উৎপাদন করেন। অজৈব দ্রব্যের সহিত বিক্রিয়া ঘটিয়ে এটাই প্রথম জৈব উপাদান যা তিনি আবিষ্কার করেছিলেন। এজন্য তাকে জৈব রসায়নের পিতা বলা হয়ে থাকে। বসচ্ছ-মেয়সইনার ইউরিয়া উৎপাদন পদ্ধতি অনুসরণ করে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়ার উৎপাদন শুরু হয় ১৯২২ সন থেকে। এ পদ্ধতিতে দু’টো প্রক্রিয়ার মাধ্যেমে ইউরিয়া উৎপন্ন করা হয়। প্রথম প্রক্রিয়ায় এ্যামোনিয়ার সহিত কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিক্রিয়ায় এ্যামোনিয়াম কার্বামেট তৈরি হয়। দ্বিতীয় প্রক্রিয়ায় পরিক্ষয়ের মাধ্যমে এ্যামোনিয়াম কার্বামেট থেকে ইউরিয়া উৎপন্ন হয়।

কাঁচ

কাঁচ হচ্ছে ভঙ্গুর, অকেলাসিত কঠিন পদার্থ যা দৃশ্যমান আলোকে স্বচ্ছ। এর বহুল ব্যবহার লক্ষ করা যায়। কাঁচের প্রধান উপাদান হচ্ছে বালি বা সিলিকা। কাঁচ তৈরি পদ্ধতিতে মূল তিনটি উপাদান প্রয়োজন হয় সেগুলি হল কোয়ার্টজ(সিলিকা), সোডা, এবং চুন। যখন এগুলির মিশ্রণকে ১২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে উত্তপ্ত করা হয়, তখন এগুলি গলতে শুরু করে এবং তৎক্ষণাৎ যদি ঠাণ্ডা করা যায় তাহলে কাঁচের জন্ম হয়।

ইঁট

ইট ইমারত তৈরির একটি অতি আবশ্যকীয় ও মৌলিক উপাদানবিশেষ। মাটিকে আয়তঘনক আকারের ছাঁচে ঢেলে ভিজিয়ে কাঁচা ইঁট তৈরি হয, তারপর এক রোদে শুকানো হয়। কাঁচা ইঁটকে আগুনে পোড়ালে পাকা ইঁট তৈরি হ্য়। বহু প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রোদে শুকানো বা আগুনে পোড়ানো ইট ব্যবহার হয়ে আসছে। যদিও ইট পাথরের মত দীর্ঘস্থায়ী এবং মজবুত নয়; তারপরও সহজলভ্যতা, অল্প খরচ এবং স্বল্প ওজনের জন্য এর জনপ্রিয়তা এবং ব্যবহার সর্বাধিক। ইঁট বানানোর সময় কিছু ইঁট বেশী পুড়ে যায় ও কেকের মত ফুলে উঠে এক ফোপা শক্ত কালচে খয়েরী আঁকা-বাঁকা আকৃতির ইঁট তৈরি করে, যাকে বলে ঝামা বা ঝামা ইট। ঝামা শক্ত ও এবরোখেবড়ো বলে ঘষামাজার কাজে ব্যবহৃত হয়।

সালফিউরিক এসিড

সালফিউরিক এসিড একটি শক্তিশালী খনিজ এসিড বা অম্ল। কাঠামোগতভাবে এটি একটি রাসায়নিক যৌগ যার নাম হাইড্রোজেন সালফেট। এটির সংকেত H2SO4। সালফিউরিক এসিড পানিতে দ্রবণীয়। সালফিউরিক এসিড পূর্বে অয়েল অফ ভিট্রিয়ল নামে অভিহিত ছিল।

== প্রস্তুত প্রণালী == H2 + SO4 -> H2SO4 এখনে হাইড্রজেন ও সালফাইট এর রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সালফিউরিক এসিড তৈরি হয়।এখানে হাইড্রজেন প্রতিস্থাপনিও বলে এটি এসিড।

আয়োডিন

আয়োডিন হচ্ছে একটি মৌলিক পদার্থ যার সংকেত I এবং পারমাণবিক সংখ্যা ৫৩।এটি একটি গ্রীক শব্দ ἰοειδής ioeidēs থেকে এসেছে যার অর্থ বেগুনি বা রক্তবেগুনী।মৌল আয়োডিন বাষ্পের রঙ বেগুনি বা রক্তবেগুনী।

আয়োডিন এবং তার যৌগসমূহ প্রাথমিকভাবে পুষ্টির জন্য এবং শিল্পে এসিটিক এসিড এবং নির্দিষ্ট পলিমার উত্পাদন করতে ব্যবহার করা হয়।আয়োডিন এর অপেক্ষাকৃত উচ্চ পারমাণবিক সংখ্যা, কম বিষাক্ততার এবং জৈব যৌগসমূহের সাথে সহজে সংযুক্তির কারণে এক্স-রে এর বিপরীত উপকরণ হিসাবে আধুনিক ঔষধ বিজ্ঞানে একটি অংশে পরিণত হয়েছে।আয়োডিন শুধুমাত্র একটি স্থিতিশীল আইসোটোপ আছে।আয়োডিনের কিছু সংখ্যক রেডিওআইসোটোপ চিকিৎসাবিদ্যায় ব্যবহৃত হয়।

পৃথিবীতে আয়োডিন প্রধানত পাওয়া যায় মহাসাগর এবং সমুদ্রের পানিতে দ্রবণীয় অবস্থায় আয়োডিন আয়ন I− রূপে।অন্যান হ্যালোজেনের ন্যায় মুক্ত আয়োডিন দ্বিপরমাণুক(I2)।মহাবিশ্ব তথা পৃথিবীতে আয়োডিন এর উচ্চ পারমাণবিক সংখ্যা জন্য এটি একটি অপেক্ষাকৃত বিরল মৌল।তবে সমুদ্রের পানিতে উপস্থিতির জন্য এটি জীববিদ্যায়ও একটি ভূমিকা পালন করে।প্রাথমিক ভূত্বক-উপাদান হিসাবে আয়োডিনের কম প্রাচুর্য এবং বৃষ্টির পানি মাটিতে আয়োডিনের অভাব তৈরি করে যা পৃথিবীর মানুষ তথা পশুপাখির জন্য নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি করে।পৃথিবীতে আয়োডিনের অভাবে প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রভাবিত এবং মানষিক প্রতিবন্ধী ও বিকলাঙ্গতা রোগ সৃষ্টি করে।

হ্যালোজেন

পর্যায় সারণীর সপ্তম শ্রেণীর (আধৃনিক পর্যায় সারণী অনুসারে ১৭তম শ্রেণী)cunt মৌলগুলোকে হ্যালোজেন বলা হয়। এই শ্রেণীর মৌলগুলো হল ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), এবং অ্যাস্টাটিন (At)। কৃত্রিম উপায়ে তৈরী ১১৭ পারমানবিক সংখ্যা বিশিষ্ট মৌল ইউনুনসেপ্টিয়ামের হ্যালোজেন শ্রেণীর মৌলসমূহের বৈশিষ্ট রয়েছে।

পর্যায় সারণীর অন্যান্য শ্রেণীগুলোর মত হ্যালোনগুলোও কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট রয়েছে। সাধারণত পরমানুর ইলেক্ট্রন বিন্যাস এর উপর ভিত্তি করে মৌলগুলোকে আলাদা আলাদা শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। এই শ্রেণীর সাধারণ বৈশিষ্টগুলো নিচে উল্লেখ করা হল:

Z মৌল ইলেকট্রনের শক্তিস্তর
9 ফ্লিরিন 2, 7
17 ক্লোরিন 2, 8, 7
35 ব্রোমিন 2, 8, 18, 7
53 আয়োডিন 2, 8, 18, 18, 7
85 অ্যাস্টাটিন 2, 8, 18, 32, 18, 7

ফ্লোরাইড

ফ্লোরাইড একটি রাসায়নিক যা ফ্লোরিনের একটি লবণ। ফ্লোরিনের একটি উৎকৃষ্ট আকর হচ্ছে ফ্লোরাইড।

নানা বর্ণের ফ্লোরাইড দেখা যায়। তবে হালকা সবুজ, হলুদ অথবা নীল রং এর ফ্লোরাইড সচরাচর পাওয়া যায়। পানিতে কিছুটা দ্রবণীয়। এর কঠিনতা ৪.০ এবং আপেক্ষিক গুরুত্ব ৩.০-৩.২।

ফ্লোরাইড সাধারণত ভাঁজবহুল, দানাদার এবং আঁশযুক্ত পিণ্ড আকারে পাওয়া যায়। কিউব আকৃতির স্ফটিক হিসেবেও এটা পাওয়া যেতে পারে। এবং ফ্লোরাইড সব শ্রেণীর শিলার ফাটলে কম-বেশি পাওয়া যায়। তবে, চুনাপাথর, ডোলোমাইট ও গ্রানাইট জাতীয় শিলার সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা একটু বেশি।

ড্রাই আইস

শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস। ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মতো দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে।

অ্যামোনিয়াম সালফেট

অ্যামোনিয়াম সালফেট হল একটি নাইট্রোজেন ঘটিত অজৈব রাসায়নিক সার । এর রাসায়নিক সংকেত (NH4)2SO4  । জলে ভাসমান বিচূর্ণ জিপসামের মধ্য দিয়ে NH3 এবং CO2 গ্যাস চালনা করলে কিংবা অ্যামোনিয়ার সঙ্গে H2SO4 -এর বিক্রিয়ায় অ্যামোনিয়াম সালফেট উত্পন্ন হয় ।

    CaSO4 + CO2 + 2NH3 + H2O = (NH4)2SO4 + CaCO3↓

• প্রকৃতি:-

[i] অ্যামোনিয়াম সালফেট সাদা রঙের, গন্ধহীন, অনুদ্বায়ী একটি অজৈব কেলাসিত লবণ ।

[ii] অ্যামোনিয়াম সালফেট জলে দ্রাব্য ও এর জলীয় দ্রবণ অম্লধর্মী ।

[iii] অ্যামোনিয়াম সালফেট তাপে ঊর্ধ্ব পাতিত হয় ।

[iv] অ্যামোনিয়াম সালফেটে তীব্র ক্ষার মেশালে অ্যামোনিয়া উত্পন্ন করে ।

[v] অ্যামোনিয়াম সালফেটের জলীয় দ্রবণ তড়িৎ পরিবাহী । জলীয় দ্রবণে সালফেট বিয়োজিত হয়ে অ্যামোনিয়াম আয়নে (NH+4) এবং সালফেট আয়ন (SO=4) উত্পন্ন করে ।

যথা : (NH4)2SO4 = 2NH+4 + SO=4   ।

গ্রাফাইট

গ্রাফাইট হচ্ছে অঙ্গার বা কার্বনের একটি রূপ। এর স্ফটিক ষট-কৌনিক আকৃতির। এটা সাধারণত স্তরীভূত, আঁশযুক্ত, দানাদার এবং নিবিড় পিণ্ড আকারে বা মাটির পিণ্ড আকারে পাওয়া যায়। গ্রাফাইটের কঠিনতা ১.০-২.০ এবং আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.৯-২.৩।

বর্ণ

এটি লোহার মতো কালো অথবা গাঢ় ধূসর বর্ণের একটি পদার্থ।

প্রাপ্তিস্থান

গ্রানাইট, নাইস, মাইকা সিস্ট এবং স্ফটিকীয় চুনাপাথরের ফাটলে গ্রাফাইট বিরাট পিণ্ড আকারে অথবা আঁশযুক্ত স্তর হিসেবে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ব্যবহার

উচ্চ তাপরোধক চুল্লির আস্তর, ঢালাই কাজ, রঙ, পেন্সিল, জ্বালানী তেল এবং ঝালাই দণ্ড তৈরি করতে গ্রাফাইট ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

সিলিকন

সিলিকন একটি মৌল, এর প্রতীক Si ও পারমানবিক সংখ্যা 14। ভর হিসেবে এটি বিশ্বের অষ্টম সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল তবে এটি প্রকৃতিতে খুব কমই বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এটি মূলত ধুলি, বালি গ্রহাণুপুঞ্জ এবং গ্রহসমুহে সিলিকনের অক্সাইড (সিলিকা) বা সিলিকেট আকারে থাকে। পৃথিবীর ভূত্বকের প্রায় ৯০% সিলিকেট যৌগে গঠিত এবং এটি পৃথিবীর ভূত্বকে অক্সিজেনের পর দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল (ভর হিসেবে প্রায় ২৮%)।

১৭৮৭ সালে বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ল্যাভয়েশিয়ে প্রথম সিলিকন সনাক্ত করেন। কিন্তু, ১৮২৪ সালে বিজ্ঞানী বার্জেলিয়াসকে মৌল হিসেবে সিলিকন আবিষ্কারের কৃতিত্ত্ব দেয়া হয়।

সিলিকন কক্ষ তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ এবং এর গলনাঙ্ক এবং হিমাংক যথাক্রমে ১৪১৪ এবং ৩২৬৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এর তরল অবস্থার ঘনত্ব এর কঠিন অবস্থার ঘনত্বের চেয়ে বেশি। কঠিনে পরিনত করা হলে এর আয়তন অন্যান্য পদার্থের ন্যায় হ্রাস পায় না বরং বৃদ্ধি পায়। এই ধর্মটি পানির বরফে পরিনত হওয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর তাপ পরিবাহকত্ব অপেক্ষাকৃত বেশি যার মান প্রায় ১৪৯ ওয়াট·মি−1·কেলভিন−1 বিশুদ্ধ কেলাসাকার সিলিকন ধুসর বর্ণের যার ধাতব দ্যুতি বিদ্যমান। সিলিকন শক্ত, ভঙ্গুর এবং সহজে চেপ্টা করা যায়। কার্বন এবং জার্মেনিয়ামের ন্যায় এটি হীরকের ন্যায় ঘনকাকার কেলাস গঠন করে যার ল্যাটিস দুরত্ব ০.৫৪৩০৭১০ ন্যনোমিটার ।

টিএসপি

টিএসপি সারের পরিচিতিঃ টিএসপি বা ট্রিপল সুপার ফসফেট সর্বাধিক ব্যবহৃত ফসফেট সার। রক ফসফেট নামক খনিজ পদার্থের সাথে ফসফরিক এসিডের বিক্রিয়ার মাধ্যমে টিএসপি সার প্রস্তুত হয়। টিএসপি সারে নূন্যতম শতকরা ৪৬ ভাগ মোট ফসফেট (P2O2), শতকরা ৪০ ভাগ পানিতে দ্রবনীয় ফসফেট (P2O2) থাকে। রক ফসফেটের গুণগত মানের উপর ফসফেটের পরিমাণ নির্ভর করে। এ সারের রং সাধারণত ধূসর থেকে গাঢ় ধূসর এবং অম্ল স্বাদযুক্ত ঝাঁঝালো গন্ধ আছে। এ সার দানাদার এবং দানার আকার ডিম্বাকৃতি হতে গোলকার এবং সংরক্ষিত অবস্থায় সাধারণত জমাট বাঁধে না।

  • টিএসপি সারের ব্যাগে দানাদার এসএসপি বা কখনো কখনো দানাদার এফএমপি সার ভর্তি করে টিএসপি সার হিসেবে বাজারজাত করা হয়। উল্লিখিত সারগুলো দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় সাধারণ কৃষক এটি প্রকৃতপক্ষে আসল টিএসপি কিনা তা সহজে সনাক্ত করতে পারেন না। এ সকল ভেজাল টিএসপি সারে ৪৬% মোট ফসফেটের পরিবর্তে ২০-২৫% মোট ফসফেট পাওয়া যায়।
  • কখনো কখনো জৈব পদার্থের সাথে, জিপসাম, ডলোমাইট ও কালো রং মিশিয়ে সেন্ট্রিফিউজ মেশিনের সাহাযো দানাদার আকারে ভেজাল টিএসপি সার তৈরী করে বাজারজাত করা হয়।
  • অনেক সময় টিএসপি সারের সাথে ২০-২৫% দানাদার এসএসপি বা এফএমপি সার মিশিয়ে টিএসটি সার তৈরী করে বাজারজাত করা হয়।
  • কোন কোন সময় বিদেশ হতে আমদানীকৃত টিএসপি সারের নমুনায় ৪৬% মোট ফসফেটের পরিবর্তে ৩৫-৪১% এবং ৪০% পানিতে দ্রবণীয় ফসফেটের পরিবর্তে ৩২-৩৫% পানিতে দ্রবণীয় ফসফেট পাওয়া যায়।

টিয়ার গ্যাস

টিয়ার গ্যাস বা কাঁদানে গ্যাস কয়েক ধরনের রাসায়নিক যৌগের একীভূত নামকরণ। প্রকৃতপক্ষে এটি কোন গ্যাস নয়। মিহি গুড়ো পাউডার কিংবা তরলের অতি ক্ষুদ্রকণার সমষ্টি নিয়ে এ গ্যাস গঠিত। গুড়োয় ক্ষারজাতীয় রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে। এর প্রভাবে চোখে প্রচণ্ড জ্বালা-যন্ত্রণার উপস্থিতি ঘটায়। সাময়িকভাবে টিয়ার গ্যাসের প্রভাবে সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চোখ অন্ধত্বের পর্যায়ে উপনীত হয়। অন্যতম রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে পরিচিত টিয়ার গ্যাসের প্রভাবে মনুষ্য চক্ষুর কর্নিয়ার স্নায়ুগুলো আক্রান্ত হয়। এরফলে অঝোর ধারায় কান্না, ব্যথা, এমনকি অন্ধ হয়ে যাবারও সমূহ সম্ভাবনা থাকে। ওসি, সিএস, সিআর, সিএন বা ফিনাসিল ক্লোরাইড, ননিভ্যামাইড, ব্রোমোয়াসিটন, জাইলিল ব্রোমিড, পেঁয়াজ থেকে সংগৃহীত সাইন-প্রোপ্যানেথিয়াল-এস-অক্সাইড যৌগের সম্বন্বয়ে টিয়ার গ্যাস তৈরী করা হয়।

ক্যাটিনেশন

ক্যাটিনেশন [Catenation]:- যে ধর্মের জন্য কার্বন পরমাণুগুলি পরস্পর সমযোজী বন্ধনের (এক-বন্ধন, দ্বি-বন্ধন, ত্রি-বন্ধন) সাহায্যে পরস্পর যুক্ত হয়ে সুস্থিত কার্বন শৃঙ্খল গঠন করে, কার্বন পরমাণুর সেই বিশেষ ধর্মকে ক্যাটিনেশন বলে ।  

একাধিক কার্বন পরমাণু এক-বন্ধন (-) (single bond), দ্বি-বন্ধন (=) (double bond) বা ত্রি-বন্ধন (≡) (triple bond) দ্বারা পরস্পর যুক্ত হয়ে বিভিন্ন জৈব যৌগ গঠন করতে পারে ।

[i] এক-বন্ধন (-) (singl bond):- যেমন, ইথেন অণুতে  

এবং একই রূপে ইথাইল অ্যালকোহলে     কার্বন-কার্বন পরমাণুর মধ্যে এক-বন্ধন সৃষ্টি হয়ছে ।

[ii] দ্বি-বন্ধন (=) (double bond):- যেমন ইথিলিন অণুতে দ্বি-বন্ধন দেখা যায় অর্থাৎ কার্বন-কার্বন পরমাণুর মধ্যে দ্বি-বন্ধন সৃষ্টি হয়ছে ।

[iii] ত্রি-বন্ধন (≡) (triple bond):- যেমন অ্যাসিটিলিন অণুতে ত্রি-বন্ধন অর্থাৎ কার্বন-কার্বন পরমাণুর মধ্যে ত্রি-বন্ধন সৃষ্টি হয়ছে । H - C ≡ C - H

কিন্তু অজৈব যৌগের মধ্যে বন্ধন আয়নীয় ও সমযোজী দুটিই হতে পারে । অজৈব যৌগ সাধারণত আয়ানীয় বন্ধন দ্বারা যুক্ত : যেমন-NaCl, KCl, MgBr2, CaCl2 ইত্যাদি । কিন্তু কিছু কিছু অজৈব যৌগ আছে যারা সমযোজ্যতার দ্বারা যুক্ত হলেও আয়োনীয় যৌগের মতো ব্যবহার করে : যেমন- NH3, HCl, H2O, CO2 ইত্যাদি ।

ধাতু নিষ্কাশন

আকরিক হতে মূল্যবান ধাতু নিষ্কাশন করতে ধাতু-নিষ্কাশন বিদ্যা-র প্রয়োজন হয়। এতে তিনটি বিষয় রয়েছে। ১. আকরিক সংগ্রহ করা ২. ধাতু নিষ্কাশন করা ৩. অবশিষ্ট অপদ্রব্য অপসারণ করা। প্রথমে আকরিক সংগ্রহ করে তাকে গুড়ো করা হয়, যাতে করে প্রয়োজনীয় ধাতু যথাসম্ভব অপদ্রব্য থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর কাজ হল অপদ্রব্য আর ধাতুর মিশ্রণ হতে প্রয়োজনীয় ধাতুকে পৃথক করে ফেলা। এজন্য অনেক সময় এমন কিছু রাসায়নিক দ্রবণ ব্যবহার করা হয়, যাতে আকরিক চূর্ণ মেশালে তা থেকে প্রয়োজনীয় ধাতু দ্রবনে চলে যায় এবং বাকি অপদ্রব্য অদ্রবনীয় অবস্থায় তেকে যায়। এরপর দ্রবনটিকে অন্যস্থানে সরিয়ে নেবার পর তা থেকে ধাতুটি নিষ্কাশন করা হয়। এছাড়া ইলেক্টোপ্লেটিং এর মাধ্যমেও ধাতু নিষ্কাশন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় একই আকরিকে একাধিক মূল্যবান ধাতু থাকে। সেক্ষেত্রে প্রথমে একটি ধাতু নিষ্কাশনের পর যে অপদ্রব্য থেকে যায়, তা ব্যবহৃত হয় দ্বিতীয় ধাতুটি নিষ্কাশনের কাঁচামাল হিসেবে। এভাবে পরপর ধাতু নিষ্কাশন চলতে থাকে।

লেড অ্যাসিড ব্যাটারি

গাড়ির ব্যাটারিকে লেড অ্যাসিড ব্যাটারি বলে। এই ব্যাটারি তৈরি হয় প্লেট, সীসা এবং লেড অক্সাইড এর সাথে ৩৫% সালফিউরিক এসিড ও ৬৫% পানির মিশ্রন থেকে। ব্যাটারি টেস্টের জন্য হাইড্রোমিটার দিয়ে ইলেকট্রোলাইটে সালফিউরিক এসিডের পরিমাণ মাপা হয়।

লেড অ্যাসিড ব্যাটারি বলতে সীসা ও অ্যাসিড সমৃদ্ধ ব্যাটারি বোঝায়।

এ গুলো মূলত গাড়ির ব্যাটারি। গাড়ি বা ইঞ্জিন স্টার্ট করতে বেশ শক্তিশালি একটি স্টার্টিং মোটর [যাকে সেলফ বলা হয়] থাকে এটিকে ১৫-৩০ সেকেন্ড চালু রাখলেই ইঞ্জিন স্টার্ট নিয়ে নেয়, অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের জন্য ২৫-১৫০ এমপিয়ার কারেন্ট প্রবাহের প্রয়েজন হয় ঐ সেলফ চালাতে এর পরে আর ব্যাটারির তেমন শক্তির কোন কাজ করতে হয় না বরং ইঞ্জিন এর অলটারনেটর হতে ব্যাটারি পুনরায় চার্জ হতে থাকে। এগুলোতে থাকে পাতলা প্লেট যা অনেক বেশি কারেন্ট বা এমপিয়ার তৈরি করতে পারে।

লেড অ্যাসিড ব্যাটারি ২ ধরনের: ডিপ সাইকেল ও গাড়ির ব্যাটারি। গাড়ির ব্যাটারিতে প্লেটগুলি পাতলা থাকে যাতে পৃষ্ঠ তড়িৎপ্রবাহ বেশি হয়। অন্যদিকে ডিপ সাইকেল ব্যাটারিতে দীর্ঘক্ষণ তড়িৎ সরবরাহ করার জন্য মোটা প্লেট ব্যবহার করা হয়।

আইপিএস-এ ডিপ সাইকেল ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। এই ব্যাটারি পুনঃআধানীকরণযোগ্য (রিচার্জেবল) ব্যাটারি; এটি অসংখ্যবার চার্জ ও ডিসচার্জ হয়।

অন্যদিকে গাড়ির ব্যাটারি অল্প সময়ের জন্য (৩০ সেকেন্ড) উচ্চ অ্যাম্পিয়ার (৩০-১০০ অ্যামপিয়ার) মানবিশিষ্ট তড়িৎ সরবরাহ করে গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট করে দেয়; এর পর গাড়ির অলটারনেটর গাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। একই সঙ্গে গাড়ির ব্যাটারিকেও চার্জ করতে থাকে পুনরায় হাই এমপ এ ইঞ্জিন স্টার্ট করার জন্য এর ফলে গাড়ির ব্যাটারি তার শক্তির ২০% খরচ করে একাধিক বছর সার্ভিস দিতে পারে।

  1. CCA
  2. CA
  3. AH
  4. RC

সিমেন্ট

সিমেন্ট হল সেই সকল গুড়া জাতীয় পদার্থের সাধারণ নাম, যাদেরকে পানি বা অন্য কোন তরলের সাথে মিশ্রিত করলে কাদার মত নমনীয় পদার্থ পাওয়া যায় এবং তা কিছু সময়ের মধ্যে জমে গিয়ে বিভিন্ন দৃঢ়তার শক্ত পদার্থ গঠন করে। সিমেন্ট বাড়ী-ঘর, রাস্তা, সেতু ইত্যাদি যাবতীয় নির্মান কাজের প্রধান উপাদান।
lol অনেক ধরনের সিমেন্ট হয়ে থাকে। যেমন:

  • পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট
  • পজুলানা সিমেন্ট
  • অধিক অ্যালুমিনা সমৃদ্ধ সিমেন্ট
  • ক্ষয়রোধী সিমেন্ট
  • পানিরোধী সিমেন্ট
  • রঙ্গীন সিমেন্ট ইত্যাদি

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃতর হয় পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট।

সিমেন্টের মূল উপাদানগুলি হল - চূনাপাথর, সিলিকা (বালি), আয়রন অক্সাইড ইত্যাদি। এই উপাদানগুলি কে ২ ভাগে ভাগ করা যায়

  • ক. চুন জাতীয় পদার্থ।(চক্, চূনাপাথর ইত্যাদি)
  • খ. মাটি জাতীয় পদার্থ।(সিলিকা, আয়রন অক্সাইড, এ্যালুমিনা ইত্যাদি)

গ্যাস মাস্ক

গ্যাস মাস্ক বায়ুবাহিত জীবাণু, দূষণকারী পদার্থ এবং বিষাক্ত গ্যাস থেকে রক্ষা করতে ব্যবহৃত একটি মুখোশ। গ্যাস মাস্কের প্রধান উপাদান হল- ফসফরাস পেন্টা অক্সাইড ।

ক্লোরিন

ক্লোরিন বিভিন্ন রূপে পানির জীবানুনাশ করার জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি কেমিকেল। বিংশ শতকের গোড়ার দিকে পানিশোধণে ক্লোরিন ব্যবহার শুরুর করার পর সারা বিশ্বে পানিজনিত রোগে মৃত্যূহার অনেক হ্রাস পেয়েছে।
জরুরি অবস্থায় পানি শোধন কাজে হ্যালোট্যাব বা ক্লোরিনের ট্যাবলেট ফার্মেসিতে পাওয়া যায়। কত পরিমাণ পরিষ্কার পানিতে একটি ট্যাবলেট দিতে হবে সেটা ট্যাবলেটের মোড়কে লেখা থাকে। এভাবে পরিশোধিত পানিতে কিছুটা ক্লোরিনের গন্ধ থাকে। তবে, সেই পানিকে সামান্য গরম করলেই সমস্ত গন্ধ চলে যাওয়ার কথা। আমাদের দেশে মানুষ পানিতে ক্লোরিন তথা ব্লিচিং-এর গন্ধ পেলে নাক সিটকায়, অথচ উন্নত বিশ্বে এই গন্ধ পেলেই পানি পান করতে নিরাপদ বোধ করে মানুষ, আর সরবরাহকৃত পানিতে ক্লোরিনের গন্ধ না থাকলেই সেই পানি পান করতে ইতস্তত করে।

কয়লা

কয়লা এক প্রকারের জীবাষ্ম জ্বালানী। প্রাচীন কালের বৃক্ষ দীর্ঘদিন মাটির তলায় চাপা পড়ে ধীরে ধীরে কয়লায় পরিণত হয়। সাধারণতঃ কয়লা কালো বর্ণের হয়ে থাকে। কার্বনের একটি রূপ। কাঠ কয়লা কাঠ হতে এবং খনিজ কয়লা খনিতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ, ভারত, চিন প্রভৃতি দেশে কয়লা খনি আছে।

কয়লাকে চার শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

  • পীট
  • লিগনাইট
  • বিটুমিনাস
  • এ্যানথ্রাসাইট

আর্কিমিডিস

আর্কিমিডিস (খ্রি.পূ. ২৮৭-২১২) একজন গ্রিক গণিতবিদ, পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, জ্যোতির্বিদ ও দার্শনিক। যদিও তাঁর জীবন সম্পর্কে খুব কমই জানা গেছে, তবুও তাঁকে ক্ল্যাসিক্যাল যুগের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পদার্থবিদ্যায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে স্থিতিবিদ্যা আর প্রবাহী স্থিতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন এবং লিভারের কার্যনীতির বিস্তারিত ব্যাখ্যাপ্রদান। পানি তোলার জন্য আর্কিমিডিসের স্ক্রু পাম্প, যুদ্ধকালীন আক্রমণের জন্য সীজ (ইংরেজি: siege সীঝ়্‌) ইঞ্জিন ইত্যাদি মৌলিক যন্ত্রপাতির ডিজাইনের জন্যও তিনি বিখ্যাত। আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় তাঁর নকশাকৃত আক্রমণকারী জাহাজকে পানি থেকে তুলে ফেলার যন্ত্র বা পাশাপাশি রাখা একগুচ্ছ আয়নার সাহায্যে জাহাজে অগ্নিসংযোগের পদ্ধতি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

আর্কিমিডিসকে সাধারণত প্রাচীন যুগের সেরা এবং সর্বাকালের অন্যতম সেরা গণিতজ্ঞ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি মেথড অফ এক্সহশন ব্যবহার করে অসীম ধারার সমষ্টিরূপে প্যারাবোলার বক্ররেখার অন্তগর্ত ক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল নির্ণয় করেন এবং পাই -এর প্রায় নিখুঁত একটি মান নির্নয় করেন। এছাড়াও তিনি আর্কিমিডিসের স্পাইরালের সংজ্ঞা দেন, বক্রতলের ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের সূত্র প্রদান করেন এবং অনেক বড় সংখ্যাকে সহজে প্রকাশ করার একটি চমৎকার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

মাদাম কুরী

মাদাম কুরী প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী যিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এই ফরাসি বিজ্ঞানী ১৯০৩ সালে তেজস্ক্রিয়তার উপর গবেষণার জন্য তার স্বামী পিয়ের ক্যুরি এবং তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক অঁরি বেকেরেলের সাথে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি ছিলেন প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী যিনি বিজ্ঞানের দুইটি ভিন্ন শাখায় দুইবার নোবেল পুরস্কার জেতেন। তিনি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়েরও প্রথম মহিলা অধ্যাপক ছিলেন এবং তিনি ছিলেন প্রথম মহিলা যার অসামান্য মেধার কারণে ১৯৯৫ সালে প্যান্থিয়নে সমাহিত করা হয়।

মাদাম কুরী ১৮৬৭ সালের ৭ই নভেম্বর পোল্যান্ডের ওয়ার্সাতে জন্মগ্রহণ করেন, যেটি তখন রাশিয়ান সাম্রাজ্যের অংশ ছিলো। মাদাম কুরী ওয়ার্সার গোপন ভাসমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছিলেন এবং ওয়ার্সাতেই তার ব্যবহারিক বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন। ১৮৯১ সালে ২৪ বছর বয়সে তিনি তার বড় বোন ব্রোনিস্লাভাকে অনুসরণ করে প্যারিসে পড়তে যান। সেখানেই তিনি তার পরবর্তি বৈজ্ঞানিক কাজ পরিচালিত করেছিলেন। ১৯০৩ সালে মাদাম কুরী তার স্বামী পিয়েরে কুরি এবং পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেলের সাথে পদার্থ বিদ্যায় নোবেল পুরস্কার জেতেন। তিনি এককভাবে ১৯১১ সালে রসায়নেও নোবেল পুরস্কার জেতেন।

স্টিফেন উইলিয়াম হকিং

স্টিফেন উইলিয়াম হকিং, (জন্ম: ৮ জানুয়ারি, ১৯৪২) বিশিষ্ট ইংরেজ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ হিসেবে বিশ্বের সর্বত্র পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তাঁকে বিশ্বের সমকালীন তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের মধ্যে অন্যতম হিসাবে বিবেচনা করা হয়। হকিং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান অধ্যাপক (স্যার আইজ্যাক নিউটনও একসময় এই পদে ছিলেন) হিসেবে ১ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে অবসর নেন। এছাড়াও তিনি কেমব্রীজের গনভিলি এবং কেয়াস কলেজের ফেলো হিসাবে কর্মরত আছেন। শারীরিকভাবে ভীষণরকম অচল এবং এ.এল.এসের (এমায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস বা লাউ গেহরিগ রোগ - যা একপ্রকার মোটর নিউরন রোগ) জন্য ক্রমাগতভাবে সম্পূর্ণ অথর্বতার দিকে ধাবিত হওয়া সত্ত্বেও বহু বছর যাবৎ তিনি তাঁর গবেষণা কার্যক্রম সাফল্যের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন।
পদার্থবিজ্ঞানে হকিংয়ের দুইটি অবদানের কথা সবচেয়ে বেশি স্বীকৃত। প্রথম জীবনে সতীর্থ রজার পেনরাজের সঙ্গে মিলে সাধারণ আপেক্ষিকতায় সিংগুলারিটি সংক্রান্ত তত্ত্ব। হকিং প্রথম অনিশ্চয়তার তত্ত্ব ব্ল্যাক হোল-এর ঘটনা দিগন্তে প্রয়োগ করে দেখান যে ব্ল্যাক হোল থেকে বিকিরিত হচ্ছে কণা প্রবাহ। এই বিকরণ এখন হকিং বিকিরণ নামে (অথবা কখনো কখনো বেকেনস্টাইন-হকিং বিকিরণ) অভিহিত। প্রায় ৪০ বছর ধরে হকিং তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানের চর্চা করছেন। লিখিত পুস্তক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির থেকে হকিং একাডেমিক জগতে যথেষ্ট খ্যাতিমান হয়ে উঠেছেন। তিনি রয়েল সোসাইটি অব আর্টসের সম্মানীয় ফেলো এবং পন্টিফিকাল একাডেমি অব সায়েন্সের আজীবন সদস্য। ২০১৪ সালে তাকে নিয়ে একটি মুভি তৈরী হয়,,নাম থিওরী অফ এভরিথিং।

প্রতিধ্বনি

প্রতিধ্বনি
 

যখন কোনো শব্দ মূল শব্দ থেকে আলাদা হয়ে মূল শব্দের পুনরাবৃত্তি করে, তখন ঐ প্রতিফলিত শব্দকে প্রতিধ্বনি বলে। সহজ কথায় প্রতিফলনের জন্য ধ্বনির পুনরাবৃত্তিকে প্রতিধ্বনি বলে।

প্রতিফলকের নূন্যতম দূরত্বঃ কোনো ক্ষণস্থায়ী শব্দ বা ধ্বনি কানে শোনার পর সেই শব্দের রেশ প্রায় 1/10 সেকেন্ড যাবৎ আমাদের মস্তিষ্কে থেকে যায়। একে শব্দানুভুতির স্থায়ীত্বকাল বলে। এই 1/10 সেকেন্ডের মধ্যে অন্য শব্দ কানে এসে পৌঁছালে তা আমরা আলাদা করে শুনতে পাই না। সুতরাং কোনো ক্ষণস্থায়ী শব্দের প্রতিধ্বনি শুনতে হলে প্রতিফলককে উৎস থেকে এমন দূরত্বে রাখতে হবে যাতে মূল শব্দ প্রতিফলিত হয়ে কানে ফিরে আসতে অন্তত  সেকেন্ড সময় নেয়। যদি 0°C তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ 332 m/s ধরা হয়  তাহলে  1/10 সেকেন্ডে শব্দ 33.2m যায়। সুতরাং প্রতিফলককে শ্রোতা থেকে কমপক্ষে 33.2m/2 বা 16.6m  দূরত্বে রাখতে হবে। 

শ্রাব্যতার সীমা ও এদের ব্যবহার

শ্রাব্যতার সীমা এদের ব্যবহার
 

যদি কোনো বস্তু প্রতি সেকেন্ডে কমপক্ষে ২০ বার কাঁপে তবে সেই বস্তু থেকে উৎপন্ন শব্দ শোনা যাবে। এভাবে আবার কম্পন যদি প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০  বার এর বেশি হয় তাহলেও শব্দ শোনা যাবে না। সুতরাং আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz। কম্পাঙ্কের এই পাল্লাকে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর কম হয় তবে তাকে  শব্দেতর কম্পন বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তবে তাকে শব্দোত্তর 
কম্পন বলে।

সুপারসনিক বিমান

 সুপারসনিক বিমান

কনকর্ড পৃথিবীর একমাত্র আবিষ্কৃত যাত্রীবাহী সুপারসনিক বিমান, যা শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির। ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড যৌথ উদ্যোগে বেসামরিক বিমান পরিবহনের এই বিস্ময় কনকর্ড তৈরি করেছিল। ১৯৬৯ সালে ২ মার্চ ফ্রান্সের জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স প্রথমবারের মতো তাদের বহরে কনকর্ড বিমান সংযুক্ত করে ফ্লাইট পরিচালনা করে। একই বছরের ৯ এপ্রিল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কনকর্ড বিমানের ফ্লাইট চালু করে। লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো কনকর্ড অবতরণ করে ১৯৭০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। ২০০০ সালের ২৫ জুলাই প্যারিসের সন্নিকটে কনকর্ড দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১১৩ জন যাত্রী। বিভিন্ন সময় কনকর্ডে বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটি আবিষ্কৃত হওয়ায় ২০০৪ সালের ২৪ অক্টোবর কনকর্ড বিমানের উড্ডয়ন চিরতরে বন্ধ করে দেয় ফ্রান্স ও ব্রিটেন। বর্তমানে স্বপ্নের কনকর্ড ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি জাদুঘরের শোভা বাড়িয়েছে। 

কম্পাঙ্ক

কম্পাঙ্ক  

প্রতি সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় তাকে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz)। স্পন্দনশীল কোনো কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে ১ Hz বলে। একে f দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কম্পাঙ্ক ও পর্যায়কালের সম্পর্ক হলো:    f=1/T

শব্দের বেগ

শব্দের বেগ

শব্দ একধরনের তরঙ্গ বিশেষ, যা বস্তুর কম্পনের মাধ্যমে সৃষ্ট হয় এবং জড় মাধ্যমের সাহায্যে প্রবাহিত হয়ে আমাদের কানে পৌঁছায়। শব্দ প্রতি সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের বেগ বলে। কোন শব্দায়মান বস্তু হইতে শ্রোতার কানে শব্দ পৌছাতে কিছু সময় লাগে।

প্রকৄত পক্ষে আলোক তরঙ্গের বেগের   তুলনায় শব্দ তরঙ্গের বেগ অনেক কম। শুন্য ডিগ্রি তাপমাত্রায় এবং স্বাভাবিক বায়ুচাপে শব্দের বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩৩২ মিটার। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়। প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য শব্দের বেগ ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বৃদ্ধি পায়।  কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ বাতাসের থেকে ১৫ গুন বেশী। বায়ুশুন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। স্বাভাবিক অবস্থায় লোহাতে শব্দের বেগ ৫২২১ মিটার/ সেকেন্ড।

আল্ট্রাসনোগ্রফি

শ্রাব্যতার সীমা ও এদের ব্যবহার

আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz। কম্পাঙ্কের এই পাল‡াকে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর কম হয় তবে তাকে  শব্দেতর কম্পন বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তবে তাকে শব্দোত্তর 
কম্পন বলে।

মানুষের দেহের অভ্যন্তরীণ ছবি এক্স-রে দ্বারা যেমন তোলা যায় তেমন শব্দোত্তর কম্পনের শব্দের সাহায্যে ছবি তুলে রোগ নির্ণয় করা যায়। এই প্রক্রিয়ার নাম আল্ট্রাসনোগ্রফি। শব্দকে দেহ অভ্যন্তরে প্রেরণ করা হয় এবং প্রতিফলিত শব্দ শক্তিকে আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত করে টেলিভিশনের পর্দায় ফেলে রোগ সনাক্ত করা যায়।

এক্স-রে

এক্স-রে

রঞ্জন রশ্মি ক্ষুদ্র তরঙ্গ বিশিষ্ট এক ধরনের তাড়িত চৌম্বক বিকিরণ। এর অপর নাম এক্স-রে (X-ray)। দ্রুতগতিসম্পন্ন ইলেক্ট্রন কোনো ধাতুকে আঘাত করলে তা থেকে অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের এবং উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন এক প্রকৃতির বিকিরণ উৎপন্ন হয়। এই বিকিরণকে বলা হয় এক্সরে বা এক্সরশ্মি(X-Ray)।

রঞ্জনরশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম (সাধারণত ১০-০.০১ ন্যানোমিটার), সাধারণ আলোর চেয়ে অনেক কম বলে এদের খালি চোখে দেখা যায় না। ১৮৯৫ সালে উইলিয়াম রন্টজেন এই রশ্মি আবিস্কার করেন। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট হয় পদার্থ ভেদ করার ক্ষমতা তত বেশি হয়।

আলট্রাসনিক শব্দ

আলট্রাসনিক শব্দ

আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz। কম্পাঙ্কের এই পাল্লা কে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর কম হয় তবে তাকে  শব্দেতর কম্পন বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তবে তাকে শব্দোত্তর কম্পন বলে।

রোগ নির্ণয়ে, কাপড়ের ময়লা পরিস্কার করা, সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়, ধাতব পিন্ড বা পাতে সূক্ষ্মতম ফাটল অনুসন্ধানে, সূক্ষ্ম ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কাজে, ক্ষতিকর রোগ জীবাণু ধ্বংসের কাজে শব্দোত্তর কম্পন ব্যবহৃত হয়।

সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়

শব্দোত্তর কম্পন

আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz। কম্পাঙ্কের এই পাল‡াকে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর কম হয় তবে তাকে  শব্দেতর কম্পন বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তবে তাকে শব্দোত্তর কম্পন বলে।

সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়: সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের জন্য SONAR নামক যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। এর পূরো নাম Sound Navigation And Ranging । এই যন্ত্রে শব্দোত্তর কম্পাঙ্কের শব্দ প্রেরণ ও গ্রহণের ব্যবস্থা আছে।

সমুদ্রের গভীরতা, d = vt / 2

তরঙ্গের বেগ

কোন শব্দায়মান বস্তু হইতে শ্রোতার কানে শব্দ পৌছাতে কিছু সময় লাগে। প্রকৄত পক্ষে আলোক তরঙ্গের বেগের তুলনায় শব্দ তরঙ্গের বেগ অনেক কম।মেঘে মেঘে সংঘর্ষের ফলে আকাশে বিদ্যুতের ঝলক এবং শব্দ একই সাথে উৎপন্ন হয়। বিদ্যুৎ ঝলকের গতিবেগ আলোর সমান, সেকেন্ডে ৩×১০৮ মিটার। অন্যদিকে শব্দের বেগ সেকেন্ডে ৩৩২ মিটার। তাই শব্দ পৌঁছানোর অনেক আগেই আলোর ঝলকানি আমাদের নিকট পৌঁছে যায়।

আলোর গতিবেগ

আলোর গতিবেগ

বিজ্ঞানী নিউটন বলেছেন, ‘আলো’ হচ্ছে ছোট ছোট অসংখ্য কণিকা দিয়ে গঠিত এবং ওই কণিকাগুলির কোনো ওজন নেই। এই কণিকার নাম হলো ‘ফোটন’ (Photon)। যে কোনো উৎস থেকেই এই কণিকা অর্থাৎ ফোটনগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে বের হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
পদার্থ বিজ্ঞানী হাইগেন্স বলেন, ‘আলো’ চলে তরঙ্গের মতো করে।
আবার ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক মতানুসারে, ‘আলো’ চলে গুচ্ছ গুচ্ছ আকারে বা প্যাকেট প্যাকেট আকারে (একে আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব বলে)।

আলোর নির্দিষ্ট গতিবেগ আছে এবং তা হলো শূন্যস্থানে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন লাখ কিলোমিটার অর্থাৎ কোনো উৎস থেকে বের হয়ে এটি প্রতি সেকেন্ডে তিন লাখ কিলোমিটার করে দূরে চলে যাবে। আলোক তরঙ্গের বেগের   তুলনায় শব্দ তরঙ্গের বেগ অনেক কম।

শব্দ বেগ

শব্দ বেগ

শব্দ একধরনের তরঙ্গ বিশেষ, যা বস্তুর কম্পনের মাধ্যমে সৃষ্ট হয় এবং জড় মাধ্যমের সাহায্যে প্রবাহিত হয়ে আমাদের কানে পৌঁছায়। শব্দ প্রতি সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের বেগ বলে। কোন শব্দায়মান বস্তু হইতে শ্রোতার কানে শব্দ পৌছাতে কিছু সময় লাগে।

শুন্য ডিগ্রি তাপমাত্রায় এবং স্বাভাবিক বায়ুচাপে শব্দের বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩৩২ মিটার। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়। প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য শব্দের বেগ ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বৃদ্ধি পায়।  কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ বাতাসের থেকে ১৫ গুন বেশী। বায়ুশুন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। স্বাভাবিক অবস্থায় লোহাতে শব্দের বেগ ৫২২১ মিটার/ সেকেন্ড।

কাঁসা

কাঁসা হচ্ছে রাং/টিন (Tin) এবং তামা (Copper) এর সংমিশ্রণে তৈরী একটি মিশ্র ধাতু, অনেকেই ধারণা করে থাকেন যে, কাঁসা আর পিতল হচ্ছে একই জিনিস (মিশ্র ধাতু), কিন্তু পিতল হচ্ছে দস্তা (Zinc) এবং তামা (Copper) এর সংমিশ্রণে তৈরী একটি মিশ্র ধাতু । কাজেই, কাঁসা আর পিতল একই জিনিস (মিশ্র ধাতু) নহে ।

বাংলাদেশ এবং ভারতে বিভিন্ন ধরনের অলংকারাদি এবং গৃহস্থালির উপকরণ তৈরীতে কাঁসা এবং পিতল ব্যবহার করা হয়ে থাকে । এই দুই ধরনের ধাতুর তৈরী ব্যবহার্য জিনিস-পত্র দ্বারা পারিবারিক ঐতিহ্য (বনেদী-ভাবধারা) প্রকাশ পেয়ে থাকে । বর্তমান যুগে যেমন কোনো পরিবারে স্টেইনলেস স্টীলের জিনিস দ্বারা পরিবারের স্বচ্ছলতাকে নির্দেশ করে, তেমনি আগেরকার যুগে ধনী পরিবারগুলোর কাঁসা এবং পিতলের ব্যবহার দ্বারা ঐ সকল পরিবারগুলোর আভিজাত্য প্রকাশ পেয়ে থাকত । শুধু তাই নয়, এখনও অনেক ধনী পরিবার রান্না-বান্নার কাজে কাঁসা কিংবা, পিতল ব্যবহার না করলেও কাঁসা এবং পিতলের ফুলদানী, টেবিল-ল্যাম্প, কিংবা, ঝাঁড়বাতি, ইত্যাদি ক্রয় এবং ব্যবহার করে থাকেন ।

কার্বন ডাই অক্সাইড

কার্বন ডাই অক্সাইড (রাসায়নিক সংকেত CO2) একটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক যৌগ যা দুইটি অক্সিজেন পরমাণু ও একটি কার্বন পরমাণু দিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি অক্সিজেন পরমাণু একটি কার্বন পরমাণুর সাথে দ্বি-বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে।এটা আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসীয় অবস্থায় বিরাজ করে এবং এই অবস্থায় পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে বিদ্যমান যেখানে ট্রেস গ্যাস হিসাবে এর ঘনত্ব ০.০৩৯%।

কার্বন চক্রে গাছপালা,জলজ উদ্ভিজ্জ এবং সায়ানোব্যাকটেরিয়া সৌরশক্তি দ্বারা সালোকসংশ্লেষনের মাধ্যমে কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানি থেকেকার্বোহাইড্রেড উৎপন্ন করে যার সাথে সাথে বর্জ্য পদার্থ হিসাবে অক্সিজেনও উৎপন্ন করে। কিন্তু,সালোকসংশ্লেষন প্রক্রিয়া অন্ধকারে সংঘঠিত হয় না এবং রাতে কিছু পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয় উদ্ভিদের শ্বসন ক্রিয়ার জন্য। কার্বন ডাইঅক্সাইড কয়লা বা হাইড্রোকার্বন এর দহন দ্বারা উত্পাদিত হয়।এছাড়াও চিনি থেকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় বিয়ার এবং ওয়াইন প্রস্তুতিতে এবং সব জীবন্ত প্রাণীর শ্বসন দ্বারা কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়।এটা মানুষ এবং অন্যান্য জীবজন্তু শ্বাস নেওয়ার সময় ত্যাগ করে।এটা আগ্নেয়গিরি,উষ্ণপ্রসবণ এবং ঐসব জায়গা যেখানে ভূপৃষ্ট পাতলা কার্বোনেট শিলা ক্ষয়ের ফলে।কার্বন ডাই অক্সাইড এছাড়াও সমুদ্র তলদেশে,হ্রদে এবং তেল এবং গ্যাসের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে।

কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিবেশগত প্রভাব উল্লেখযোগ্য বিষয়।কার্বন ডাই অক্সাইড একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনহাউজ গ্যাস যা ভূপৃষ্ঠের বিকৃর্ণ তাপ শোষন করে।বায়ুমন্ডলীয় কার্বন ডাই অক্সাইড পৃথিবীতে জীবনের একটি প্রাথমিক উৎস এবং এর ঘনত্ব পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে সালোকসংশ্লেষন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।শিল্প বিপ্লবের পর থেকে কার্বন ভিত্তিক জ্বালানি দহনের ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে জীব জগতের জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে।এটি সমুদ্রকে অম্লীয়করণের প্রধান উৎস যেহেতু এটি পানিতে কার্বনিক অ্যাসিড রুপে দ্রবীভূত হয় যা একটি দুর্বল এসিড এবং এটা পানিতে সম্পূর্ণরুপে আয়নিত হয় না।

CO2+H2O is in equilibrium withH2CO3

অক্সিজেন

অক্সিজেন বা অম্লজান একটি রাসায়নিক মৌল, এর প্রতীক O ও পারমানবিক সংখ্যা ৮। অষ্টাদশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ের অম্লজান নামটি নির্দিষ্ট করেন, কারণ তখন মনে করা হতো সকল অম্লের মধ্যে অম্লজান বিদ্যমান থাকে যা ভুল ছিল। অক্সিজেনের যোজ্যতা সাধারণ ২। এই মৌলটি অন্যান্য মৌলের সাথে সাধারণত সমযোজী বা আয়নিক বন্ধন দ্বারা যৌগ গঠন করে থাকে। অম্লজান গঠিত সাধারণ কিছু মৌলের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে: পানি (H2O), বালি (SiO2, সিলিকা) এবং আয়রন অক্সাইড (Fe2O3)। দ্বিপরমাণুক অম্লজান বায়ুর প্রধান দুইটি উপাদানের একটি।আগুন জ্বালাতে অক্সিজেন প্রয়োজন হয় এবং অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে আগুন নিভে যায় । উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার সময় এই মৌলটি উৎপন্ন হয় এবং এটি সকল প্রাণীর শ্বসনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।

কার্বন

প্রকৃতিতে কার্বনের দুইটি বহুরুপ রয়েছে। একটি হীরক এবং অন্যটি গ্রাফাইট। অনেক আগে থেকেই মানুষ এ পদার্থ দুটিকে চিনতো। এমনকি উচ্চ তাপমাত্রায় হীরাকে দহন করালে যে অবশেষ হিসেবে কিছু পাওয়া যায়না তাও মানুষের জানা ছিল। কিন্তু এই পদার্থ দুটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পদার্থ হিসেবে মনে করা হতো। কার্বন ডাই অক্সাইড আবিষ্কারের পর এই সমস্যার সমাধান হয়। ল্যাভয়সিয়ে দেখেন যে, হীরক এবং কাঠকয়লা দুটির দহনেই কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়। এ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া গিয়েছিল যে এরা অভিন্ন পদার্থ। ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে Methods of Chemical Nomenclature নামক গ্রন্থে (ল্যাভয়সিয়ে, এল. গুইটন ডি. মারভিউ, সি. বারথোলেট এবং এ. ফোউরক্রই কর্তৃক লিখিত) প্রথম কার্বনেয়াম (কার্বন) নামটির উল্লেখ পাওয়া যায়। ল্যাটিন নাম তথা কার্বনেয়াম আবার সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। সংস্কৃত ভাষায় ক্রা শব্দের অর্থ ফোটা। ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে মৌলটির নাম কার্বন দেয়া হয়েছিল।

১৭৯৭ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী এস. টেন্যান্ট আবিষ্কার করেন, সম পরিমাণ হীরক ও গ্রাফাইটের দহনে সমআয়তন কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়। অবশেষে ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে এল. গুইটন ডি. মারভিউ নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করেন যে হীরক, গ্রাফাইট এবং কোকের একমাত্র উপাদান হচ্ছে কার্বন। এর বিশ বছর পর তিনি সতর্কতার সাথে উত্তপ্ত করে হীরককে গ্রাফাইট এবং গ্রাফাইটকে কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত করতে সমর্থ হন। কিন্তু গ্রাফাইট থেকে হীরক তৈরির মত প্রযুক্তি তখনও ছিলনা। অবশেষে ১৯৫৫ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের একটি দল ৩০০০° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা এবং ১০৯ প্যাসকেল চাপে গ্রাফাইট থেকে হীরক সংশ্লেষণ করতে সক্ষম হন। এর কিছুদিন পর সোভিয়েত ইউনিয়নে কির্বন নামে আরেকটি পদার্থ তৈরি করা হয় যাকে কার্বনের তৃতীয় বহুরুপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পদার্থের ক্ষেত্রে কার্বনের পরমাণুগুলো একটির সাথে আরেকটি সংযুক্ত হয়ে লম্বা শিকল তৈরি করে। এটি দেখতে অনেকটা ভূসিকালির মত।

পদার্থবিজ্ঞান

বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থ এবং শক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে বলা হয় পদার্থবিজ্ঞান। পদার্থবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং বিশ্লেষণের আলোকে বস্তু এবং শক্তির রূপান্তর ও সম্পর্ক উদঘাটন এবং পরিমাণগতভাবে তা প্রকাশ করা।

পদার্থবিজ্ঞানকে আমরা  প্রধানত নিম্নোক্ত শাখাগুলোতে ভাগ করতে পারি

(i)বলবিজ্ঞান

(ii)তাপগতিবিজ্ঞান

(iii)শব্দবিজ্ঞান

(iv)আলোকবিজ্ঞান

(v)তাড়িতচৌম্বক বিজ্ঞান

(vi)কঠিন অবস্থার বিজ্ঞান

(vii)পারমাণবিক বিজ্ঞান

(viii)নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান

(ix)কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান

(x)ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি।

থেলিস(খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৮-৫৬৯ ) সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত ভবিষৎবাণীর জন্য বিখ্যাত। তিনি লোডস্টোনের চৌম্বকধর্ম সম্পর্কে জানতেন।

 পিথাগোরাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৫২৭-৪৯৭ ) বিভিন্ন জ্যামিতিক উপপাদ্য ছাড়াও কম্পমান তারের উপর তাঁর কাজ রয়েছে। বর্তমান বাদ্যযন্ত্র এবং সংগীত বিষয়ক অগ্রগতির পিছনে তাঁর অবদান আছে।

গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০-৩৭০) পরমাণু সম্পর্কে প্রথমে ধারণা দেন।

গ্রিক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস(খ্রিষ্টপূর্ব ২৮৭-২১২ ) লিভারের নীতি ও তরলে নিমজ্জিত বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্বমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করে ধাতুর ভেজাল নির্ণয়ে সক্ষম হন। তিনি গোলীয় দর্পণের সাহায্যে সূর্যের রশ্মি কেন্দ্রীভূত করে আগুন ধরানোর কৌশল জানতেন।

আলোক তত্ত্বের উপর ইবনে আল হাইথাম(৯৬৫-১০৩৯) এবং আল হাজেন(৯৬৫-১০৩৮) এর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। টলেমী(১২৭-১৫১) ও অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে কোন বস্তু দেখার জন্য চোখ নিজে আলোক রশ্মি পাঠায়। আল হাজেন এই মতের বিরোধিতা করেন এবং বলেন যে বস্তু থেকে চোখে আলো আসে বলেই আমরা বস্তু দেখতে পাই। আতশি কাজ নিয়ে পরীক্ষা তাকে উত্তল লেন্সের আধুনিকতত্ত্বের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

আল মাসুদী(৮৯৬-৯৫৬) প্রকৃতির ইতিহাস সম্পর্কে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লেখেন। এই বইয়ে বায়ুকলের উল্লেখ পাওয়া যায়।

রজার বেকন(১২১৪-১২৯৪) পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবক্তা। তাঁর মতে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমেই বিজ্ঞানের সব সত্য যাচাই করা উচিত।

লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি(১৪৫২-১৫১৯) পাখি ওড়া পর্যবেক্ষণ করে উড়োজাহাজের একটি মডেল তৈরি করেছিলেন। তিনি মূলত চিত্রশিল্পি হলেও বলবিদ্যা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য জ্ঞান ছিল। ফলে তিনি বহু যন্ত্র দক্ষতার সাথে উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন।

ডা গিলবার্ট(১৫৪০-১৬০৩) চুম্বকত্ব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা এবং তত্ত্ব প্রদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

জার্মানির স্নেল(১৫৯১-১৬২৬) আলোর প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন।    

হাইগেন(১৬২৬-১৬৯৫) দোলকীয় গতি পর্যালোচনা করে ঘড়ির যান্ত্রিক কৌশলের বিকাশ ঘটান এবং আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।

রবার্ট হুক(১৬৩৫-১৭০৩) পদার্থের স্থিতিস্থাপক ধর্মের অনুসন্ধান করেন।

বিভিন্ন গ্যাসের ধর্ম বের করার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান রবার্ট বয়েল(১৬২৭-১৬৯১)।

ভন গুয়েরিক(১৬০২-১৬৮৬) বায়ু পাম্প আবিষ্কার করেন।

রোমার(১৬৪৪-১৭১০) বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে আলোর বেগ পরিমাপ করেন।

কেপলার(১৫৭১-১৬৩০) কোপার্নিকাস যে সৌরকেন্দ্রিক তত্ত্বের ধারণা উপস্থিত করেন তাঁর গাণিতিক বর্ণনা দেন তিনটি সুত্রের সাহায্যে। কেপলার গ্রহদের প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষের পরিবর্তে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা দেন। গ্রহদের গতিপথ সম্পর্কে তাঁর গাণিতিক সূত্রগুলোর সত্যতা তিনি যাচাই করলেন টাইকোব্রাহের(১৫৪৬-১৬০১) পর্যবেক্ষণ লব্ধ তথ্যের দ্বারা।

আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা ঘটে ইতালির বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর(১৫৬৪-১৬৪২) হাতে। তিনি প্রথম দেখান যে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং সুশৃঙ্খল ভৌত রাশির সংজ্ঞা প্রদান এবং এদের সম্পর্ক নির্ধারণ বৈজ্ঞানিক কর্মের মূল ভিত্তি। গাণিতিক তত্ত্ব নির্মাণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে সে তত্ত্বের সত্যতা যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা করেন গ্যালিলিও। তিনি সরণ, গতি, ত্বরণ, সময় ইত্যাদির সংজ্ঞা প্রদান ও তাদের মধ্যের সম্পর্ক নির্ধারণ করেন। ফলে তিনি বস্তুর পতনের নিয়ম আবিষ্কার ও সৃতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন।

নিউটন(১৬৪২-১৭২৭) তাঁর বিস্ময়কর প্রতিভার সাহায্যে আবিষ্কার করেন বলবিদ্যা ও বলবিদ্যার বিখ্যাত তিনটি সূত্র এবং বিশ্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র। আলোক, তাপ ও শব্দবিজ্ঞানেও তাঁর অবদান আছে। গণিতের নতুন শাখা ক্যালকুলাসও তাঁর আবিষ্কার।

জেমস ওয়াটের(১৭৩৬-১৮১৯) আবিস্কৃত বাষ্পীয় ইঞ্জিন শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড(১৭৭৭-১৮৫১) দেখান যে তড়িৎপ্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আছে।

মাইকেল ফ্যারাডে(১৭৯১-১৮৬৭), হেনরী (১৭৯৭-১৮৭৯) ও লেঞ্জ (১৮০৪-১৮৬৫) চৌম্বক ক্রিয়া তড়িৎপ্রবাহ উৎপাদন করে এই ঘটনা আবিষ্কার করেন। এর ফলে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।

১৮৬৪ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল(১৮৩১-১৮৭৯) দেখান যে আলোক এক প্রকার তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। তিনি তড়িৎক্ষেত্র এবং চৌম্বকক্ষেত্রকে একীভূত করে তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের বিকাশ ঘটান।

১৮৮৮ সালে হেনরিখ হার্জও(১৮৫৭-১৮৯৮) একই রকম বিকিরণ উৎপাদন ও উদঘাটন করেন।

১৮৯৬ সালে মার্কনী(১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে মোর্সকোডে সংকেত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর আগে বাঙালী বিজ্ঞান জগদীশ চন্দ্র বসু(১৮৫৮-১৯৩৭)  তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ করেন। এভাবে বেতার যোগাযোগ জন্ম লাভ করে।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে রনজেন(১৮৪৫-১৯২৩) এক্স রে এবং বেকেরেল(১৮৫২-১৯০৮) ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।

ম্যাক্স প্লাংক(১৮৫৮-১৯৪৭) আবিস্কার করেন বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব।  

আলবার্ট আইনস্টাইন(১৮৭৯-১৯৫৫) প্রদান করেন আপেক্ষিক তত্ত্ব।

আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের(১৮৭১-১৯৩৭) পরমাণু বিষয়ক নিউক্লিয় তত্ত্ব ও নীলস বোরের(১৮৮৫-১৯৬২) হাইড্রোজেন পরমাণুর ইলেকট্রন স্তরের ধারণা পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।

১৯৩৮ সালে অটো হান(১৮৭৯-১৯৬৮) ও স্ট্রেসম্যান(১৯০২-১৯৮০) বের করেন নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য। এর ফলে জন্ম নেয় নিউক্লিয় বোমা এবং নিউক্লিয় চুল্লী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১৮৯৪-১৯৭৪) তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ম্যাক্স প্লাংকের কোয়ান্টাম তত্ত্বের একটি শুদ্ধতর প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তাঁর তত্ত্ব বোস – আইনস্টাইন সংখ্যায়ন নামে পরিচিত। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি সরূপ এক শ্রেণীর মৌলিক কণাকে তাঁর নামানুসারে বোসন বলা হয়।

তিনজন নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী পাকিস্তানের আবদুস সালাম (১৯২৬-১৯৯৬), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেলডন গ্ল্যাশো(১৯৩২- ) এবং স্টিভেন ওয়াইনবার্গ(১৯৩৩- ) একীভূত ক্ষেত্রতত্ত্বের বেলায় মৌলিক বলগুলোকে একীকরণের ক্ষেত্রে তাড়িত দুর্বল বল আবিষ্কার করে অসামান্য অবদান রাখেন।

নোবেল বিজয়ী ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর রমন(১৮৮৮-১৯৭০) রমন প্রভাব আবিষ্কার করেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে পদার্থবিজ্ঞান যথেষ্ট অবদান রাখেন। এর ফলে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পাশাপাশি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বিভিন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিজ্ঞানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ  অগ্রগতি মহাশুন্য অভিযান।

কৃত্রিম উপগ্রহ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দানে এবং যোগাযোগকে সহজ করে দিয়েছে।

 

গ্রাফাইট

গ্রাফাইট হচ্ছে অঙ্গার বা কার্বনের একটি রূপ যা স্ফটিক ষট-কৌনিক আকৃতির। এটা সাধারণত স্তরীভূত, আঁশযুক্ত, দানাদার এবং নিবিড় পিণ্ড আকারে বা মাটির পিণ্ড আকারে পাওয়া যায়। গ্রাফাইটের কঠিনতা ১.০-২.০ এবং আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.৯-২.৩।

এটি লোহার মতো কালো অথবা গাঢ় ধূসর বর্ণের একটি পদার্থ।গ্রানাইট, নাইস, মাইকা সিস্ট এবং স্ফটিকীয় চুনাপাথরের ফাটলে গ্রাফাইট বিরাট পিণ্ড আকারে অথবা আঁশযুক্ত স্তর হিসেবে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।উচ্চ তাপরোধক চুল্লির আস্তর, ঢালাই কাজ, রঙ, পেন্সিল, জ্বালানী তেল এবং ঝালাই দণ্ড তৈরি করতে গ্রাফাইট ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

গ্রাফাইট হচ্ছে একমাত্র অধাতু যা তড়িৎ পরিবহন করতে সক্ষম ।

হাইড্রোজেন

হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা মৌলিক পদার্থ। এটি পর্যায় সারণীর প্রথম উপাদান মৌল। এর পারমাণবিক সংখ্যা ১ ও প্রতীক H। প্রাচীন গ্রিক শব্দ হুদ্রো- অর্থ "জল" বা "পানি" ("উদ-") ও গেনেস  অর্থ "উৎপাদক" ("জনক") থেকে এর হুদ্রোগেন (ইংরেজিতে হাইড্রোজেন) নামকরণ। অনেক পুরাতন বাংলা বইতে একে উদজান বলা হয়েছে। আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে হাইড্রোজেন রংহীন, গণ্ধহীন, স্বাদহীন, অধাতব এবং খুবই দাহ্য দ্বিপরমাণুক গ্যাস (H2)।

বায়ু

বায়ু 

পৃথিবীর চারদিক বেষ্টনকারী গ্যাসীয় আবরণ যা পৃথিবীর অভিকর্ষের টানে পৃথিবী-সংশ্লিষ্ট হয়ে রয়েছে। বায়ুমন্ডল পৃথিবীর জীবজগৎকে ক্ষতিকর বিকিরণ এবং মহাজাগতিক ধ্বংসাবশেষ থেকে রক্ষা করে। নানাবিধ গ্যাসের মিশ্রণে বায়ু গঠিত, যার মধ্যে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের পরিমাণ সর্বাধিক। এর প্রধান পরিবর্তনশীল দুটি উপাদান হলো জলীয়বাষ্প ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড। বায়ুর গ্যাসীয় সাংগঠনিক উপাদানগুলো হচ্ছে: নাইট্রোজেন ৭৮.০৯%, অক্সিজেন ২০.৯৫%, আর্গন ০.৯৩%, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% এবং সামান্য পরিমাণে নিয়ন, হিলিয়াম, মিথেন, ক্রিপটন, হাইড্রোজেন, জেনন এবং ওজোন।

পদার্থের তাপীয় প্রসারণ

তাপ

তাপ হলো এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি জাগায়। তাপ উষ্ণতর বস্তু থেকে শীতলতর বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। সুতরাং উষ্ণতার পার্থক্যের জন্য যে শক্তি এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে প্রবাহিত হয় তাকে তাপ বলে। SI পদ্ধতিতে তাপের একক হলো জুল  (J)। পূর্বে তাপের একক হিসাবে ক্যালরি  (Cal) ব্যবহৃত হতো।

পদার্থের তাপীয় প্রসারণ

প্রায় সকল পদার্থই তাপ প্রয়োগে প্রসারিত হয় আর তাপ অপসারণে সংকুচিত হয়। যখন কোনো বস্তু উত্তপ্ত হয়, তখন বস্তুটির প্রত্যেক অণুর তাপশক্তি তথা গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। কঠিন পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক বলের বিপরীতে অণুগুলো আরো বর্ধিত শক্তিতে স্পন্দিত হতে থাকে ফলে সাম্যাবস্থা থেকে অণুগুলোর সরণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু কোনো অণু এর সাম্যাবস্থা থেকে সরে যাবার সময় টান অনুভব করে। অর্থাৎ, অণুটি যখন পার্শ¦বর্তী অণুর কাছাকাছি যেতে চায় তখন বিকর্ষণ অনুভব করে। আবার আন্তঃআণবিক দূরত্ব যখন বৃদ্ধি পায় তখন আকর্ষণ অনুভব করে।পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক বলের প্রভাব কম বলে তাপের কারণে এর প্রসারণ বেশি হয়। বায়বীয় পদার্থের বেলায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে অণুগুলোর  ছুটাছুটি বৃদ্ধি পায়। তাপীয় প্রসারণ গ্যাসীয় পদার্থে সবচেয়ে বেশি, তরলে তার চেয়ে কম এবং কঠিন পদার্থে সবচেয়ে কম। 

মৌলিক পদার্থ

মৌলিক পদার্থ

যে সকল পদার্থকে  রাষায়নিক ভাবে বিশ্লেষন করলে ঐ পদার্থ ছাডা পৃথক ধর্ম  বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বলে। যেমন– কার্বন, হাইড্রোজেন, লৌহ ইত্যাদি। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মৌলের সংখ্যা ১১৮টি। সর্বশেষ মৌলটির নাম আনআনোক্টিয়াম (ununoctium)। এর ভিতরে ৯৮টি প্রাকৃতিক পৃথিবীতে পাওয়া যায়। এর ভিতর ৮০টি মৌলের স্থায়ী রূপ আছে।

আধুনিক মতবাদ অনুসারে, প্রত্যেক মৌলের সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত পরমাণু থাকে। পরমাণুর বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়, এর তিনটি উপাদানের বিচারে। এই উপাদান তিনটি হলো— ইলেক্ট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। পরমাণুর কেন্দ্রীয় অংশকে সাধারণভাবে বলা হয় নিউক্লিয়াস। সাধারণভাবে মৌলিক পদার্থকে ভৌত রূপ অনুসারে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। এই ভাগ দুটি হলো— ধাতু (লৌহ, ক্রোমিয়াম, সোনা ইত্যাদি) ও অধাতু (হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, কার্বন  ইত্যাদি)।

পদার্থের তাপীয় প্রসারণ

পদার্থের তাপীয় প্রসারণ

প্রায় সকল পদার্থই তাপ প্রয়োগে প্রসারিত হয় আর তাপ অপসারণে সংকুচিত হয়। যখন কোনো বস্তু উত্তপ্ত হয়, তখন বস্তুটির প্রত্যেক অণুর তাপশক্তি তথা গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। কঠিন পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক বলের বিপরীতে অণুগুলো আরো বর্ধিত শক্তিতে স্পন্দিত হতে থাকে ফলে সাম্যাবস্থা থেকে অণুগুলোর সরণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু কোনো অণু এর সাম্যাবস্থা থেকে সরে যাবার সময় টান অনুভব করে। অর্থাৎ, অণুটি যখন পার্শ¦বর্তী অণুর কাছাকাছি যেতে চায় তখন বিকর্ষণ অনুভব করে। আবার আন্তঃআণবিক দূরত্ব যখন বৃদ্ধি পায় তখন আকর্ষণ অনুভব করে।পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক বলের প্রভাব কম বলে তাপের কারণে এর প্রসারণ বেশি হয়। বায়বীয় পদার্থের বেলায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে অণুগুলোর  ছুটাছুটি বৃদ্ধি পায়। তাপীয় প্রসারণ গ্যাসীয় পদার্থে সবচেয়ে বেশি, তরলে তার চেয়ে কম এবং কঠিন পদার্থে সবচেয়ে কম। 

বরফের ঘনত্ব তরল পানির তুলোনায় কম এবং আয়তন বেশি। বরফকে উত্তপ্ত করে পানিতে পরিণত করলে  ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় ফলে আয়তন হ্রাস পায়।

আবার,কিছু কিছু কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় তাদের ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। আয়োডিন, কর্পূর,নিশাদল- এগুলোকে তাপ দিলে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় তাই এদের  ঊর্ধ্বপাতিত বস্তু বলা হয়।

আবার চাপ অপসারণে এর বিপরীত ঘটনা ঘটে।কেননা,তখন পদার্থের অনুগুলোর ছোটাছোটি হ্রাস পায় এবং বস্তু বায়বীয় থেকে তরল ও তরল থেকে কঠিনে রূপান্তরিত হয়। উল্লেখ্য,নির্দিষ্ট চাপে কোন তরল পদার্থ যে তাপমাত্রায় জমতে শুরু করে সে তাপমাত্রাকে বলা হয় হিমাংক।আর  নির্দিষ্ট চাপে কোন কঠিন  পদার্থ যে তাপমাত্রায় গলতে  শুরু করে সে তাপমাত্রাকে পদার্থের গলনাংক বলা হয়।আর নির্দিষ্ট চাপে কোন তরল পদার্থ যে তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করে সে তাপমাত্রাকে পদার্থের স্ফুটনাংক বলা হয়।এগুলো পদার্থের ভৌত অবস্থা।কেননা,এক্ষেত্রে পদার্থের অভ্যন্তরীণ গঠনের কোন পরিবর্তন হয় না। 

ওয়াটার গ্যাস

ওয়াটার গ্যাস প্রস্তুত হয় সমআয়তন হাইড্রোজেন ও কার্বন মনো অক্সাইডের মিশ্রণে ।

লাল উত্তপ্ত কোক কার্বন এর উপর বাস্প চালনা করলে ওয়াটার গ্যাস প্রস্তত হয় ।

বিক্রিয়াটি নিন্মে দেয়া হল -

H2O + C → H2 + CO (ΔH = +131 kJ/mol)

কোয়ার্টজ ঘড়ি

কোয়ার্টজ কি :

কোয়ার্টজ একটি সিলিকন ডাইঅক্সাইড বা সিলিকার ক্রিস্টাল ।এর একটি নির্দিষ্ট আকার এবং আকৃতির কম্পন সেকেন্ডে ৩২৭৬৮ বার। অবশ্যই এই কম্পন দেয়ার জন্য এতে ব্যাটারির সংযোগ দিতে হবে। একটা 'কাউন্টার' কম্পন ৩২৭৬৮ বার হলে তা গণনা করে এবং ঘড়ির সেকেন্ড নির্দেশক কাঁটায় সংকেত পাঠিয়ে দেয়। এভাবেই তা ঘড়িতে সঠিকভাবে ১ সেকেন্ডের সংকেত দেয়।   

ঘড়িতে এটি যেভাবে কাজ করে :

ঘড়ির সময় নির্ধারণের জন্য ঘড়ির ভিতর অবশ্যই এমন কিছু থাকা লাগবে যা বলে দিবে এক সেকেন্ড সময় পার হয়েছে।এক্ষেত্রে 'টাইমার'ই ঘড়ির এক সেকেন্ড সময় বলে দেয়। ঘড়ি এই টাইমিং পায় কোয়ার্টজ ক্রিস্টাল দিয়ে বানানো অসিলেটর (কম্পন দেয় যে সিসটেম) থেকেই এবং এটি পরিবর্তিত হয়ে সেকেন্ড নির্দেশক কাঁটায় চলে আসে। এভাবে একটা ঘড়ি কাজ করে।  

নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড

নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ যার প্রতীক NO2 । ইহা নাইট্রোজেন এর কতিপয় অক্সাইডের মধ্যে অন্যতম ।নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস।  প্রতিবছর এটি শিল্প কারখানায় কয়েক লক্ষ টন উৎপাদন করা হয়।

ইহা একটি  লালচে বাদামী বর্ণের বিষাক্ত গ্যাস যা বায়ু দূষণের অন্যতম কারন হিসাবে চিহ্নিত করা হয় ।

ইহা নাইট্রিক অক্সাইডের অক্সিডেশন এর মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয় ।

নিন্মে এর বিক্রিয়া দেয়া হল -

2NO+O2 → 2NO2

ক্লোরিন

ক্লোরিন একটি রাসায়নিক উপাদান যার প্রতীক Cl  এবং পারমানবিক সংখ্যা ১৭ । এটি হ্যালোজেন গ্রুপ এর অন্তর্ভুক্ত যা দেখতে কিছুটা হলুদাভ-সবুজ রং এর হয় ।এটি অত্যন্ত শক্তিশালী জারক এবং অক্সিজেন এর প্রতি প্রচন্ড আসক্তি রয়েছে । এ কারনে মুক্ত ক্লোরিন পৃথিবিতে দুর্লভ ।

ক্লোরিন পানিতে স্বল্প পরিমাণে দ্রবণীয় । পানিতে ক্লোরিন দ্রবীভূত করলে তখন এটাকে বলা হয় ক্লোরিন পানি। পানির মধ্যে ক্লোরিন গ্যাস দ্রবীভূত করলে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড তৈরি করে। এই হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড আবার বিযোজিত হয়ে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও জাইমান অক্সিজেন তৈরি করে [O]।

এর বিক্রিয়াটি নিন্মে দেয়া হল-  

Cl2+H2O→2HCl+[O]

ক্লোরিন পানির ব্যবহার :

-উৎপন্ন জাইমান অক্সিজেন পানির মধ্যকার জীবাণুগুলো মেরে ফেলে।

-এই জাইমান অক্সিজেন বিরঞ্জন ক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয় ।

পৃথিবী তৈরির প্রধান উপাদান

আকৃতি

পৃথিবী দেখতে পুরোপুরি গোলাকার নয়, বরং কমলালেবুর মত উপর ও নিচের দিকে কিছুটা চাপা এবং মধ্যভাগ (নিরক্ষরেখার কাছাকাছি) স্ফীত। এ'ধরণের স্ফীতি তৈরি হয়েছে নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে এর ঘূর্ণনের কারণে। একই কারণে বিষুব অঞ্চলীয় ব্যাস মেরু অঞ্চলীয় ব্যাসের তুলনায় প্রায় ৪৩ কিমি. বেশি।

রাসায়নিক গঠন

পৃথিবীর ভর প্রায় ৫.৯৮×১০২৪ কিগ্রাঃ। এর প্রায় ৩২.১% লৌহ, ৩০.১% অক্সিজেন, ১৫.১% সিলিকন, ১৩.৯% ম্যাগনেসিয়াম, ২.৯% সালফার, ১.৮% নিকেল, ১.৪% অ্যালুমিনিয়াম এবং বাকী ১.২% অন্যান্য পদার্থ দ্বারা গঠিত। তবে পৃথিবীর কেন্দ্রভাগের গঠন কিছুটা ভিন্ন; এর প্রায় ৮৮.৮% ভাগই লৌহ। এছাড়া আছে নিকেল (৫.৮%) ও সালফার (৪.৫%)।

ভর হিসেবে এটি বিশ্বের অষ্টম সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল তবে এটি প্রকৃতিতে খুব কমই বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এটি মূলত ধুলি, বালি গ্রহাণুপুঞ্জ এবং গ্রহসমুহে সিলিকনের অক্সাইড (সিলিকা) বা সিলিকেট আকারে থাকে। পৃথিবীর ভূত্বকের প্রায় ৯০% সিলিকেট যৌগে গঠিত।

বায়োগ্যাস

বায়োগ্যাস

গোবর, পশু-পাখি ও মানুষের বর্জ্য, আবর্জনা, কচুরিপানাসহ যে কোনো ধরনের পচনশীল জৈব পদার্থ বাতাসের অনুপস্থিতিতে জীবাণু (যেমন- ব্যাকটেরিয়া) এর দ্বারা পচনের ফলে যে বর্ণহীন জ্বালানী উৎপন্নহয় তার নাম বায়োগ্যাস। এর প্রধান উপাদান হচ্ছে মিথেন। এছাড়াও এতে ৫৫-৬৫ শতাংশ মিথেন এবং ৩০-৪০ শতাংশ কার্বন-ডাই অক্সাইড থাকে। এতে ৬০/৭০ ভাগ জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয়ে অবশিষ্ট অংশ উন্নতমানের জৈবসার হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, ৭-৮ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের জন্য ৫-৬ টি মাঝারি আকারের গরুর দৈনন্দিন গোবর থেকে ১০৫ ঘনফুট গ্রাস উৎপাদন সম্ভব যা দিয়ে তিন বেলার রান্না-বান্না সহ একটি ম্যান্টেল বাতি জ্বালানো যাবে।বায়োগ্যাস ব্যবহার এবং উৎপাদনে গণচীন সবচেয়ে এগিয়ে আছ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও বায়োগ্যাসের প্রচলন রয়েছে।

ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়া

গোবর, পশু-পাখি ও মানুষের বর্জ্য, আবর্জনা, কচুরিপানাসহ যে কোনো ধরনের পচনশীল জৈব পদার্থ বাতাসের অনুপস্থিতিতে জীবাণু (যেমন- ব্যাকটেরিয়া) এর দ্বারা পচনের ফলে যে বর্ণহীন জ্বালানী উৎপন্নহয় তার নাম বায়োগ্যাস। এর প্রধান উপাদান হচ্ছে মিথেন।প্রানীর মলমূত্র, পাতা, খড়কুটা প্রভৃতি পদার্থ পানিতে মিশিয়ে বাতাসের অনুপস্থিতিতে রাখলে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে এর ফারমেন্টেশন বা গাজন প্রক্রিয়া ঘটে। এছাড়াও এতে ৫৫-৬৫ শতাংশ মিথেন এবং ৩০-৪০ শতাংশ কার্বন-ডাই অক্সাইড থাকে। এতে ৬০/৭০ ভাগ জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয়ে অবশিষ্ট অংশ উন্নতমানের জৈবসার হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

বায়োগ্যাসের কাঁচামাল

বায়োগ্যাসের কাঁচামাল

গোবর, পশু-পাখি ও মানুষের বর্জ্য, আবর্জনা, কচুরিপানাসহ যে কোনো ধরনের পচনশীল জৈব পদার্থ বাতাসের অনুপস্থিতিতে জীবাণু (যেমন- ব্যাকটেরিয়া) এর দ্বারা পচনের ফলে যে বর্ণহীন জ্বালানী উৎপন্নহয় তার নাম বায়োগ্যাস। এর প্রধান উপাদান হচ্ছে মিথেন।

সাধারণত পচনশীল যে কোনো বস্তু থেকেই বায়োগ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব।যেমনঃ

  • যেকোনো প্রাণীর মলমূত্র (মানুষ, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাস, মুরগী ইত্যাদি)। তবে প্রধানত গোবর এবং পানি ২:১ পরিমাণে মেশানো হয়।
  • তরি-তরকারি, ফল-মূল ও মাছ-মাংসের ফেলনা অংশ
  • লতাপাতা, বিভিন্ন আবর্জনা ও কচুরিপানা

সিলিন্ডার গ্যাস

সিলিন্ডার গ্যাস

প্রাকৃতিক গ্যাস সাধারণ চাপ ও তাপমাত্রায় গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে।শীতলকরণ (refrigeration) প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের তাপমাত্রা কমিয়ে -১৬০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নামিয়ে আনলে গ্যাস তরলে পরিণত হয়। এই তরল প্রাকৃতিক গ্যাসকেই এলএনজি বা সিলিন্ডার গ্যাস বলা হয়। সিলিন্ডার গ্যাসের প্রধান উপাদান হচ্ছেমিথেন। প্রাকৃতিক গ্যাসকে এলএনজিতে রূপান্তরিত করার সময় মিথেন বাদে অন্যান্য অনাকাংক্ষিত উপাদান যেমন ধূলিকণা, এসিড গ্যাস, হিলিয়াম,পানি, অপেক্ষাকৃত ভারী হাইড্রোকার্বন, নাইট্রোজেন ইত্যাদি দূর করা হয়, যার কারণে অন্য অনেক জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে এলএনজি ব্যবহারে দূষণ কম হয়।

প্রাকৃতিক গ্যাস

প্রাকৃতিক গ্যাস

প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ। ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুর সর্বপ্রথম গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। ১৯৫৭ সালে এই গ্যাস ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের জ্বালানী চাহিদার প্রায় ৭৬ ভাগ পূরণ করে। দেশে মোট আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্রের সংখ্যা ২৫টি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সিলেটের হরিপুর, সুমাগঞ্জের ছাতক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস, কুমিল্লার বাখরাবাদ, চট্টগ্রামের কুতুবদিয়া ইত্যাদি। গ্যাস সম্পদের অনুসন্ধান এবং দ্রুত সম্প্রসারণের ১৯৮৮ সালে সারা দেশকে ২৩টি ব্লকে ভাগ করা হয়। ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭৪৩.৫৭ বিলিয়ন ঘনফুট এবং ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩৩২.০৭ বিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে ১৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের ৮৩টি কুপ থেকে গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

অম্ল ও এর তিব্রতা

আম্ল-

অম্ল হচ্ছে একটি রাসায়নিক পদার্থ। যৌগের অণুতে এক বা একাধিক প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে এবং ঐ প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেনকে ধাতু বা যৌগমূলক দ্বারা আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে প্রতিস্থাপিত করা যায় এবং যা ক্ষারকের সাথে প্রশমন বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে অম্ল বা এসিড (Acid) বলে।Acid শব্দটির উৎপত্তি এসিডাস (Acidus) কিংবা এসিয়ার হতে; যার অর্থ টক। টক স্বাদযুক্ত সব বস্তুর মধ্যে এসিড থাকে। তেঁতুল, লেবু প্রভৃতিতে জৈব এসিড বিদ্যমান। এসকল এসিড অতি অল্প পরিমাণে থাকে বলে ক্ষতিকারক নয়। কিন্তু পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত এসিড (যেমন : হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড ইত্যাদি) অত্যন্ত তীব্র। এগুলোকে অজৈব বা খনিজ এসিড বলে।

অম্ল চেনার উপায় -

প্রত্যেক এসিডে প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন থাকে। এটি প্রতিটি এসিডের একটি সাধারণ মৌলিক পদার্থ। যদি কোনো যৌগের জলীয় দ্রবণে নীল লিটমাসকে লাল করে তবে তা এসিড। যেমন : হাইড্রোক্লোরিক এসিড ( HCl), সালফিউরিক এসিড ( H2SO4) প্রভৃতি এসিডের সংকেত থেকে দেখা যাচ্ছে যে, এদের মধ্যে সাধারণ মৌলিক পদার্থ হাইড্রোজেন ( H)। এভাবে এসিডসমূহকে সহজভাবে চেনা যেতে পারে।

আম্লের তিব্রতা-

যে আম্ল যত সহজে  কোন দ্রাবকে প্রোটন ( H+) দান করতে পারে তাই  ঐ আম্লের তিব্রতা নির্দেশ করে । জৈব এসিড সমূহ অজৈব এসিড হতে আনেক দুর্বল হয় । হাইড্রাসিড সমূহের তিব্রতা ঐ অনুর হাইড্রজেন আয়ন এর উপর নির্ভর করে-

HI>HBr>HCl

অক্সি এসিড সমূহ তাদের কেন্দ্রের ধনাত্নক জারন সংখ্যার উপর নির্ভর করে -

   +7          +6      +5

HClO4>H2SO4>HNO3

ড্রাই আইস

 শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে (−56.4 °C তাপমাত্রা এবং 5.13 atm চাপে) গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস বলে।

 ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মত দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই সাদা ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাহিত এই কুয়াশাটা অনেক ভারী হয়, তাই এটি পাত্রের নিচে জমা হয়, তাই দেখা যায় এটি ফ্লোর ঘেঁষে ঘেঁষে উড়ছে।

কার্বন ডাই অক্সাইডের ব্যবহার

কার্বন ডাই অক্সাইডের ব্যবহার :

-ড্রাই আইস তৈরিতে 

-কোমল পানীয় তৈরিতে

-অগ্নি নির্বাপক হিসাবে

-হিমাগারে হিমকারক বস্তু হিসাবে

লোহিত ফসফরাস

ফসফরাস আবিষ্কৃত মৌলগুলোর মধ্যে ১৫ তম। একারনে এবং বিস্ফোরক, বিষ ও নার্ভ এজেন্ট তৈরিতে এটি ব্যবহারের কারনে একে প্রায়ই শয়তানের মৌল নামে ডাকা হয়। ফসফরাস আবিস্কারের কৃতিত্ব জার্মান আলকেমিস্ট হেনিগ ব্রান্ডকে দেয়া হয় যিনি ১৬৬৯ সালে এটি আবিস্কার করেন, যদিও অন্যান্য কেমিস্টরাও কাছাকাছি সময়ে হয়ত ফসফরাস আবিস্কার করে থাকতে পারেন।

 

ফসফরাস একটি বহুরূপী মৌল এর দুইটি প্রধান রূপ হল লোহিত ফসফরাস শ্বেত ফসফরাস এছাড়া কালো ফসফরাস নামক আরেকটি রূপভেদ আছে। সব অবস্থায় লোহিত ফসফরাস অধিক সুস্থীত বা স্থায়ী ।

 

শ্বেত ফসফরাস -

ফসফরাসের সকল গঠনগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমনকি রসায়ন শিল্পেও সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শ্বেত ফসফরাস। এটি চারটি ফসফরাস নিয়ে গঠিত যার প্রত্যেকটি ফসফরাস অন্য তিনটি ফসফরাসের সাথে একক বন্ধন বা সিগমা বন্ধন দ্বারা আবদ্ধ হয়। কঠিন শ্বেত ফসফরাসকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। নিম্ন তাপমাত্রায় এর β রূপ ও উচ্চ তাপমাত্রায় এর α রূপ বিদ্যমান।

শ্বেত ফসফরাস,ফসফরাসের সকল গঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্থিতিশীল, বিষাক্ত ও সক্রিয়। শ্বেত ফসফরাস ধীরে ধীরে লোহিত ফসফরাসে পরিণত হয়। এই রূপান্তরকে আলো,তাপমাত্রা গতিশীল করে এবং শ্বেত ফসফরাসের মূল গঠনে লোহিত ফসফরাস মিশ্রিত থাকে বলে এটিকে হলুদ দেখায়। তাই,একে হলুদ ফসফরাসও বলা হয়। এই কারণে এটিকে সবসময় অবিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

শ্বেত ফসফরাস অক্সিজেনের উপস্থিতিতে জ্বলে উঠে এবং এসময় এর বর্ণ কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে সবুজ ও নীল হয়ে যায়। এটি খুবই প্রজ্বলনীয় ও বিষাক্ত। P4O10 যৌগটির রসুনের মত গন্ধ থাকে। তাপপ্রয়োগে এটি কঠিন বা তরল হিসেবে থাকে না। অনেকটা নাইট্রোজেনের সদৃশ হয়ে যায়।

 

লোহিত ফসফরাস -

লোহিত ফসফরাস গঠনের দিক থেকে একাধিক ফসফরাস নিয়ে গঠিত হয়। প্রায় ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শ্বেত ফসফরাসকে উত্তপ্ত করে অথবা প্রখর সূর্যালোকে রেখে দিলে লোহিত ফসফরাস পাওয়া যায়। এমনভাবে বিক্রিয়ার পর এটি নিরাকার হয়ে যায়। আবার উত্তপ্ত করলে এটি স্ফটিকে পরিণত হয়। এসব বিবেচনা করলে এটিকে ফসফরাসের গঠন বলা যায় না। তবে,শ্বেত ফসফরাসের প্রাথমিক দশা ও বেগুনি ফসফরাসের মধ্যবর্তী সতয় এর আধিক্যের কারণে একে ফসফরাসের অন্যদিকে গঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, উজ্জ্বল ও ফ্রেশলি প্রস্তুত একটি লোহিত ফসফরাস অনেক সক্রিয় ..এমনকি ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এটি শ্বেত ফসফরাসের থেকেও স্থিতিশীল। এটি বায়ুর সাথে দহনে শ্বেত ফসফরাসের মত জ্বলে উঠে না।

বেগুনি ফসফরাস বেগুনী ফসফরাস, ফসফরাসের একটি গঠন। লোহিত ফসফরাসকে প্রায় ৫৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রার উপরে উত্তপ্ত করলে এটি বেগুনি ফসফরাস হয়ে যায়। ১৮৬৫ সালে,হিট্রোফ আবিষ্কার করেন যে,যখন ফসফরাসের স্ফটিককে তাপ দেওয়া হয় তখন এটি লাল/রক্তবর্ণ হয়ে যায়। এটিকে তাই অনেকসময় #হিট্রোফ_ফসফরাসও বলা হয়।

কাল ফসফরাস কাল ফসফরাস সবথেকে নিষ্ক্রিয় ফসফরাসের অন্য গঠনগুলো থেকে। এটিকে β-metallic ফসফরাসও বলা হয়। সাধারণত এটি উৎপন্ন করতে উচ্চ তাপের প্রয়োজন হলেও এটিকে ধাতব লবনের থেকে স্ফটিক হিসেবে উৎপন্ন করা যায়।

 

ব্যবহার -

ঘর্ষন দিয়াশলাই প্রস্তুতিতে শ্বেত ফসফরাস ব্যাবহার করা হয়। যুদ্ধকালে ধুম্রজাল, হাতবোমা ও আগুনে বোমা তৈরীতে শ্বেত ফসফরাস ব্যাবহার করা হয় ফসফর ব্রোন্জ নামক সংকর ধাতু ও কীটনাশক তৈরীতে ফসফরাস ব্যাবহার করা হয়।

ক্যালসিয়াম কার্বনেট

ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaCO3। এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস,শামুক,ডিমের খোসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।কৃষিজ চুনায় এটা একটি সক্রিয় উপাদান,যা ক্যালসিয়াম আয়ন ও জলের সাথে বিক্রিয়া করে সৃস্টি হয়। এটি পানিতে আদ্রবনীয় । এটা চিকিৎসা ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা অ্যান্টাসিড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।  তবে অত্যধিক ব্যবহার বিপজ্জনক।সাধারণ অবস্থায় CaCO3 এর গঠণ ষড়ভূ্য আকৃতির β-CaCO3, (খনিজ ক্যালসাইট)

বায়ুমণ্ডল

পৃথিবীর চারপাশে ঘিরে থাকা বিভিন্ন গ্যাস মিশ্রিত স্তরকে যা পৃথিবী তার মধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা ধরে রাখে তাকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বা আবহমণ্ডল বলে।এই বায়ুমন্ডল সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব রক্ষা করে।এছাড়ও তাপ ধরে রাখার মাধ্যমে (গ্রীনহাউজ প্রতিক্রিয়া) ভূপৃষ্টকে উওপ্ত করে এবং দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা হ্রাস করে।

শ্বাস-প্রশ্বাস ও সালোকসংশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত বায়ুমন্ডলীয় গ্যাসসমূহের প্রদত্ত প্রচলিত নাম বায়ু বা বাতাস।পরিমাণের দিক থেকে শুষ্ক বাতাসে ৭৮.০৯% নাইট্রোজেন,২০.৯৫% অক্সিজেন, ০.৯৩% আর্গন,০.০৩৯% কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং সামান্য পরিমাণে অন্যান্য গ্যাস থাকে।বাতাসে এছাড়াও পরিবর্তনশীল পরিমাণ জলীয় বাষ্প রয়েছে যার গড় প্রায় ১%।

ব্রোমিন

ব্রোমিন একটি অধাতু । এটি হ্যালোজেন গ্রুপের অর্ন্তভূক্ত । ব্রোমিন রাসায়নিক সংকেত Br পারমাণবিক সংখ্যা ৩৫ । কক্ষ তাপমাত্রায় এটি তরল অবস্থায় থাকে । খুব সক্রিয় বলে প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না ।

রাজ অম্ল

১:৩ আয়তনিক অনুপাতে গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) ও গাঢ় নাইট্রিক এসিডের (HNO3) মিশ্রণকে রাজাম্ল বা অম্লরাজ বা একুয়া রেজিয়া বলে। সোনা, রূপা, ইরিডিয়াম বা প্লাটিনামের মত অভিজাত ধাতুগুলোকে যেকোন ঘণমাত্রার কোন তীব্র এসিড দ্বারাও দ্রবীভূত করা যায় না। কিন্তু একুয়া রেজিয়া সহজেই এই অভিজাত ধাতুগুলোকে দ্রবীভূত করতে পারে।

ব্যবহার-স্বর্ণের খাদ বের করার জন্য একুয়া রেজিয়া ব্যাবহার করা হয়

দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া

দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার অন্তর্গত ৯নং হামিদপুর ইউনিয়নে ভবানীপুর বাজার হইতে দক্ষিণে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি অবস্থিত। এখানে সবচেয়ে দামী বিটুমিনাস কয়লা উত্তোলন করা হয়। এই কয়লা খনি থেকে বার্ষিক ১০ লক্ষ মেট্রিক টন বিটুমিনাস কয়লা উৎপাদন করা হয়। গত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এই খনি থেকে ৯,৩৩,০০০ মেট্রিন টন বিটুমিনাস কয়লা উত্তোলিত হয়  এবং সেগুলো বিক্রয় করে ৮৯৮ কোটি টাকা আয় হয়। আয়কৃত টাকা থেকে ৩০২ কোটি টাকা সরকারী কোষাগারে জমা হয়। উত্তোলিত কয়লা দেশের বিভ্ন্নি জায়গায় রপ্তানী করার পর স্থানীয় বিভিন্ন শিল্প কারখানায় বিক্রয় করা হয। বড়পুকুরিয়া খয়লাখনির কয়লা দ্বারা খনি সংলগ্ন স্থানে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নামে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে উত্তোলিত কয়লা দ্বারা ৪৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা হচ্ছে ।

বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর কি গ্যাস সাধারনত ব্যাবহার করা হয়

সাধারণত বিদ্যুতিক বাল্বের জ্বলার সময় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় । এ বিপুল এ তাপে বাল্বের ফিলামেন্ট যাতে জারিত হয়ে না যায় তাই এতে রাসায়নিক ভাবে নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয় ।  টাংস্টেনের ফিলামেন্ট যুক্ত সাধারণ ইলেকট্রিক বাল্বে নিষ্ক্রিয় নাইট্রোজেন ব্যবহার করা হয় । নিয়ন বাতিতে "নিয়ন" গ্যাস এবং সোডিয়াম বাতিতে সোডিয়াম ও নিয়ন উভয় গ্যাস ব্যবহার করা হয় ।

ইউরিয়া

ইউরিয়া (ইংরেজি: Urea) বা কার্ব্যামাইড (Carbamide) একটি জৈব যৌগ যার রাসায়নিক সংকেত (NH2)2CO। ইউরিয়ার অণুতে দুইটি অ্যামাইন (-NH2) অবশেষ একটি কার্বনিল (-CO-)ফাংশনাল গ্রুপ দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে।

স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মূত্রে নাইট্রোজেনধারী যৌগের মধ্যে ইউরিয়া প্রধান। ইউরিয়া কঠিন, বর্ণহীন, গন্ধহীন, ক্ষারধর্মী নয়, অম্লধর্মী নয়, পানিতে অতি সহজে দ্রাব্য এবং তুলনামূলকভাবে অবিষাক্ত। এ কারণে নাইট্রোজেনের উৎস হিসেবে এটিকে ব্যাপকভাবে সারে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া রাসায়নিক শিল্পে ইউরিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিডস্টক (feedstock) হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

রাসায়নিক সংকেত

১.ভিট্রিওল -

রসায়নে ভিট্রিওল  ধাতুর সালফেট এর একটি প্রাচিন নাম । ক্রিস্টাল অবস্থায় ধাতুর সালফেটগুল দেখতে রঙ্গিন কাচের সদৃশ ।

নীল ভিট্রিওল বা তুতে - কপার(।।) সালফেট ; সংকেত - CuSO4.5H2O

সবুজ ভিট্রিওল - আয়রন(।।) সালফেট ; সংকেত -  FeSO4.7H2O

সাদা ভিট্রিওল - জিংক সালফেট ; সংকেত -  ZnSO4.7H2O

২.লবণ -

রসায়নে এসিড ও ক্ষার এর বিক্রিয়ায় যা উৎপন্ন হয় তাকে লবণ বলে ।

খাবার লবণ - সোডিয়াম ক্লোরাইড ; সংকেত -  NaCl

মোর'স সল্ট - অ্যামোনিয়াম আয়রন(।।) সালফেট ; সংকেত -  (NH4)2Fe(SO4)2·6H2O

ইপসম - ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ; সংকেত -  MgSO4·7H2O

গ্লুবার লবণ - সোডিয়াম সালফেট ; সংকেত -  Na2SO4

ফিটকিরি - অ্যালুমিনিয়াম সালফেট ; সংকেত -  Al2(SO4)3

৩.কিছু প্রয়োজনীয় সংকেত -

নিশাদল বা কর্পুর=NH4Cl

চুন=CaCO3

মরিচা =Fe2O3.nH2O

কস্টিক সোডা=NaOH

কাপড় কাচা সোডা =NaCO3.10H2O

খাবার সোডা বা বেকিং পাউডার =NaHCO3

সোডা লাইম=NaOH.CaO

 লাফিং গ্যাস=N2O

গ্লুকোজ=C6H12O6

কাঁদুনে গ্যাস=CCl3NO2

নীরব ঘাতক=CO

ব্লিচিং পাউডার = Ca(OCl)Cl

স্মেলিং সল্ট = (NH4)2CO3

লেড অক্সাইড

লেড বা সীসা হল একটি মৌলিক পদার্থ যার রাসায়নিক সংকেত Pb এবং পরমানবিক সংখ্যা ৮২। সীসা নরম ধাতু যা ছুরির সাহায্যে কাটা যায়।লেডের অক্সাইডগুলর মধ্যে

লেড(II,IV)অক্সাইড অন্যতম ।একে রেড লেড ও বলে । এর রং অনেকটা উজ্জ্বল লাল বা কমলা । সংকেত Pb3O4 । 

সিএনজি গ্যাস

সিএনজি গ্যাস

শীতলকরণ (refrigeration) প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের তাপমাত্রা কমিয়ে -১৬০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নামিয়ে আনলে গ্যাস তরলে পরিণত হয়। এই তরল প্রাকৃতিক গ্যাসই এলএনজি । অন্যদিকে সিএনজি মানে হচ্ছে কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস। এটাও মিথেন কিন্তু এলএনজির মত তরল অবস্থায় থাকে না,  গ্যাসকে কেবল প্রচন্ড চাপে সংকুচিত (কম্প্রেস) করা হয় যাতে অনেক বেশি গ্যাস ছোট একটা সিলিন্ডারে জমা করে রাখা যায়। যাকে সিলিন্ডার  গ্যাস বলা হয়। পরিবহনের সুবিধার্থে এক বায়ুমন্ডলীয় চাপে এলএনজি তৈরি করা হয়। সিলিন্ডার গ্যাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে মিথেন। বর্তমানে গৃহস্থালির কাজে এলপি গ্যাসের চাহিদা এক লাখ টন, আগামীতে এই চাহিদা আরও বাড়বে। বর্তমানে সিএনজি চালিত ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসাবেও  ব্যবহার করা হয়,  সিএনজি চালিত অটো রিকশা ও অন্য গাড়ি পরিবেশ বান্ধব

সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও তাদের ব্যবহার

সংকর ধাতুর সংযুক্তি 

 বিভিন্ন প্রকার সংকর ধাতু,তাদের সংযুক্তি ও ব্যবহারঃ

ধাতু উপাদান ও সংযুক্তি ব্যবহার 
22 ক্যারট স্বর্ণ 91.67% স্বর্ণ, 8.33% কপারসহ অন্নান্য ধাতু।   অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।
21 ক্যারট স্বর্ণ

87.5% স্বর্ণ, 12.5% কপারসহ অন্নান্য ধাতু।

 অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।
 24 ক্যারট স্বর্ণ 100% স্বর্ণ  অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।
ডুরালামিন   আ্যলুমিনিয়াম 95%,কপার 4%,লোহা 1%   উড়োজাহাজের বডি, বাইসাইকেলের পার্টস ইত্যাদি। 
কাসা(ব্রোঞ্জ)     কপার 90%, টিন 10%  ধাতু গলানো, যন্ত্রাংশ, থালা, গরাস ইত্যাদি। 
পিতল(ব্রাস)   কপার 65%,জিংক 35%,  অলঙ্কার,বিয়ারিং,বৈদ্যুতিক সুইচ,দরজার হাতল।
স্টেইনলেস স্টিল    লোহা  74%,  ক্রোমিয়াম 18%,  নিকেল 8%,  ছুরি,কাটাচামচ,পাকঘরের সিঙ্ক,রসায়ন  শিল্পের বিক্রিয়া পাত্র,অস্ত্রোপাচারের যন্ত্রপাতি। 
স্টিল   

লোহা 99%,সাধারণত কার্বন 1% বা .১৫-১.৫%। 

রেলের লাইন,ইঞ্জিন,জাহাজ,যানবাহন,ছুরি,কাঁচি,ঘড়ির স্প্রিং, ক্রেইন,যুদ্ধাস্ত্র,চুম্বক,কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ।
 

আকরিক

 

ধাতু                                  আকরিক


মার্কারী                             সিন্নাবার HgS


জিংক                                জিংক ব্লেন্ড ZnS

                                        ক্যালামাইন  ZnCO_3


লেড                                   গ্যালেনা PbS


আয়রন                               ম্যাগনেটাইট Fe_3O_4

                                         হেমাটাইট Fe_2O_3

                                         লিমোনাইট Fe_2O_3.3H_2O


কপার                                  কপার পাইরাইট CuFeS_2

                                           চেলকোসাইট  Cu_2S


আ্যলুমিনিয়াম                           বক্সাইট Al_2O_3.2H_2O


সোডিয়াম                                 সাগরের পানি NaCl


ক্যালসিয়াম                               চুনাপাথর CaCO_3

                                              ডলোমাইট CaMg(CO3)2


মেঙ্গানিজ                                   পাইরোলুসাইট MnO₂  

প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার

প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার 

প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায় ভূগর্ভ থেকে। সুগভীর কূপ খনন করে ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করা হয়। পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচণ্ড তাপ এবং চাপে প্রাকৃতিক গ্যাস তৈরি হয়। পেট্রোলিয়াম কূপ থেকেও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন। এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। সহজলভ্যতা, ক্যালরিক মান উচ্চ এবং দহনে তেমন ধোঁয়া উৎপন্ন না হওয়ার কারণে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের বহুমাত্রিক ব্যবহার দেখা যায়। নিচে প্রাকৃতিক গ্যাসের কয়েকটি ব্যবহার উল্লেখ করা হলো—
১) বিদ্যুৎ উৎপাদনে: প্রাকৃতিক গ্যাসের মোট ব্যয়ের ৩৯ শতাংশ গ্যাস-বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয়।
২) শিল্পক্ষেত্রে: উৎপাদনশীল খাতে ১৭ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৩) সারকারখানায়: সার উৎপাদনে ১০ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৪) রান্নার কাজে: পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৫) CNG হিসেবে: প্রায় ৫ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস CNG হিসেবে জ্বালানিরূপে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অক্সিজেনঃঅক্সিজেন পর্যায় সারণির গ্রুপ ছ'য়ে ও পর্যায় দুইয়ে  অবস্থিত একটি মৌলিক গ্যাস,যার পারমাণবিক সংখ্যা ৮।আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রকেটের জ্বালানিতে,অক্সি-এসিটিলিন শিখা তৈরিতে,রোগীর শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন কাজে এটি ব্যবহার করা হয়।  

কার্বন ডাইঅক্সাইডঃকার্বন ডাইঅক্সাইড (রাসায়নিক সংকেত CO2) একটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক যৌগ যা দুইটি অক্সিজেন পরমাণু ও একটি কার্বন পরমাণু দিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি অক্সিজেন পরমাণু একটি কার্বন পরমাণুর সাথে দ্বি-বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে।এটা আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসীয় অবস্থায় বিরাজ করে।কার্বন ডাই-অক্সাইডকে অত্যাধিক চাপে তরল করে সোডা ওয়াটার তৈরি করা হয়।এছাড়া ড্রাই আইস তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।এছাড়া আগুন নিভাতে তরল কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহৃত হয়।

প্রাকৃতিক গ্যাস

প্রাকৃতিক গ্যাস 

প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায় ভূগর্ভ থেকে। সুগভীর কূপ খনন করে ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করা হয়।বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল উপাদান মিথেন।আমাদের দেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত নিম্নরূপ-

প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুপাত:-

১.Methane- 94.8%

২. Ethane- 2.9%

৩. Propane - 0.8%

৪. Butane 0.2%

৫. Carbon Di Oxide- 0.1%

৬. nitrogen 1.2%

Total- 100%

পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচণ্ড তাপ এবং চাপে প্রাকৃতিক গ্যাস তৈরি হয়। পেট্রোলিয়াম কূপ থেকেও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। এর প্রধান গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মিথেন হলেও ইথেন, প্রোপেন ও অন্যান্য উপাদানও এতে বিদ্যমান থাকতে পারে। এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। সহজলভ্যতা, ক্যালরিক মান উচ্চ এবং দহনে তেমন ধোঁয়া উৎপন্ন না হওয়ার কারণে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের বহুমাত্রিক ব্যবহার দেখা যায়।

কয়লা

কয়লা

শক্তি উৎসসগুলোর মধ্যে কয়লার পরিচিত সবচেয়ে বেশি। কয়লা একটি জৈব পদার্থ। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে গাছের পাতা এবং কাণ্ড মাটির নিচে চাপা পড়ে রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কয়লায় পরিণত হয়।   

কার্বনই কয়লার মূল উপাদান।কার্বন সবচেয়ে বেশি আছে অ্যানথ্রাসাইট কয়লায় কয়লা থেকে জ্বালানি ছাড়াও বহু প্রয়োজনীয় পদার্থ তৈরি হয়। যেমন কোল গ্যাস, আলকাতরা, বেঞ্জিন, অ্যামোনিয়া, টলুয়িন প্রভৃতি। রান্না করতে এবং বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালাতে কয়লার প্রয়োজন হয়। আধুনিক কালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান উপাদান কয়লা।

 

মৌলের সক্রিয়তার ক্রম

ক্রিয়তার ক্রম : ধাতুসমূহকে তাদের সক্রিয়তা অনুসারে সাজালে যে সিরিজ পাওয়া যায় তাকে সক্রিয়তা ক্রম বা সক্রিয়তা সিরিজ বলা হয় । এই সিরিজের উপর থেকে নিচে গেলে মৌল সমূহের সক্রিয়তা হ্রাস পায়-

১.লিথিয়াম -Li

২.পটাসিয়াম-K

৩.ক্যালসিয়াম-Ca

৪.সোডিয়াম-Na

৫.ম্যাগনেসিয়াম-Mg

৬.অ্যালুমিনিয়াম-Al

৭.কার্বন-C

৮.জিংক-Zn

৯.আয়রন-Fe

৯.টিন-Sn

১০.লেড-Pb

১১.হাইড্রোজেন-H

১২.পারদ-Hg

১৩.সিলভার-Ag

১৪.প্লাটিনাল-Pt

১৫.স্বর্ণ -Au

 

কয়লা সম্পদ

কয়লা সম্পদ

বাংলাদেশের কয়লা সম্পদ তেমন উন্নত নয়। আমাদের দেশে যে কয়লা পাওয়া যায় তা অত্যন্ত নিম্নমানের। ফরিদপুরের বাসিয়া এবং চান্দাবিল ও খুলনার কুলাবিলে প্রচুর পীট জাতীয় কয়লা পাওয়া গেছে। পীট কয়লার বৈশিষ্ট্য হলো এটি ভিজা ও নরম। এছাড়াও রাজশাহী, নওগাঁ এবং সিলেটে বিটুমিনাস এবং লিগনাইট নামক উৎকৃষ্টমানের কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে। ১৯৮৬ সালে দিনাজপুর জেলার বড় পুকুরিয়া এলাকায় বিরাট কয়লা খনি আবিষ্কৃত হয়। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মোট ৫টি কয়লা ক্ষেত্রের কয়লা মজুদের পরিমাণ প্রায় ৩৩০০ মিলিয়ন টন, যা প্রায় ৪৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সমতুল্য। ২০১০-২০১১ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি ২০১২ পর্যন্ত মোট উত্তোলিত কয়লা ৩.৯৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন।

দেশে কয়লার ব্যবহার

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ওপর নির্ভর করে এর পাশেই ২৫০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। নানা কারিগরী জটিলতায় কয়লা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষিতে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুত প্ল্যান্টের উৎপাদনও মাঝে মাঝে বিঘ্নিত হয়। সড়ক ও নৌপথে আমদানী করা কয়লা প্রধানতঃ দেশের ইটের ভাটায় ব্যবহৃত হয়। কয়লা নির্ভরযোগ্য জ্বালানী হিসেবে অন্যান্য শিল্প কারখানাতেও ব্যবহৃত হয়। নিশ্চিত ও সুলভে পাওয়া গেলে এদেশেও বিভিন্ন শিল্পে কয়লা ব্যবহৃত হবে।

জীবাশ্ম জ্বালানি

জীবাশ্ম জ্বালানি

জীবাশ্ম জ্বালানি হল এক প্রকার জ্বালানি যা অবাত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে এ জ্বালানি তৈরি হয়। এ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি তৈরি হতে মিলিয়ন বছর লাগে, সাধারণত ৬৫০ মিলিয়ন বছর। জীবাশ্ম জ্বালানিতে উচ্চ পরিমাণে কার্বন থাকে। কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানি।

জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ খুব বেশি ঘটে। গাড়ি, এরোপ্লেন, জাহাজ ও ট্রেন চালাতে যে জ্বালানি ব্যবহৃত হয় তা প্রধানত জীবাশ্ম জ্বালানি (খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস)।

পেট্রল বা কেরোসিন আগুন

পেট্রল বা কেরোসিন পানির চেয়ে হালকা, তেল আর পানি মিশে না।  কেরোসিন বা পেট্রোলে পানি ঢাললে পানি নিচে চলে যায় এবং তেল পানির ওপরে উঠে যায়, সঙ্গে আগুন আরো জোরে জ্বলে। সেজন্য পানি দ্বারা পেট্রোলের আগুন নেভানো যায় না, পানির পরিবর্তে বালি ছিটিয়ে দিলে পেট্রোল বাতাসের সংস্পর্শে আসতে পারে না এবং অক্সিজেনের অভাবে নিভে যায়। এজন্য পানির পরিবর্তে বালি দিয়ে পেট্রোলের আগুন নেভানো হয়।

পদার্থের পরিবর্তন

যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের শুধু বাহ্যিক আকার বা অবস্থার পরিবর্তন     হয় কিন্তু আণবিক গঠনের কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে ভৌত বা অবস্থানগত পরিবর্তন বলে।যেমন- আমরা যখন তাপ দিয়ে মোম গলাই তখন মোমের কিছু অংশ গলে মোমের তলদেশে জমা হয়,এটি এক প্রকার ভৌত পরিবর্তন।কেননা এতে নতুন কোন পদার্থ সৃষ্টি হয় না।আর যে পরিবর্তনের ফলে এক বা একাধিক বস্তু প্রত্যেকে তার নিজস্ব সত্তা হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট এক বা একাধিক বস্তুতে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে।যেমন-লোহায় মরিচা পড়া একটি রাসায়নিক পরিবর্তন।কেননা, লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে ফেরোসোফেরিক অক্সাইড নামক এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ সৃষ্টি করে।এছাড়া পদার্থের দহন একটি রাসায়নিক পরিবর্তন।কেননা,দহন হল বাতাসের উপস্থিতিতে কোন পদার্থকে পোড়ানো।এটি বস্তুর একটি রাসায়নিক ধর্ম কেননা এর ফলে বস্তুটি এক নতুন পদার্থে পরিবর্তীত হয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস

পর্যায় সারণির সর্ব ডানে শূণ্য  গ্রুপের মৌলিক পদার্থগুলোর বহিঃস্তর ইলেক্ট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকায় এরা কোনরূপ বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না,এমনকি নিজেরা নিজেদের সাথেও নয়।তাই এদের নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়।এগুলো সাধারণত আলোক উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।হিলিয়াম,নিয়ন,আর্গন,ক্রিপটন,জেনন ও রেডন এই ছয়টি মৌলকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়।এই গ্রুপের সকল মৌলের বহিঃস্তরে (হিলিয়াম ব্যতীত।হিলিয়ামের বহিঃস্তরে ২ টি ইলেক্ট্রন থাকে) ৮ টি ইলেক্ট্রন থাকে। 

পরিবাহী

পরিবাহীঃযে সকল পদার্থের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হতে পারে তাদের বিদ্যুৎ পরিবাহী  বলা হয়।সাধারণত ধাতুসমূহ উত্তম পরিবাহী হিসেবে কাজ করে।কেননা ধাতুতে ধাতব বন্ধন নামক  এক বিশেষ ধরণের বন্ধন থাকে যার ফলে এগুলোতে মুক্ত ইলেক্ট্রন থাকে।ধাতব খণ্ডে এই বিমুক্ত ইলেকট্রন থাকার  কারণে এরা  ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী হিসেবে কাজ করে।উল্লেখ্য,আয়নিক যৌগগুলো পরিবাহী হিসেবে কাজ করে।কেননা,এতে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়ন বিদ্যমান থাকে।

অপরিবাহীঃ যে সকল পদার্থের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হতে পারে না তাদের বিদ্যুৎ অপরিবাহী  বলা হয়।সমযোজী যৌগে মুক্ত আয়ন না থাকায় এরা অপরিবাহী হিসেবে কাজ করে। 

 

হাইড্রোজেন

হাইড্রোজেন প্রকৃতিতে সবচেয়ে হালকা মৌলিক পদার্থ। এটি পর্যায় সারণির প্রথম উপাদান মৌল। এর পারমাণবিক সংখ্যা ১ ও প্রতীক H।প্রাচীন গ্রিক শব্দ হুদ্রো- অর্থ "জল" বা "পানি" ("উদ-") ও  'গেনেস' যার  অর্থ "উৎপাদক" ("জনক") থেকে 'হুদ্রোজেন'(ইংরেজিতে হাইড্রোজেন) নামকরণ করা হয়েছে। অনেক পুরাতন বাংলা বইতে একে উদজান বলা হয়েছে।আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে  হাইড্রোজেন রংহীন, গণ্ধহীন, স্বাদহীন, অধাতব এবং খুবই দাহ্য দ্বীপরমাণুক গ্যাস।এটি কোন নিউট্রন নেই শুধু একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রন আছে।যেহেতু পরমানুর ভর বলতে  নিউক্লিয়াসের ভরকে নির্দেশ করে তাই প্রোটনের ভর হাইড্রোজেন ভরের সমান হয়।আমাদের দেশে হাইড্রোজেনের প্রধান উৎস হিসেবে পানি ও প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।    

ক্যাটেনেশন

কার্বন পরমাণুর একটি বিশেষত্ব হচ্ছে এটি একই মৌলের পরমাণুর মধ্যে বন্ধন সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন দৈর্ঘের শিকল গঠন করতে পারে। একে ক্যাটেনেশন বলা হয়। এছাড়া কার্বন পরমাণুর যোজনী ৪। সুতরাং এটি নিজেদের মধ্যে একক, দ্বি- ও ত্রি- বন্ধন গঠন করার পরেও অন্যান্য মৌলের পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়। এছাড়া জৈব যৌগে সমানুতা বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়; অর্থাত্ একই আণবিক সংকেত কিন্তু ভিন্ন আণবিক গঠন বিশিষ্ট একাধিক যৌগের উপস্থিতি দেখা যায়। এ সকল কারণে জৈব যৌগের সংখ্যা খুব বেশি।এছাড়া সিলিকন পরমাণু ক্যাটনেশন ধর্ম প্রদর্শণ করে।এই ধর্ম ব্যবহার করেই  সিলিকন পরমাণু অসংখ্য পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে বৃহদাকার সিকল যৌগ সিলিকা গঠন করে। 

হাইড্রোকার্বন

 হাইড্রোকার্বনঃশুধুমাত্র হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত জৈব যৌগকে হাইড্রোকার্বন বলে।যেমন-গ্লুকোজ।হাইড্রোকার্বনসমূহে  C, H, O -এর  অনুপাত যথাক্রমে- ১ঃ ২ঃ ১।   

আইইউপিএসি-এর জৈব যৌগ নামকরণ পদ্ধতি অনুসারে হাইড্রোকার্বনকে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা যায়ঃ

সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনঃ এই ধরনের হাইড্রোকার্বনের এই যৌগে কার্বন ও হাইড্রোজেন শুধুমাত্র একবন্ধন দ্বারা যুক্ত এবং একটিমাত্র শৃঙ্খলে বা শাখাযুক্ত শৃঙ্খলে সজ্জিত। পেট্রোলি্য়াম জাতীয় জৈব জ্বালানির মুখ্য উপাদান সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন। কার্বন শৃঙ্খল ও শাখার দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনে আইসোমেরিজম ও কাইরালিটি দেখা যেতে পারে।

অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনঃ এই শ্রেণিতে কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন একবন্ধনের পাশাপাশি কার্বন-কার্বন দ্বিবন্ধন ও ত্রিবন্ধন বিদ্যমান। 

বলয়াকার (সাইক্লিক) হাইড্রোকার্বনঃ এই ধরনের যৌগে এক বা একাধিক কার্বন বলয় উপস্থিত।

অ্যারোম্যাটিক হাইড্রোকার্বনঃ এই শ্রেণির হাইড্রোকার্বনে এক বা একাধিক অ্যারোম্যাটিক বলয় (অ্যারোম্যাটিক রিং) থাকে। অ্যারোম্যাটিক হাইড্রোকার্বনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল বেনজিন।

জৈবযৌগঃহাইড্রোকার্বন এবং হাইড্রোকার্বনঘটিত যৌগসমূহকে রসায়ন বিজ্ঞানে জৈব যৌগ বলা হয়। অর্থাৎ হাইড্রোজেন এবং কার্বনের সমন্বয়ে যে সকল যৌগিক পদার্থ গঠিত হয়, তা হলো সরল জৈব যৌগ। এবং কোনো সরল জৈবযৌগের সাথে অন্যকোন মৌলিক বা যৌগিক পদার্থযুক্ত হয়ে নতুন পদার্থ তৈরি হয়, সেগুলোকেও জৈব যৌগ বলা হয়।বাতাসের উপস্থিতিতে এসব জৈবযৌগের সম্পুর্ণ দহনে কার্বন ডাইওক্সাইড ও অসম্পূর্ণ দহনে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন হয়।যেমন-ইথিলিনের পলিমার পলিথিন পুড়ালে এর উপকরন পলিভিনাইল ক্লোরাইড পুড়ে কার্বন মনোক্সাইড  উৎপন্ন হয়।

ভৌত রাশি

ভৌত রাশি
 

এই ভৌত জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে আমরা রাশি বলি।

রাশি দুই প্রকারঃ মৌলিক রাশি আর লব্ধ বা যৌগিক রাশি।

যে সকল রাশি স্বাধীন বা যেগুলো অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের উপর নির্ভর করে তাদেরকে মৌলিক রাশি বলে।

মৌলিক রাশি সাতটি 

  1. দৈর্ঘ্য
  2. ভর
  3. সময়
  4. তাপমাত্রা
  5. তড়িৎ প্রবাহ
  6. দীপন তীব্রতা
  7. পদার্থের পরিমাণ

যে সকল রাশি মৌলিক রাশিগুলো থেকে লাভ করা যায় তাদেরকে লব্ধ বা যৌগিক রাশি বলে।

 

পরিমাপের একক

পরিমাপের একক
 

যে কোন পরিমাপের জন্য একটি আদর্শের প্রয়োজন, যার সাথে তুলনা করে পরিমাপ করা হয়।  পরিমাপের এ আদর্শ পরিমাণকে বলা হয় পরিমাপের একক।

১৯৬০ সালে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালু হয়।

এস.আই এর মৌলিক এককসমূহ

নিম্নে আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে মৌলিক এককগুলের জন্য সর্বশেষ গৃহীত আদর্শ উপস্থাপন করা হলঃ

দৈর্ঘ্যের একক (মিটার): ভ্যাকিউয়ামে বা বায়ু শূন্য স্থানে আলো '১/২৯৯৭৯২৪৫৮' সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকে  মিটার  বলে।

ভরের একক (কিলোগ্রাম): ফ্রান্সের স্যাভ্রেতে ইন্টারন্যাশনাল ব্যুর অব ওয়েটস্ এন্ড মেজারস-এ সংরক্ষিত প্লাটিনাম-ইরিডিয়াম সংকর ধাতুর তৈরি ৩.৯ সে.মি. ব্যাস এবং ৩.৯ সে.মি উচ্চতা বিশিষ্ট একটি সিলিন্ডারের ভরকে  কিলোগ্রাম  বলে।

সময়ের একক (সেকেন্ড): একটি সিজিয়াম- ১৩৩ পরমাণুর ৯১৯২৬৩১৭৭০টি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে  সেকেন্ড বলে।

তাপমাত্রার একক (কেলভিন): পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রার '১/২৭৩.১৬' ভাগকে  কেলভিন  বলে।

তড়িৎ প্রবাহের একক (অ্যাম্পিয়ার): ভ্যাকিউয়ামে বা বায়ু শূন্য স্থানে এক মিটার দূরত্বে অবস্থিত অসীম দৈর্ঘ্যের এবং উপেক্ষণীয় প্রস্থচ্ছেদর দুটি সমান্তরাল সরল পরিবাহীর প্রত্যেকটিতে যে পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ চললে পরস্পরের মধ্যে প্রতি মিটার দৈর্ঘ্যে ২×১০^-৭নিউটন বল উৎপন্ন হয়, তাকে  অ্যাম্পিয়ার  বলে।

দীপন ক্ষমতার একক (ক্যান্ডলা): ১০১৩২৫ প্যাসকেল চাপে প্লাটিনামের হিমাঙ্কে (২০৪২ কেলভিন) কোনো কৃষ্ণবস্তুর পৃষ্ঠের '১/৬০০০০০' বর্গমিটার পরিমিত ক্ষেত্রফলের পৃষ্ঠের অভিলম্ব বরাবর দীপন ক্ষমতাকে  ক্যান্ডেলা  বলে।

পদার্থের পরিমাণের একক (মোল): যে পরিমাণ পদার্থ ০.০১২ কিলোগ্রাম কার্বন- ১২ এ অবস্থিত পরমাণুর সমান সংখ্যক প্রাথমিক ইউনিট থাকে, তাকে  মোল বলে।

 

পরিমাপের যন্ত্রপাতি

পরিমাপের যন্ত্রপাতি
 

পরিমাপের জন্য আমরা বিভিন্ন যন্ত্র ব্যাবহার করে থাকি। বৈজ্ঞানিক কাজের জন্য যেসব যন্ত্রাদি সচরাচর ব্যবহৃত হয় সেগুলো হ'লঃ

ক) মিটার স্কেল

খ) ভার্নিয়ার স্কেল

 

গ) স্লাইড ক্যালিপার্স

 

ঘ) স্ক্রু গজ

 

ঙ) তুলা যন্ত্র

 

চ) থামা ঘড়ি

 

মিটার স্কেল হ'ল দৈর্ঘ্য পরিমাপের সবচেয়ে সরল যন্ত্র।

ভার্নিয়ার স্কেলও দৈর্ঘ্য পরিমাপক যন্ত্র (মিলিমিটারের ভগ্নাংশ)।

স্লাইড ক্যালিপার্স বস্তর দৈর্ঘ্য, চোঙ বা বেলনের উচ্চতা, ফাঁপা নলের অন্ত:ব্যাস ও বহির্ব্যাস, গোলকের ব্যাস নির্ণয় করা যায়।

স্ক্রু গজের সাহায্যে তারের ব্যাসার্ধ, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ এবং ছোট দৈর্ঘ্য নির্ণয় করা যায়। 

তুলা যন্ত্র খুব অল্পপরিমাণ জিনিসের ভর সুক্ষ্মভাবে নির্ণয় করার যন্ত্র।

ক্ষুদ্র সময় পরিমাপের জন্য থামা ঘড়ি ব্যবহার করা হয়

 

আরো বিস্তারিত জানার জন্য...

আরো বিস্তারিত জানার জন্য ২ 

 

পরিমাপে ত্রুটি ও নির্ভুলতা

পরিমাপে ত্রুটি নির্ভুলতা
 

সব পরিমাপের নির্ভুলতারই একটি সীমা আছে। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি এবং পরীক্ষকের দক্ষতার উপর পরিমাপের নিরভুলতা নির্ভর করে।

পরিমাপের বেলায় সাধারণত তিন ধরনের ত্রুটি থাকতে পারেঃ

ক) দৈব ত্রুটি

খ) যান্ত্রিক ত্রুটি

গ) ব্যক্তিগত ত্রুটি

দৈব ত্রুটিঃ কোন একটি ধ্রুব রাশি কয়েক বার পরিমাপ করলে যে ত্রুটির কারনে পরিমাপকৃত মানে আসামঞ্জস্য দেখা যায় তাকে দৈব ত্রুটি  বলে। দৈব না থেকেই বুঝা যাচ্ছে এই ত্রুটি আগে থেকেই অনুমান করা যায় না এবং এই ত্রুটির প্রত্যাশিত মান হবে শূন্য। 

যান্ত্রিক ত্রুটিঃ যন্ত্রে কোন সমস্যা থাকলে এই ত্রুটি দেখা যায়। ভার্নিয়ার স্কেলের শূন্য দাগ মূল দাগের সাথে না মিললে এই ত্রুটি দেখা যায়।

ব্যক্তিগত ত্রুটিঃ পর্যবেক্ষকের ব্যক্তিগত ভুলের কারণে এই ত্রুটি হয়। কোন ক্ষেত্রে  পর্যবেক্ষক গণনা করতে এবং পাঠ নিতে ভুল করে ফেলে। এই ত্রুটি দূর করার জন্য পর্যবেক্ষককে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।

 

বৈজ্ঞানিক প্রতীক ও সংকেত

বৈজ্ঞানিক প্রতীক সংকেত
 

পদার্থবিজ্ঞানের পরিভাষা হচ্ছে গণিত। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলোকে আমরা সাধারণত গাণিতিক সমীকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকি।

শব্দ তরঙ্গ

শব্দ তরঙ্গ
 

শব্দ এক প্রকার শক্তি। এই শক্তি সঞ্চালিত হয় শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে। শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ যা মাধ্যমের কণাগুলোর সংকোচন প্রসারনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

শব্দের উৎস এবং শ্রোতার মাঝে একটি জড় মাধ্যম থাকতে হবে এবং উৎসের কম্পাঙ্ক 20Hz থেকে 20,000Hz এর ভিতর থাকতে হবে।  

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যঃ কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। তাই  শব্দকে  একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ বলা হয়। এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক একই বলে এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভরশীল

শব্দের বেগের পরিবর্তন

শব্দের বেগের পরিবর্তন
 

 শব্দের বেগ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 

মাধ্যমের প্রকৃতি : বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ বিভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ বায়ু, পানি এবং লোহাতে শব্দের বেগ ভিন্ন ভিন্ন। 20°C তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ 332 m/s , পানিতে  1450 m/s আর লোহায়  5130 m/s। সাধারণভাবে বলা যায় বায়ুতে শব্দের বেগ কম,তরলে তার চেয়ে বেশি আর কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি।

তাপমাত্রা: বায়ুর তাপমাত্রা যতো বাড়ে বায়ুতে শব্দের বেগও ততো বাড়ে। এজন্য শীতকাল অপেক্ষা গ্রীষ্মকালে শব্দের বেগ বেশি।  

বায়ুর আর্দ্রতা : বায়ুর আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়। এজন্য শুষ্ক বায়ুর চেয়ে ভিজা বায়ুতে শব্দের বেগ বেশি।

 

তরঙ্গ

তরঙ্গ
 

তরঙ্গঃ যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন কোন জড় মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোকে নিজ নিজ স্থান থেকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করে না তাকে তরঙ্গ বলে। 

যান্ত্রিক তরঙ্গঃ কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় মাধ্যমে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তা যান্ত্রিক তরঙ্গ। উদাহরণ পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ।  যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 

তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য কোন মাধ্যমের প্রয়োজন পরে না। 

 

তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ

  • মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় কিন্তু কণাগুলোর স্থায়ী স্থানান্তর হয় না। 
  •  যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন। 
  • তরঙ্গ একস্থান থেকে অন্যস্থানে শক্তি সঞ্চালন করে। 
  • তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
  • তরঙ্গের প্রতিফলন ও প্রতিসরণ ও উপরিপাতন ঘটে।  

তরঙ্গ দুই প্রকার:

১) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ

২) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 

অনুপ্রস্থ তরঙ্গঃ যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয় তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। পানির তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গের উদাহরণ।  

 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গঃ যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয় তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। বায়ু মাধ্যমে শব্দের তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের উদাহরণ।

 

অনুপ্রস্থ তরঙ্গের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বিন্দুকে তরঙ্গশীর্ষ ও তরঙ্গপাদ বলে। অনুদৈর্ঘ্য  তরঙ্গে অনুরূপ রাশি হচ্ছে সঙ্কোচন ও প্রসারণ। 

 

পর্যাবৃত্ত গতি, স্পন্দন বা ছন্দিত গতি

পর্যাবৃত্ত গতি, স্পন্দন বা ছন্দিত গতি
 

পর্যাবৃত্ত গতিঃ কোন গতিশীল কণার গতি যদি এমন হয় যে এটি এর গতিপথের কোন নির্দিষ্ট বিন্দুকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর একই দিক হতে অতিক্রম করে তবে সে গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে।

পর্যায়কালঃ পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন কোন বস্তুর একটি পূর্ণ কম্পন বা পর্যায় সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে। 

ঘড়ির কাটা, বৈদ্যুতিক পাখা, সাইকেলের চাকার গতি,সূর্যের চারিদিকে পৃথিবীর গতি ইত্যাদির গতি পর্যায়বৃত্ত গতির উদাহরণ। স্প্রিং এর সংকোচন ও প্রসারনের গতি রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি।

 

স্পন্দন গতিঃ পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন কোন বস্তুকণা যদি এর পর্যায়কালের অর্ধেক সময় একটি নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় পূর্বগতির বিপরীত দিকে চলে তবে তার সে গতিকে স্পন্দন গতি বলে। অর্থাৎ, স্পন্দন গতিকে অগ্র পশ্চাৎ পর্যাবৃত্ত গতিও বলা যেতে পারে।

সরল দোলকের গতি, কম্পনশীল সুর শলাকা, গীটারের তারের গতি ইত্যাদি স্পন্দন/কম্পন গতির উদাহরণ।

 

প্রতিধ্বনি

প্রতিধ্বনি
 

যখন কোনো শব্দ মূল শব্দ থেকে আলাদা হয়ে মূল শব্দের পুনরাবৃত্তি করে, তখন ঐ প্রতিফলিত শব্দকে প্রতিধ্বনি বলে। সহজ কথায় প্রতিফলনের জন্য ধ্বনির পুনরাবৃত্তিকে প্রতিধ্বনি বলে।

প্রতিফলকের নূন্যতম দূরত্বঃ কোনো ক্ষণস্থায়ী শব্দ বা ধ্বনি কানে শোনার পর সেই শব্দের রেশ প্রায় 1/10 সেকেন্ড যাবৎ আমাদের মস্তিষ্কে থেকে যায়। একে শব্দানুভুতির স্থায়ীত্বকাল বলে। এই 1/10 সেকেন্ডের মধ্যে অন্য শব্দ কানে এসে পৌঁছালে তা আমরা আলাদা করে শুনতে পাই না। সুতরাং কোনো ক্ষণস্থায়ী শব্দের প্রতিধ্বনি শুনতে হলে প্রতিফলককে উৎস থেকে এমন দূরত্বে রাখতে হবে যাতে মূল শব্দ প্রতিফলিত হয়ে কানে ফিরে আসতে অন্তত  সেকেন্ড সময় নেয়। যদি 0°C তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ 332 m/s ধরা হয়  তাহলে  1/10 সেকেন্ডে শব্দ 33.2m যায়। সুতরাং প্রতিফলককে শ্রোতা থেকে কমপক্ষে 33.2m/2 বা 16.6m  দূরত্বে রাখতে হবে। 

 

প্রতিধ্বনির ব্যবহার
 

কূপের গভীরতা নির্ণয়ঃ প্রতিধ্বনির সাহায্যে খুব সহজে কূপের মধ্যে পানির উপরিতল কত গভীরে আছে তা নির্ণয় করা যায়। কূপের উপরে কোনো শব্দ উৎপন্ন করলে সেই শব্দ পানি পৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে এলে প্রতিধ্বনি শোনা যায়। 


 

পানি পৃষ্ঠের গভীরতা=h, শব্দের বেগ =v, শব্দ উৎপন্ন করা এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়

শব্দ উৎপন্ন হয়ে পানি পৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসার সময় শব্দ তরঙ্গ 2h দূরত্ব অন্তিক্রম করে

2h = v * t

h = v*t /2 

কুপের পানিপৃষ্ঠের গভীরতা ১৬.৬ মিটারের কম হলে, প্রতিধ্বনি ভিত্তিক এই পরীক্ষাটি করা সম্ভব হবে না।  

বাদুরের পথচলা 
শব্দের প্রতিধ্বনির সাহায্যেই বাদুর পথ চলে। বাদুর চোখে দেখে না। বাদুর শব্দোত্তর কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করতেপারে আবার শুনতেও পারে।এই শব্দ আমরা শুনতে পাই না। বাদুর শব্দোত্তর কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে সামনেছড়িয়ে দেয়। ঐ শব্দ কোনো প্রতিবন্ধকে বাধা পেয়ে আবার বাদুরের কাছে চলে আসে।ফিরে আসা শব্দ শুনে বুঝতে পারে যে সামনে কোনো বস্তু আছে কিনা। বাদুর এভাবে তার শিকারও ধরে। বাদুড় প্রায় 100,000Hz এর কম্পনাঙ্ক এর শব্দ তৈরি করতে এবং শুনতে পারে ।

 

শব্দ দূষণ

শব্দ দূষণ
 

পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভাব আদান-প্রদানের জন্য শব্দ প্রয়োজন। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় শব্দ ও কোলাহলো অসহ্য লাগে। বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপন্ন জোরালো এবং অপ্রয়োজনীয় শব্দ যখন মানুষের সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে বিরক্তি ঘটায় এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতিসাধন করে তখন তাকে শব্দ দূষণ বলে। 

অবিরাম তীব্র শব্দ মানসিক উত্তেজনা বাড়ায় ও মেজাজ খিটখিটে করে। শব্দ দূষণ বমি বমি ভাব, ক্ষুধা মন্দা, রক্তচাপ বৃদ্ধি,হৃদপিণ্ড ও মস্তিস্কের জটিল রোগ,অনিদ্রাজনিত অসুস্থতা, ক্লান্তি ও অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়া, কর্মক্ষমতা হ্রাস, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মাথা ঘোরা প্রভৃতি ক্ষতিকারক প্রভাব সৃষ্টি করে। হঠাৎ তীব্র শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তি নষ্ট করতে পারে।

শ্রাব্যতার সীমা ও এদের ব্যবহার

শ্রাব্যতার সীমা এদের ব্যবহার
 

যদি কোনো বস্তু প্রতি সেকেন্ডে কমপক্ষে ২০ বার কাঁপে তবে সেই বস্তু থেকে উৎপন্ন শব্দ শোনা যাবে। এভাবে আবার কম্পন যদি প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০  বার এর বেশি হয় তাহলেও শব্দ শোনা যাবে না। সুতরাং আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz। কম্পাঙ্কের এই পাল‡াকে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর কম হয় তবে তাকে  শব্দেতর কম্পন বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তবে তাকে শব্দোত্তর 
কম্পন বলে।

শব্দোত্তর শব্দের প্রয়োগ ব্যবহারঃ সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়: সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের জন্য SONAR নামক যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। এর পূরো নাম Sound Navigation And Ranging । এই যন্ত্রে শব্দোত্তর কম্পাঙ্কের শব্দ প্রেরণ ও গ্রহণের ব্যবস্থা আছে।

 

সমুদ্রের গভীরতা, d=frac{vt}{2}

কাপড়ের ময়লা পরিস্কার করাঃ আজকাল আধুনিক ওয়াশিং মেশিন বের হয়েছে যার দ্বারা সহজে কাপড় পরিস্কার করা যায়। পানির মধ্যে সাবান বা গুড়ো সাবান মিশ্রিত করে কাপড় ভিজিয়ে রেখে সেই পানির মধ্যে শব্দোত্তর কম্পনের শব্দ প্রেরণ করা হয়। এই শব্দ কাপড়ের ময়লাকে বাইরে বের করে আনে এবং কাপড় পরিস্কার হয়ে যায়। 

রোগ নির্ণয়েঃ মানুষের দেহের অভ্যন্তরীণ ছবি এক্স-রে দ্বারা যেমন তোলা যায় তেমন শব্দোত্তর কম্পনের শব্দের সাহায্যে ছবি তুলে রোগ নির্ণয় করা যায়। এই প্রক্রিয়ার নাম আল্ট্রাসনোগ্রফি। শব্দকে দেহ অভ্যন্তরে প্রেরণ করা হয় এবং প্রতিফলিত শব্দ শক্তিকে আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত করে টেলিভিশনের পর্দায় ফেলে রোগ সনাক্ত করা যায়।

চিকিৎসাক্ষেত্রেঃ দাতের স্কেলিং বা পাথর তোলার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়। কিডনির ছোট পাথর ভেঙে গুড়া করে তা অপসারণের কাজেও ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য কাজেঃ ধাতব পিন্ড বা পাতে সূক্ষ্মতম ফাটল অনুসন্ধানে, সূক্ষ্ম ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কাজে, ক্ষতিকর রোগ জীবাণু ধ্বংসের কাজে। 

শব্দেতর কম্পাংকের শব্দের ব্যবহারঃ শব্দেতর কম্পনের সীমা হচ্ছে 1Hz থেকে 20Hz. হাতি এই কম্পনের মাধ্যমে নিজেদের মাঝে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। কোনরূপ বিকৃতি ছাড়া এই তরঙ্গ বহুদূর যেতে পারে। ভূমিকম্প এবং পারমাণবিক বিস্ফোরণের সময় এই শব্দেতর কম্পনের সৃষ্টি হয় এবং প্রবল ঝাকুনির মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।  

 

সুরযুক্ত শব্দ ও তার বৈশিষ্ট্য

সুরযুক্ত শব্দ তার বৈশিষ্ট্য
 

সুরযুক্ত শব্দের তিনটি বৈশিষ্ট্য আছে-

১) প্রাবল্য বা তীব্রতা  

২) তীক্ষ্ণতা এবং

৩) গুণ বা জাতি।

প্রাবল্য বা তীব্রতাঃ প্রাবল্য বা তীব্রতা বলতে শব্দ কতটা জোরে হচ্ছে তা বুঝায়। শব্দ বিস্তারের অভিমুখে লম্বভাবে রাখা একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ শব্দশক্তি প্রবাহিত হয় তাকে শব্দের তীব্রতা বলে। SI পদ্ধতিতে শব্দের তীব্রতার একক Wm^{-2}

তীক্ষ্ণতাঃ সুরযুক্ত শব্দের যে বৈশিষ্ট্য দিয়ে একই প্রাবল্যের খাদের সুর এবং চড়া সুরের মধ্যে পার্থক্য বুঝা যায় তাকে তীক্ষ্ণতা বা পীচ বলে। তীক্ষ্ণতা উৎসের কম্পাঙ্কের উপর নির্ভর করে। কম্পাঙ্ক যত বেশি হয়, সুর তত চড়া হয় এবং তীক্ষ্ণতা বা পীচ ততো বেশি হয়।

গুণ বা জাতিঃ সুরযুক্ত শব্দের যে বৈশিষ্ট্যের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপন্ন একই প্রাবল্য ও তীক্ষ্ণতাযুক্ত শব্দের মধ্যে পার্থক্য বুঝা যায় তাকে গুণ বা জাতি বলে।  

পুরুষের গলার স্বর মোটা কিন্তু নারী এবং শিশুদের গলার স্বর তীক্ষ্ণ কেন?

মানুষের গলার স্বরযন্ত্রে দুটি পর্দা থাকে এদেরকে স্বরতন্ত্রী বলে। ভোকাল কর্ডের কম্পনের দলে মানুষের গলা থেকে শব নির্গত হয়। পুরুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে ভোকাল কর্ড দৃঢ় হয়ে যায় তাই এর কম্পাঙ্ক কমে যায় অপরদিকে নারী এবং শিশুদের ভোকাল কর্ড দৃঢ় থাকে না তাই কম্পাঙ্ক কম হয়। তাই পুরুষের গলার স্বর মোটা কিন্তু নারী এবং শিশুদের গলার স্বর তীক্ষ্ণ ।

 

petrolium

টারবাইন দ্বারা বিদ্যুত্‍‌

জল-বিদ্যুত্‍‌-কেন্দ্র এবং কয়লা-চালিত বিদ্যুত্‍‌-কেন্দ্র বিদ্যুত্‍‌ টারবাইন দ্বারা উত্‍‌পাদন করে, দুটো ক্ষেত্রেই বিশেষ প্রক্রিয়ায় 'টারবাইনের' প্রপেলরে শক্তি যোগান হয় যা' বৈদ্যুতিক জেনারেটরকে ঘোরায় এবং বিদ্যুত্‍‌ তৈরি হয় । কয়লা-চালিত বিদ্যুতের বেলায় বাষ্প গিয়ে পড়ে টারবাইন-ব্লেডের উপর, জলবিদ্যুতের বেলায় পতিত জল টারবাইন ব্লেডদের ঘোরায় । 
পতিত জলে শক্তি জোগানের জন্য নদীর বিশেষ জায়গায় বাঁধ দেওয়া হয় ; বিশেষ জায়গাটি হল যেখানে এলিভেশনে (elevation) আছে বড়-সড় পতন (drop) । বাঁধ দিলে সৃষ্টি হয় একটি জলাধার । বাঁধের দেওয়ালের মধ্যে থাকে টারবাইনে জল নিয়ে যাবার 'ইনটেক' বা গ্রহণস্থান ; কতটা জল যাবে তা' নিয়ন্ত্রণের জন্য সাধারণতঃ থাকে একটি জলদ্বার(sluice gate)। মাধ্যাকর্ষনের বলে জল এই গ্রহনস্থান দিয়ে প্রবেশ করে 'পেনস্টক' (penstock)-এ, যার পরে আছে টারবাইনের প্রপেলর । জল ব্যবহারের পর পুনরায় নদীতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বাঁধের নীচের নির্গমপথ দিয়ে। টারবাইনকে ঘুরাবার শক্তি নির্ভর করে 'হেড'(head)- এর উপর যা হল জলাধারের জলের উপরিভাগের তল(surface)ও নির্গমণপথের মধ্যে অন্তর(difference)- এর উপর । হেড যত বেশি হবে বিদ্যুত্‍‌ উত্‍‌পাদন হবে ততবেশি ।

সোলার প্যানেল

সোলার প্যানেল

সূর্যের আলো সোলার প্যানেল এ থাকা সিলিকন,আর্সেনিক এবং অন্য ২/১ টা মৌলের মিশ্রণে তৈরি PNP তে আঘাত করে। ফলে pnp তে থাকা মৌলগুলোর পরমাণু থেকে ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে নিচের চিত্রের ন্যায় ধনাত্মক প্রান্তের দিকে এবং হোলগুলো ঋনাত্তক প্রান্তের দিকে প্রবাহিত হয়।  
    আর ইলেকট্রন প্রবাহ মানেই বিদ্যুৎ প্রবাহ। এভাবেই সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। আর এটা একটি কন্ট্রোলার হয়ে যায় ব্যাটারিতে। রাত্রে ব্যাটারিতে সঞ্চিত বিদ্যুৎ দিয়ে বাল্ব, dc ফ্যান, tv ইত্যাদি চালানো হয়।

reactor

হিরোশিমা প্রথম পরমাণু বোমা

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে হিরোশিমা শহরের আকাশে উড়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২৯ বোমারু বিমান এনোগা গে হামলা চালায়। বোমাটি মাটি থেকে প্রায় ৬০০ মিটার উঁচুতে বিস্ফোরিত হয়। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম পরমাণু বোমা হামলা, যাতে প্রাণ যায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের। এই হামলার মধ্য দিয়ে মোড় ঘুরতে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। ৬ আগস্টের পর ৯ আগস্ট জাপানের নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান আরেকটি পারমাণবিক বোমা ফেলে, যাতে নিহত হয় প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। মূলত এই হামলার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের।
জাপানের দাবি, যুদ্ধের সময় ও এর প্রভাবে নানা রোগে ভুগে প্রায় ৪ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে। শুধু হিরোশিমায় মারা গেছে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। 

Nuclear Fusion

সূর্যের প্রধান দুই উপাদান হল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম। এছাড়াও আরো কিছু পদার্থ আছে সূর্যে। ভর অনুযায়ী, হাইড্রোজেন ৭১%, হিলিয়াম ২৭.১%, অক্সিজেন .৯৭%, কার্বন .৪০%, সিলিকন .০৯৯%, নাইট্রোজেন .০৯৬% এবং অন্যান্য উপাদানসমূহ .৩৩৫%।

Nuclear Fusion অর্থাৎ পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্যের হাইড্রোজেন প্রতিনিয়ত প্রধানতঃ হিলিয়ামে রুপান্তরিত হচ্ছে। সূর্য হাইড্রোজেনকে জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। এতে তাপ ও আলো উৎপাদিত হচ্ছে। সূর্যের কেন্দ্রে তাপমাত্রা হল ২৭ মিলিয়ন ডিগ্রি ফারেনহাইট। এ তাপ ও আলোর একটা অংশ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়। সেই সুত্রে আদিকালে পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তি। এ পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬২০ মিলিয়ন টন হাইড্রোজেনকে হিলিয়ামে পরিনত করছে আর এর ফলে প্রতি সেকেন্ডে যে শক্তি নির্গত হচ্ছে তা পৃথিবীর সর্বাধিক শক্তিশালী পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে যে শক্তি উৎপন্ন হবে তার চেয়ে ১.৮ বিলিয়ন গুন বেশি।

এটম বোমা পারমাণবিক শক্তি

পারমাণবিক শক্তি হল, শক্তির এক প্রকার রূপ। নিউক্লীয় ফিউশন বা ফিশন বিক্রিয়ার ফলে এ শক্তির উদ্ভব ঘটে।  ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন। তিনি অন্ধকারে ইউরেনিয়ামের পাশে রক্ষিত ফটোগ্রাফিক প্লেটের বর্ণ পরিবর্তন দেখে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ হন।

কোনো একটি ভারী মৌলের পরমাণুকে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে ভারী মৌলটি ভেংগে দুইটি হাল্কা মৌলের পরমাণুতে পরিণত হয়। এতে বিপুল পরিমাণ তাপ শক্তির বিকিরণ ঘটে। এ শক্তিকেই বলা হয় পরমাণু শক্তি।

এ বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার সময় সাধারণত ৩টি নিউট্রন  উত্পন্ন হয়। এটি পুনরায় নতুন ৩টি বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। ফলে আরও ৯টি নিউট্রন পাওয়া যায়। এ ধারা ক্রমান্নয়ে বাড়তে থাকে। এজন্য এ বিক্রিয়াকে বলা হয় চেইন রিএকশান। বর্তমান বিশ্বে গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানোর চেয়ে বরং একটি অস্ত্র হিসেবে এটিকে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ পারমানবিক বোমা তৈরী করেছে।

পারমানবিক সংখ্যা

রসায়ন ও পদার্থ বিদ্যায় কোনো পরমাণুর কেন্দ্রে প্রোটনের সংখ্যাকে পারমানবিক সংখ্যা বলে। আধান নিরপেক্ষ পরমাণুতে ইলেকট্রন-এর সংখ্যাও পারমানবিক সংখ্যার সমান। পারমাণবিক সংখ্যা অনন্যভাবে একটি মৌলিক পদার্থকে চিহ্নিত করে। নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক চার্জের সংখ্যা এবং পারমাণবিক সংখ্যার সমান থাকে। প্রোটনের ভর ও নিউট্রনের ভর প্রায় সমান বলে তাদের সমষ্টি অর্থাৎ পরমাণুর ভর সংখ্যাকেই পারমাণবিক ভর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভর সংখ্যা হল নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা যাকে A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

তেজস্ক্রিয়তা

ইউরেনিয়াম ধাতুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত-ভাবে অবিরত যে বিশেষ ছেদন শক্তি সম্পন্ন রশ্মি নির্গত হয় তা প্রথম আবিষ্কার করেন ১৮৯৬ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকরেল । পরবর্তীতে দেখা গেছে যে, অস্থিত আইসোটোপগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন ধরনের রশ্নি বিকিরণ করে নিজের নিউক্লিয়াসে পরিবর্তন এনে অন্য মৌলের স্থিত আইসোটোপে পরিণত হয়। এই আচরণ বা ধর্মকেতেজস্ক্রিয়তা বলা হয়। এই ধরনের আইসোটোপগুলোকে বলা হয় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। ইউরানিয়াম-২৩৬, স্ট্রনসিয়াম-৯০, আয়োডিন-১৩০, প্লোটোনিয়াম-২৩৯ উল্খেখযোগ্য তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। তেজষ্ক্রিয়তা পরমাণুর নিউক্লিয় ঘটনা, তাই একে বাইরের কোন সাধারণ ভৌত প্রক্রিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
আমরা জানি, প্রত্যেক পদার্থ পরমাণু নামক অসংখ্য অতি ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত। সব মৌলের পরমাণুতে থাকে ইলেকট্টন, প্রোটন এবং নিউট্রন – এই তিনটি মূল কণিকা। নিউট্রন ও প্রোটন পরমাণুর কেন্দ্র নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে। পরমাণু সামগ্রিকভাবে কোনরূপ চার্জযুক্ত থাকে না। নিউট্রন চার্জবিহীন, পরমাণুতে নেগেটিভ ইলেকট্রন ও পজিটিভ প্রোটনের সংখ্যা সমান । একই মৌলের পরমাণুর কয়েক প্রকারের ভর হতে পারে (ভর = প্রোটন ও নিউট্রনের সর্বমোট সংখ্যা)। যে সব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়, সে সব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। অর্থাৎ নিউট্রনের সংখ্যার তারতম্যের জন্যই আইসোটপের সৃষ্টি।

তেজষ্ক্রিয় ঘড়ির কাঁটায়

তেজষ্ক্রিয় মৌলের তেজষ্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের ঘটনাকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে । ‘তেজস্ক্রীয় রশ্মি’ বা উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ন এক প্রকার তড়িৎ চুম্বকীয় বিচ্ছুরিত শক্তি। প্রতিটি মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ওজন এর নিউক্লিয়াস-এর মধ্যস্থ নিউট্রন ও প্রোটন-এর সমষ্টির সমান। যে-সব মৌলের পরমাণুর ওজন বেশী (সাধারণতঃ ২০০-এর উপর বা এর কাছা-কাছি) তাদের বলা হয় ভারী মৌল। এ-সব ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত-ভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়, এই প্রক্রিয়াকে-ই তেজষ্ক্রিয়তা (Radio-activity) বলে। ঘড়ির কাঁটায় তেজষ্ক্রিয় থোরিয়ামের সাথে জিঙ্ক সালফাইড মিশিয়ে ঘড়ির কাঁটা ও নম্বরে প্রলেপ দেওয়া হয় ফলে এরা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে।

তেজস্ক্রিয় মৌলের অর্ধায়ু

যে সময়ে কোন তেজষ্ক্রিয় পদার্থের মোট পরমাণুর ঠিক অর্ধেক পরিমাণ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় তাকে ঐ পদার্থের অর্ধায়ু বলে। উদাহরণ হিসেবে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কার্বন-১৪ -এর অর্ধায়ু ৫৭৩০ বছর। যদি শুরুতে ১০০ গ্রাম কার্বন-১৪ থাকে তা তেজস্ক্রিয়-ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ৫০ গ্রামে পরিণত হতে সময় লাগবে ৫৭৩০ বছর। উক্ত ৫০ গ্রাম একইভাবে আবার ২৫ গ্রামে পরিণত হতে সময় লাগবে আরও ৫৭৩০ বছর। এই কারণে কার্বন-১৪ এর অর্ধ-জীবন = ৫৭৩০ বছর। এইভাবে ১০০ গ্রাম তেজক্রিয় কার্বন -১৪ সম্পুর্ণরূপে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে (বাস্তবে C-14 থেকে N-14 এ পরিণত হতে) সময় লাগবে ৫১৫৭০ বছর। একই তেজস্ক্রিয় মৌলের বিভিন্ন খণ্ডের অর্ধায়ুও এক হবে। আবার বিভিন্ন মৌলের রশ্মি বিকিরণের হার বিভিন্ন। তাই দুটি ভিন্ন প্রকার মৌলের অর্ধায়ু কখনো এক হবে না। আবার একটিমৌলের সবগুলো পরমাণুর নিউক্লিয়াস একই সাথে রশ্মি বিকিরণ শুরু করে না। এ প্রক্রিয়া সংগঠিত হয় ধাপে ধাপে।

গামা

ইউরেনিয়াম ধাতুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত-ভাবে অবিরত যে বিশেষ ছেদন শক্তি সম্পন্ন রশ্মি নির্গত হয় তা প্রথম আবিষ্কার করেন ১৮৯৬ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকরেল । পরবর্তীতে দেখা গেছে যে, অস্থিত আইসোটোপগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন ধরনের রশ্নি বিকিরণ করে নিজের নিউক্লিয়াসে পরিবর্তন এনে অন্য মৌলের স্থিত আইসোটোপে পরিণত হয়। এই আচরণ বা ধর্মকে তেজস্ক্রিয়তা বলা হয়। এই ধরনের আইসোটোপগুলোকে বলা হয় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। ইউরানিয়াম-২৩৬, স্ট্রনসিয়াম-৯০, আয়োডিন-১৩০, প্লোটোনিয়াম-২৩৯ উল্খেখযোগ্য তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। তেজষ্ক্রিয়তা পরমাণুর নিউক্লিয় ঘটনা, তাই একে বাইরের কোন সাধারণ ভৌত প্রক্রিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। গামা রশ্মির ছেদন ক্ষমতা খুবই বেশি। এরা রঞ্জন রশ্মির ন্যায় বিভিন্ন পদার্থের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে। একমাত্র লিড বা কংক্রিটের তৈরি প্রশস্ত দেওয়াল দিয়েই গামা রশ্নিকে আটকে রাখা সম্ভব। এরা জীবন্ত কোষের ক্ষতি সাধন করে। তেজস্ক্রিয়তার ফলে বিস্তীর্ন এলাকায় জীব ও উদ্ভিদ জগতের উপর সুদুরপ্রসারী যে ক্ষতিকর প্রভাব পরিলক্ষিত হয় তারজন্য প্রধানতঃ এই গামা রশ্মিই দায়ী। তাছাড়া যে কোন পদার্থ গামা রশ্মি গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক কিছু কণা বিকিরন করে যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

তেজষ্ক্রিয় ভারী মৌল

তেজষ্ক্রিয় মৌলের তেজষ্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের ঘটনাকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে । ‘তেজস্ক্রীয় রশ্মি’ বা উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ন এক প্রকার তড়িৎ চুম্বকীয় বিচ্ছুরিত শক্তি। প্রতিটি মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ওজন এর নিউক্লিয়াস-এর মধ্যস্থ নিউট্রন ও প্রোটন-এর সমষ্টির সমান। যে-সব মৌলের পরমাণুর ওজন বেশী (সাধারণতঃ ২০০-এর উপর বা এর কাছা-কাছি) তাদের বলা হয় ভারী মৌল। এ-সব ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত-ভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়, এই প্রক্রিয়াকে-ই তেজষ্ক্রিয়তা (Radio-activity) বলে।

তেজষ্ক্রিয় বেরিয়াম

তেজষ্ক্রিয় মৌলের তেজষ্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের ঘটনাকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে । ‘তেজস্ক্রীয় রশ্মি’ বা উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ন এক প্রকার তড়িৎ চুম্বকীয় বিচ্ছুরিত শক্তি। প্রতিটি মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ওজন এর নিউক্লিয়াস-এর মধ্যস্থ নিউট্রন ও প্রোটন-এর সমষ্টির সমান। যে-সব মৌলের পরমাণুর ওজন বেশী (সাধারণতঃ ২০০-এর উপর বা এর কাছা-কাছি) তাদের বলা হয় ভারী মৌল। এ-সব ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত-ভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়, এই প্রক্রিয়াকে-ই তেজষ্ক্রিয়তা (Radio-activity) বলে। ইউরানিয়াম-২৩৬, স্ট্রনসিয়াম-৯০, আয়োডিন-১৩০, প্লোটোনিয়াম-২৩৯ উল্খেখযোগ্য তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। 

রঞ্জন রশ্মি

রঞ্জন রশ্মি ক্ষুদ্র তরঙ্গ বিশিষ্ট এক ধরনের তাড়িত চৌম্বক বিকিরণ। এর অপর নাম এক্স-রে (X-ray)। রঞ্জনরশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (সাধারণত ১০-০.০১ন্যানোমিটার) সাধারণ আলোর চেয়ে অনেক কম বলে এদের খালি চোখে দেখা যায় না। ১৮৯৫ সালে উইলিয়াম রন্টজেন এই রশ্মি আবিস্কার করেন। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট হয় পদার্থ ভেদ করার ক্ষমতা তত বেশি হয়। চিকিৎসাক্ষেত্রে রোগনির্ণয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে রঞ্জনরশ্মি। এক্সরে আর সাধারণ আলোর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল এদের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে। সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 7x10^-7m থেকে 4x10^-7m এর কাছাকাছি। এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10^-8m থেকে 10^-13m এর কাছাকাছি। সাধারণ আলো দৃশ্যমান এবং বিভিন্ন রঙে বিভক্ত হয়। কিন্তু এক্সরে দৃশ্যমান নয়। এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। এক্সরে আয়ন সৃষ্টিকারী বিকিরণ গ্যাসের মধ্য দিয়ে যাবার সময় গ্যাসকে আয়নিত করে, কিন্তু সাধারণ আলো তা করে না।

সিলভার হ্যালাইড

একটি অন্ধকার চারকোনা বাক্সের সামনে তলে একটি সুইয়ের খোঁচার সমান ছিদ্র থাকলে এবং ঠিক বিপরীত দিককার তলে একটা সাদা পর্দা দেয়া হলে সেই পর্দায় উল্টোভাবে সামনের দৃশ্য ধরা পড়ে। ছিদ্রটার যায়গায় যদি একটা কাচের লেন্স বসিয়ে দেয়া যায়, তাহলে যে এই ছবি আরো স্পষ্ট হয়ে আসে, সেটা সেই ১৪০০ সালের দিকেই মানুষ জানতে পেরেছিল। কিন্তু ওই পর্যন্তই। এই ছবিকে স্থায়ীভাবে ধরার প্রযুক্তি আবিস্কার করতে লেগে যায় ৪০০ বছরেরও বেশী। ১৮০০ সালের শুরুর দিকে আবিষ্কৃত হল যে কোন একটি প্লেটকে ‘আলোক সংবেদী (light sensetive)’ রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে কোটিং করে সেখানে ছবি প্রতিফলিত করলে ছবির বিভিন্ন অংশের আলোর তীব্রতার উপর নির্ভর করে ওই প্লেটের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন মাত্রায় বিক্রিয়া হয়। ফলশ্রুতিতে ছবিটা ফুটে ওঠে প্লেটের উপর। সমস্যা হল অন্য যায়গায়…এই ছবিকে স্থায়ী রুপ দেয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে ১৮০০ সালের গোড়ার দিকে লুই ডাগের (Louis Duguerre) এবং জোসেফ নিয়েপ (Joseph Niepce) এর যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরী হয় ‘ডাগেরোটাইপ (Duguerrotype)’ প্রসেস, যেখানে সিলভার হ্যালাইড নামের আলোক সংবেদী একটা যৌগের প্রলেপকে ব্যবহার করা হয় ছবি ধারনের মাধ্যম হিসেবে।

মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব

মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রদত্ত একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। এই তত্ত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কোন ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে একটি বিশেষ মুহূর্তে মহাবিশ্বের উদ্ভব। এই তত্ত্ব বলে আজ থেকে প্রায় ১৩.৭ বিলিয়ন বছর পূর্বে এই মহাবিশ্ব একটি অতি ঘন এবং উত্তপ্ত অবস্থা থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। মহা বিস্ফোরণ শব্দটি স্থূল অর্থে প্রাচীনতম একটি বিন্দুর অতি শক্তিশালী বিস্ফোরণকে বোঝায় যার মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিল, আবার অন্যদিকে এই বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও গঠন নিয়ে বিশ্বতত্ত্বে যে মতবাদের সৃষ্টি হয়েছে তাকেও বোঝায়। এর মাধ্যমেই মহাবিশ্বের প্রাচীনতম বস্তুসমূহের গঠন সম্পর্কে ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, যার জন্য মহা বিস্ফোরণ মতবাদের পরই আলফার-বেটে-গ্যামফ তত্ত্ব প্রণীত হয়েছে। মহা বিস্ফোরণের একটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল হল, বর্তমানে মহাবিশ্বের অবস্থা অতীত এবং ভবিষ্যতের অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। এই তত্ত্বের মাধ্যমেই ১৯৪৮ সালেজর্জ গ্যামফ অনুমান করতে পেরেছিলেন যে, মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণের অস্তিত্ব রয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে এটি আবিষ্কৃত হয় এবংস্থির অবস্থা তত্ত্বকে অনেকটাই বাতিল করে মহা বিস্ফোরণ তত্ত্বকে প্রমাণ করতে সমর্থ হয়।

আলোক বর্ষ

আলোক বর্ষ জ্যোতির্বিদ্যায় ব্যবহৃত দূরত্বের একক। আলো শুন্যস্থানে এক বৎসর সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে । আর আলোর গতি তো জানোই, প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লাখ কিলোমিটার (২,৯৯,৭৯২ কিলোমিটার)। এবার কল্পনা করো তো, এক আলোক বর্ষ কতো দীর্ঘ হতে পারে? এক আলোকবর্ষ প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন মাইলের সমান, কিলোমিটারে হিসেব করলে প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার (৯,৪৬০,৭৩০,৪৭২,৫৮১ কিলোমিটার)।

ক্যাথোড রশ্মি

ইলেকট্রন যে একটি উপআনবিক কণিকা তা সর্বপ্রথম বিজ্ঞানী জে. জে. টমসন ১৮৯৭ সালে আবিষ্কার করেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়েরক্যাভেন্ডিশ গবেষণাগারে ক্যাথোড রশ্মি নল নিয়ে গবেষণা করার সময় তিনি এই আবিষ্কার করেন। ক্যাথোড রশ্মি নল হল একটি সম্পূর্ণ বদ্ধ কাচের সিলিন্ডার যার মধ্যে দুইটি তড়িৎ ধারক (electrode) শূণ্য স্থান দ্বারা পৃথ করা থাকে। যখন দুইটি তড়িৎ ধারকের মধ্যে বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করা হয় তখন ক্যাথোড রশ্মি উৎপন্ন হয় এবং এর ফলে নলের মধ্যে আভার সৃষ্টি হয়। উপর্যুপরী পরীক্ষার মাধ্যমে টমসন প্রমাণ করেন যে চৌম্বকত্বের সাহায্যে রশ্মি থেকে ঋণাত্মক আধান পৃথক করা যায় না; তবে তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা রশ্মিগুলোকে বিক্ষিপ্ত করা যায়।

তাপ ও তাপমাত্রা

তাপ তাপমাত্রা
 

তাপঃতাপ হলো এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি জাগায়। তাপ উষ্ণতর বস্তু থেকে শীতলতর বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। সুতরাং উষ্ণতার পার্থক্যের জন্য যে শক্তি এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে প্রবাহিত হয় তাকে তাপ বলে।  

তাপের এককঃ SI পদ্ধতিতে তাপের একক হলো জুল  (J)। পূর্বে তাপের একক হিসাবে ক্যালরি  (Cal) ব্যবহৃত হতো।

ক্যালরি এবং জুলের মধ্যে সম্পর্ক হলো  1 Cal = 4.2 J

তাপমাত্রাঃতাপমাত্রা হচ্ছে কোনো বস্তুর এমন এক তাপীয় অবস্থা যা নির্ধারণ করে ঐ বস্তুটি অন্য বস্তুর তাপীয় সংস্পর্শে এলে বস্তুটি তাপ হারাবে না গ্রহণ করবে।

তাপমাত্রার এককঃ  আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে তাপমাত্রার একক কেলভিন(K)

কেলভিনঃ যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা এবং চাপে পানি তিনটি অবস্থায় অর্থাৎ বরফ, পানি, জলীয়বাষ্পরূপে অবস্থান করে তাকে পানির ত্রৈধবিন্দু বলা হয়। এই  ত্রৈধবিন্দুর তাপমাত্রাকে 273K ধরা হয়। পানির ত্রৈধবিন্দুর 1/273 ভাগকে এক কেলভিন বলে(K)।

 

কার্বন মনোক্সাইড

মোটর যানের ইঞ্জিনে বায়ু এবং পেট্রোল বা ডিজেল বা অকটেনের মিশ্রণকে প্রজ্জ্বলিত করে প্রচন্ড তাপ ও চাপের সৃষ্টি করে। এর ফলে মটরগাড়ী চলিত হয়ে থাকে। অব্যবহৃত গ্যাস বহির্মুখ ভালবের দ্বারা বের হয়ে থাকে। অব্যবহৃত গ্যাসের মধ্যে  কার্বন ড্রাই-অক্সাইড, কার্বন মনো অক্সাইড প্রভৃতি থাকে। এ গ্যাসগুলো বায়ুকে দূষিত করে থাকে। এ গ্যাস জীব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।তবে,এদের মধ্যে  কার্বন মনো অক্সাইড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।কেননা,এটি মানবদেহে অক্সিজেন পরিবহনে বাধার সৃষ্টি করে,যার ফলস্রুতিতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। 

ক্লোরোফর্ম

ক্লোরোফর্ম হলো বর্নহীন, মিষ্টি গন্ধযুক্ত, উদ্বায়ী জৈব পদার্থ। ।এটি  চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগীকে  অজ্ঞান করতে এটি  ব্যবহার করা হয়। ক্লোরোফর্ম এর  উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।এটি প্রথম ব্যবহার করেন স্যার জেমস ইয়ং সিম্পসন।

বিভিন্ন পদার্থের ব্যবহার

বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও তাদের কার্যকারিতাঃ 

রাসায়নিক পদার্থের নাম  কার্যকরিতা/ব্যবহার
ব্লিচিং পাউডার    জীবাণু নাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ক্লোরোফর্ম  চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
গ্রীজ, রঞ্জক ও দ্রাবক লিপস্টিক তৈরিতে  ব্যবহৃত হয়। 
লেবুর রস কাপড়ে কালির দাগ উঠাতে ব্যবহৃত হয়। 
লুকাস বিকারক  মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল সনাক্তকরনে  ব্যবহৃত হয়। 
ইথিলিন  ফল পাকাতে ব্যবহৃত হয়। 
তারপিন  রঙের থিনার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

 

বিভিন্ন পদার্থের মূল উপাদান

প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ পদার্থের মূল উপাদ

পদার্থ মূল উপাদান
কাগজ সেলুলোজ 
প্রাকৃতিক গ্যাস  মিথেন 
ভিনেগার  ইথানয়িক এসিড 
টুথপেস্ট  সাবান ও পাউডার

 

বিভিন্ন পদার্থের মূল উপাদান

প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ পদার্থের মূল উপাদ

পদার্থ মূল উপাদান
কাগজ সেলুলোজ 
প্রাকৃতিক গ্যাস  মিথেন 
ভিনেগার  ইথানয়িক এসিড 
টুথপেস্ট  সাবান ও পাউডার

 

প্রচলিত কয়েকটি রাসায়নিক পদার্থের নাম

কয়েকটি রাসায়নিক পদার্থের প্রচলিত ন

রাসায়নিক পদার্থ  প্রচলিত নাম 
মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট  টেস্টিং সল্ট 
কাদুনে গ্যাস  ক্লোরোপিক্রিন
অ্যাসকরবিক এসিড ভিটামিন 'সি' 
ফরমিক এসিড(HCOOH) মিথানয়িক এসিড
গ্যাসোলিন পেট্রোল

 

ইথানল

ইথানল যা ইথাইল অ্যালকোহল  নামেও পরিচিত, এক প্রকারের অ্যালকোহল। এটি দাহ্য, স্বাদবিহীন, বর্ণহীন, সামান্য বিষাক্ত ও বিশিষ্ট গন্ধযুক্ত, এবং অধিকাংশ মদের প্রধান উপাদান।তাই পানীয় হিসেবে ব্যবহারের অযোগ্য করার জন্য ইথানলের সাথে মিথানল মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়। এতে ৯৯% বিশুদ্ধ অ্যালকোহল থাকে। এটি জৈব সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।এসিড প্রভাবকের উপস্থিতিতে ইথানল কার্বক্সিলিক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে ইথাইল অ্যালকোহল এবং পানি তৈরী করে।আবার,এটি জীবাণুর উপস্থিতিতে বায়ু দ্বারা জারিত হয়ে অ্যাসিটিক এসিড তৈরি করে।

ব্যবহারঃ রেকটিফাইড স্পিরিট প্রস্তুতিতে এটি ব্যবহৃত হয়।৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল ও ৫% পানির মিশ্রণ   রেকটিফাইড স্পিরিট নামে পরিচিত।  

টিএনটি

জার্মান রসায়নবিদ জুলিয়াস উইলব্রান্ড ১৮৬৩ সালে প্রথম টিএনটি প্রস্তুত করেন। এটা তখন হলুদ রঙ হিসেবে ব্যবহৃত হত। প্রথমদিকে এটাকে বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হত না। কারণ প্রচলিত বিস্ফোরকের তুলনায় এটি ছিলো কম ক্ষমতাসম্পন্ন এবং এটাকে ডেটোনেট করা খুবই কষ্টসাধ্য ছিলো। ১৯১০ সালে টিএনটি নিরাপদভাবে তরল অবস্থায় পাত্রে ভরা সম্ভব হয়।

এটি একটি রাসায়নিক যৌগ যা রাসায়নিক সংশ্লেষণে অনেকসময় রিএজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে এটি বিষ্ফোরক তৈরীতে বহুল ব্যবহার হয়। 

ফর্মালিন

ফর্মালিন  (-CHO-)n হল ফর্মালডিহাইডের পলিমার। ফর্মালডিহাইড দেখতে সাদা পাউডারের মত। পানিতে সহজেই দ্রবনীয়। শতকরা ৩০-৪০ ভাগ ফরমাইলডিহাইডের জলীয় দ্রবনকে ফর্মালিন  হিসাবে ধরা হয়।ফর্মালিন  সাধারনত টেক্সটাইল, প্লাষ্টিক, পেপার, রং, কনস্ট্রাকশন ও মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।   

ভিনেগার

এসিটিক এসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবনকে ভিনেগার বলা হয়।মদ কিংবা আপেলের রস দিয়ে উৎপন্ন এলকোহল, ফলের রস ইত্যাদি জাতীয় তরল পদার্থ সহযোগে ভিনেগার তৈরী করা হয়। উক্ত তরলে ইথানল দ্রবীভূত হয়ে ভিনেগারে রূপান্তরিত করে।এটি একজাতীয় তরল পদার্থ যা সাধারণতঃ রান্নাকর্মে ব্যবহৃত হয়।এছাড়া খাদ্য সংরক্ষণে এটি ব্যবহৃত হয়। 

ভিনেগার

এসিটিক এসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবনকে ভিনেগার বলা হয়।মদ কিংবা আপেলের রস দিয়ে উৎপন্ন এলকোহল, ফলের রস ইত্যাদি জাতীয় তরল পদার্থ সহযোগে ভিনেগার তৈরী করা হয়। উক্ত তরলে ইথানল দ্রবীভূত হয়ে ভিনেগারে রূপান্তরিত করে।এটি একজাতীয় তরল পদার্থ যা সাধারণতঃ রান্নাকর্মে ব্যবহৃত হয়।এছাড়া খাদ্য সংরক্ষণে এটি ব্যবহৃত হয়। 

স্যাকারিন

স্যাকারিন একটি মিষ্টি জৈব পদার্থ। এটি চিনির চেয়ে প্রায় ৫০০ গুন বেশি মিষ্টি।ডায়াবেটিস রোগীরা  এটি  চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করে থাকেন।তবে স্যাকারিনের খাদ্যগুণ নেই।আলকাতরার পাতনের পর প্রাপ্ত টলুইন নামক পদার্থ থেকে এটি তৈরি করা হয়।

ভৌত রাশি chart 1

ভৌত রাশি weight chart

ভৌত রাশি চার্ট ২

nano

order of magnitude

ওজন

১ কেজি = ১,০০০ গ্রাম = ১.১ সের (প্রায়) = ২.২০ পাউন্ড (প্রায়)

১ সের = ৯৩৩ গ্রাম (প্রায়)

১ মণ = ৪০ সের = ৩৭ কেজি ৩২৪ গ্রাম (প্রায়)

১ কুইন্টাল = ১০০ কেজি = ২ মণ ২৭.৫ সের

১ মেট্রিক টন = ১,০০০ কেজি =২৬ মণ ৩১.৭৫ সের (প্রায়)

Distance

units

তড়িচ্চুম্বকত্ব

তড়িচ্চুম্বকত্ব (Electromagnetism) তড়িৎ এবং  চুম্বকত্বের মধ্য সম্পর্ককে বর্ণনা করে। ছোটবেলায় অনেকেই চুম্বক নিয়ে খেলা করেছেন, এছাড়া রেফ্রিজারেটর বা বেতার যন্ত্রের মধ্যে দণ্ড চুম্বক অনেকেই দেখেছেন। এগুলোকে বলে স্থায়ী চুম্বক। বাস্তবে স্থায়ী চুম্বক বেশি চোখে পড়লেও, প্রকৃতপক্ষে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় অস্থায়ী তথা তড়িচ্চুম্বক। এই তড়িচ্চুম্বকের ধর্ম নিয়েই তড়িচ্চুম্বকত্ব আলোচনা করে।  বিদ্যুৎ উৎপাদন, কম্পিউটার / ক্যাসেট প্লেয়ারে  স্মৃতি সংরক্ষণ, টেলিভিশন পর্দায়  ছবি ফুটিয়ে তোলা, রোগব্যধি নিরূপণ করা , কলিংবেলে ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই তড়িচ্চুম্বকত্ব ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বিদ্যুতের উপর নির্ভর করে আমরা যা যা করি তার সবকিছুতেই তড়িচ্চুম্বকত্ব কাজে লাগে।

কোন তারের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে সেখানে একটি চৌম্বক সৃষ্টি হয়। এই নীতির উপর ভিত্তি করেই তড়িচ্চুম্বকত্ব কাজ করে। স্থায়ী চুম্বক যে বলের কারণে ধাতব বস্তুকে আকর্ষণ করে তার সাথে এই ক্ষেত্রের কোন পার্থক্য নেই। দণ্ড চুম্বকে চৌম্বক ক্ষেত্র উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুতে প্রবাহিত হয়। আর তারের ক্ষেত্রে, চৌম্বক ক্ষেত্র গঠিত হয় এর চারদিকে। এই তার দিয়ে কোন ধাতব বস্তুকে পেঁচালে সেই বস্তুটি চুম্বকায়িত হয়ে পড়ে। এভাবেই খুব সাধারণ তড়িচ্চুম্বক তৈরি করা যায়।

পৃথিবী একটি বিরাট চুম্বক

পৃথিবীপৃষ্ঠে স্বাভাবিক চৌম্বকত্ব লাভ করা এবং দীর্ঘকাল পড়ে থাকা লোহার মধ্যে চৌম্বক শক্তির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার কারণে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, পৃথিবী নিজেই একটা চুম্বক। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এ প্রশ্নও তাদের ভাবিয়ে তোলে, এই চৌম্বকত্ব পৃথিবী পেলো কোথা থেকে?
এ প্রশ্নের উত্তরে অনেক ব্যাখ্যাই দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কেউ কেউ বলেছেন, পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে উভয় দিকে মেরু পর্যন্ত একটি চুম্বক অবস্থান করছে; তার প্রভাবেই পৃথিবী চৌম্বকত্ব লাভ করেছে।
অন্য বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পৃথিবীর অভ্যন্তরে চুম্বক তৈরি হচ্ছে অনবরত; এ কারণেই লোডস্টোন বা স্বাভাবিক চুম্বক পাওয়া যাচ্ছে পৃথিবীতে।
যে সময় এ ধরনের ব্যাখ্যা দেয়া হতো, সে সময় পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিলো না বিজ্ঞানীদের। পরে তারা দেখতে পান, পৃথিবীর চৌম্বক শক্তি-প্রাপ্তির পেছনে অন্য কারণ রয়েছে। পৃথিবীর অভ্যন্তরটা এতোই উত্তপ্ত আর তার তাপমাত্রা এতোটাই বেশি যে, সেখানে কোনো পদার্থের চৌম্বকত্ব টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাছাড়া ভূপৃষ্ঠের অল্প গভীরে এতো চৌম্বক পদার্থ নেই, যা থেকে পৃথিবী একটা বিশাল চুম্বকে পরিণত হতে পারে। মোটকথা, প্রথম দিকে বিজ্ঞানীরা যেসব ব্যাখ্যা প্রচার করেছিলেন, তা নতুন গবেষণার মধ্য দিয়ে ভুল প্রমাণিত হয়। ফলে বিজ্ঞানীরা নতুন করে গবেষণায় নামেন। এ সময় বিদ্যুতের কাজ সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা অর্জন করেন বিজ্ঞানীরা। তখন তারা বুঝতে পারেন, পৃথিবীপৃষ্ঠে কিছু কিছু স্থির বিদ্যুত্ ক্ষেত্র রয়েছে। পৃথিবীর রয়েছে আহ্নিকগতি। এর সাহায্যে পৃথিবী নিজ মেরুদণ্ডের ওপর প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘুরপাক খাচ্ছে। এ কারণে বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীর আহ্নিকগতি এবং চৌম্বক ক্ষেত্র পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত। পৃথিবীর কেন্দ্রে রয়েছে না-তরল না-কঠিন অবস্থায় থাকা বিপুল পরিমাণ ভারী পদার্থ। আহ্নিক গতির ফলে সেই অর্ধেক তরল পদার্থের মধ্যে সব সময়ই আলোড়নের সৃষ্টি হচ্ছে। আর সেই আলোড়নের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে একধরনের তড়িত্চুম্বকীয় আবেশ। ওই আবেশের ফলে উত্পন্ন হচ্ছে বিদ্যুত্তরঙ্গ। একইভাবে উত্পন্ন বিদ্যুত্প্রবাহ পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে চলছে। প্রতিনিয়ত এর পরিধি বেড়েই চলেছে। ভবিষ্যতে আরো বেশি এলাকায় চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হবে।

 

 

 

চৌম্বক পদার্থ

যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিকনির্দশক ধর্ম আছে – চম্বুক পদার্থ । চৌম্বকের চুম্বকত্ব একটি – ভৌত ধর্ম । চৌম্বকের প্রকারভেদ – ১) প্রাকৃতিক চৌম্বক, ২) কৃত্রিম চৌম্বক ও ৩) তড়িৎ চৌম্বক । চৌম্বক পদার্থ – টিন, আয়রণ, কপার, কোবাল্ট, নিকেল ইত্যাদি । চৌম্বক পদার্থের প্রকারভেদ – ১) ডায়া চৌম্বক, ২) প্যারা চৌম্বক ও ৩) ফেরো চৌম্বক ।

thermal unit

সেলসিয়াস, ফারেনহাইট ও কেলভিন স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক

সেলসিয়াস, ফারেনহাইট কেলভিন স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক
 

কোন বস্তুর তাপমাত্রা নির্ধারণের জন্য তাপমাত্রার একটি স্কেল প্রয়োজন হয়

স্থিরাংকঃ তাপমাত্রার স্কেল তৈরি করা জন্য দুটি তাপমাত্রাকে স্থির ধরে নেয়া হয়। তাপমাত্রা দুটিকে স্থিরাংক বলে।

স্থিরাংক দুটি-

  • নিম্ন স্থিরাংক
  • ঊর্ধ্ব স্থিরাংক

নিম্নস্থিরাঙ্কঃ প্রমাণ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলে পানি হয় অথবা বিশুদ্ধ পানি জমে বরফ হয় তাকে নিম্নস্থিরাঙ্ক বলে। একে হিমাঙ্ক বা বরফ বিন্দুও বলে।

ঊর্ধ্বস্থিরাঙ্কঃ প্রমাণ চাপে ফুটন্ত বিশুদ্ধ পানি যে তাপমাত্রায় জলীয় বাষ্পে পরিণত হয় তাকে ঊর্ধ্বস্থিরাঙ্ক বলে। ঊর্ধ্বস্থিরাঙ্ককে স্ফুটনাংক বা বাষ্পবিন্দুও বলে। 

স্থিরাঙ্কদুটির মধ্যবর্তী তাপমাত্রার ব্যবধানকে মৌলিক ব্যবধান বলে। মৌলিক ব্যবধানকে নানাভাবে ভাগ করে তাপমাত্রার বিভিন্ন স্কেল  তৈরিকরা হয়েছে।তাপমাত্রার প্রচলিত স্কেল তিনটি : সেলসিয়াস, ফারেনহাইট ও কেলভিন।

C/ 5 = (F- 32)/9 = (K-273)/5

সমীকরণটি  সেলসিয়াস,ফারেনহাইট ও কেলভিন স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক নির্দেশ করে।   

 

NTP

NTP - Normal Temperature and Pressure - is defined as air at 20oC (293.15 K, 68oF) and 1 atm (101.325 kN/m2, 101.325 kPa14.7 psia, 0 psig, 29.92 in Hg, 407 in H2O, 760 torr). Density 1.204 kg/m3 (0.075 pounds per cubic foot)

পরম শুন্য তাপমাত্রা ও ফারেনহাইট স্কেল

পরম শুন্য বা অ্যাবসলিউট জিরো তাপমাত্রা বলতে বোঝানো হয় এমন একটি তাপমাত্রা যার চাইতে ঠাণ্ডা কোনও কিছু হতে পারে না। এটা হল শুন্য ডিগ্রি ক্যালভিন, -২৭৩.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অথবা -৪৫৯.৬৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট 

 

 

 ফারেনহাইট স্কেলটি প্রবর্তনের মূলে বিজ্ঞানী ফারেনহাইটের একটি বদ্ধমূল ধারণা কাজ করে। তা হচ্ছে মানুষের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৬ ডিগ্রি। এই হিসেবে তিনি বরফের গলনাঙ্ক ৩২ ডিগ্রি নির্ণয় করেছিলেন। এই ফারেনহাইট স্কেলে পানির হিমাংক বিবেচনা করা হয় ৩২ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং স্ফুটনাঙ্ক বিবেচনা করা হয় ২১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট। আর এই দুই দুইয়ের মধ্যবর্তী অংশকে ১৮০টি ক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করা হয়। এই ক্ষুদ্র ভাগ হচ্ছে ১ ডিগ্রি ফারহেনহাইট।

মূল ধারণা : ফারেনহাইটের ১৭২৪ সালে সৃষ্ট নিবন্ধ অনুসারে তাপমাত্রা নিরূপণে তিনি তিনটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রবিন্দুর কথা তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো :
• সর্বনিম্ন তাপমাত্রার জন্য বরফ, পানি এবং অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড লবণকে একত্রিত করে মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয়। এরপর সাম্যাবস্থার জন্য অপেক্ষা করা হয়। পরবর্তীতে এ মিশ্রণে থার্মোমিটার রাখা হয় এবং থার্মোমিটারের তরলকে সর্বনিম্ন বিন্দুতে নিয়ে আসা হয়, যা ০° ফারেনহাইট নামে পরিচিত।
• দ্বিতীয় তাপমাত্রার জন্য থার্মোমিটারকে পানিতে রাখা হয়। যখন পানি বরফের আকৃতি ধারণ করে তখন এটি ৩২° ফারেনহাইট নামে পরিচিতি পায়।
• তৃতীয় যোগ্যতা নির্ধারণী বিন্দু হিসেবে থার্মোমিটারকে বাহুর নীচে কিংবা মুখে রাখা হয়। এক্ষেত্রে মানুষের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হিসেবে ৯৬° ফারেনহাইট ধরা হয়।

ফারেনহাইট লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, ৬০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পারদ তাপে ফুটে উঠে। অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে একত্রে কাজ করে তিনি দেখেনে যে, পানির স্ফুটনাঙ্ক হিমাঙ্কের চেয়ে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি বেশি। তাই তারা পানির স্ফুটনাঙ্ক এবং হিমাঙ্কের মধ্যবর্তী পার্থক্য পুরোপুরি ১৮০ ডিগ্রি ধরে ১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের সংজ্ঞা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে নতুন সংশোধিত স্কেলে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৯৮.৬° ফারেনহাইট, যা তার প্রকৃত স্কেলে ছিল ৯৬ ডিগ্রি।

 

ব্যারোমিটার

বায়ুমণ্ডলের চাপ মাপার জন্য এখনো নির্ভরতার সঙ্গে ব্যারোমিটার ব্যবহার করা হচ্ছে। বাতাসের চাপ সবসময় স্থির থাকে না। কখনো তা বাড়ে আবার কখনো কমে। এর একমাত্র কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের হ্রাস-বৃদ্ধি। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বাতাসের চাপ কমে যায় এবং তা ব্যারোমিটারে ধরা পড়ে। ব্যারোমিটারের কাঁটায় সব বোঝা যায়। বাতাসের চাপ কমলে বুঝতে হবে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসের চাপ বাড়তে থাকলে আবহাওয়া পরিষ্কার হবে। ব্যারোমিটারে পারদ ব্যবহার করা হয়

তরলের প্রকৃত ও আপাত প্রসারণ এবং গলনাঙ্কের উপর চাপের প্রভাব

তরলের প্রকৃত আপাত প্রসারণ
 

তরলকে সর্বদা কোনো পাত্রে রেখে উত্তপ্ত করতে হয়। তাপ প্রয়োগ করলে তরল ও পাত্র উভয়েরই প্রসারণ ঘটে। এই কারণে তরলের যে প্রসারণ আমরা লক্ষ্য করি তা তার প্রকৃত প্রসারণ নয় - আপাত প্রসারণ।  সুতরাং তরলের প্রসারণ দুই প্রকার

  • প্রকৃত প্রসারণ 
  • আপাত প্রসারণ 

প্রকৃত প্রসারনঃ তরলকে কোনো পাত্রে না রেখে (যদি সম্ভব হয়) তাপ দিলে তার যে আয়তন প্রসারণ হতো তাকে  তরলের প্রকৃত প্রসারণ বলে। তবে তা সম্ভব নয় ফলে পাত্রের প্রসারণ বিবেচনা করে প্রকৃতই তরলের যেটুকু প্রসারণ ঘটে তাই প্রকৃত প্রসারণ। 
আপাত প্রসারণঃ কোনো পাত্রে তরল রেখে তাপ দিলে তরলের যে আয়তন প্রসারণ দেখতে পাওয়া যায়, অর্থাৎ পাত্রের প্রসারণ বিবেচনায় না এনে তরলের যে প্রসারণ পাওযা যায় তাকে তরলের আপাত প্রসারণ বলে। 

 

গলনাঙ্কের উপর চাপের প্রভাব
 

পুনঃশিলীভবনঃ চাপ দিয়ে কঠিন বস্তুকে তরলে পরিণত করে এবং চাপ হ্রাস করে পুনরায় কঠিনে অবস্থায় আনাকে পুনঃশিলীভবন বলে।

পদার্থের উপর চাপের হ্রাস-বৃদ্ধির জন্য গলনাঙ্ক পরিবর্তিত হয়।

চাপের জন্য গলনাঙ্ক পরিবর্তন দুই ভাবে হতে পারে।

  • কঠিন থেকে তরলে  রূপান্তরের সময় যেসব পদার্থের আয়তন হ্রাস পায়  (যেমন বরফ), চাপ বাড়লে তাদের গলনাঙ্ক কমে যায় অর্থাৎ কম তাপমাত্রায় গলে। 
  • কঠিন থেকে তরলে  রূপান্তরের সময় যেসব পদার্থের আয়তন বেড়ে যায়  (যেমন  মোম), চাপ বাড়লে তাদের গলনাঙ্ক বেড়ে  যায় অর্থাৎ বেশি  তাপমাত্রায় গলে। 

পদার্থের তাপীয় প্রসারণ

পদার্থের তাপীয় প্রসারণ
 

প্রায় সকল পদার্থই তাপ প্রয়োগে প্রসারিত হয় আর তাপ অপসারণে সংকুচিত হয়। যখন কোনো বস্তু উত্তপ্ত হয়, তখন বস্তুটির প্রত্যেক অণুর তাপশক্তি তথা গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। কঠিন পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক বলের বিপরীতে অণুগুলো আরো বর্ধিত শক্তিতে স্পন্দিত হতে থাকে ফলে সাম্যাবস্থা থেকে অণুগুলোর সরণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু কোনো অণু এর সাম্যাবস্থা থেকে সরে যাবার সময় টান অনুভব করে। অর্থাৎ, অণুটি যখন পার্শ¦বর্তী অণুর কাছাকাছি যেতে চায় 
তখন বিকর্ষণ অনুভব করে। আবার আন্তঃআণবিক দূরত্ব যখন বৃদ্ধি পায় তখন আকর্ষণ অনুভব করে। তাপমাত্রা বৃদ্ধিরকারণে কঠিন বস্তুর  অণুগুলো স্পন্দিত হতে থাকে তবে তা সরল ছন্দিত স্পন্দন নয়। এর কারণ, দুই  অণুর মধ্যে দূরত্ব সাম্যাবস্থার তুলনায় যদি কমে যায় তাহলে বিকর্ষণ বল দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এদের  মধ্যে দূরত্ব সাম্যাবস্থার তুলনায় বৃদ্ধি পেলে আকর্ষণ বল তত দ্রুত বৃদ্ধি পায় না।ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবার ফলে কঠিন বস্তুর মধ্যে অণুগুলো  যখন কাঁপতে থাকে তখন একই শক্তি নিয়ে ভিতর দিকে যতটা সরে আসতে পারে, বাইরের দিকে তার চেয়ে বেশি সরে  যেতে পারে। এর ফলে প্রত্যেক   অণুর  গড় সাম্যাবস্থান  বাইরের দিকে সরে যায় এবং বস্তুটি প্রসারণ লাভ করে।তরল পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক বলের প্রভাব কম বলে তাপের কারণে এর প্রসারণ বেশি হয়। বায়বীয় পদার্থের বেলায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে অণুগুলোর  ছুটাছুটি বৃদ্ধি পায়। তাপীয় প্রসারণ গ্যাসীয় পদার্থে সবচেয়ে বেশি, তরলে তার চেয়ে কম এবং কঠিন পদার্থে সবচেয়ে কম। 

পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনে তাপের প্রভাব

পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনে তাপের প্রভাব
 

কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করে তরলে পরিণত করা যায়, একে গলন বলে। প্রথমে তাপ দিলে বস্তুর তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে তাপ প্রয়োগ করলেও বস্তুর তাপমাত্রা বাড়ে না। এ সময়ে যে তাপ বস্তু শোষণ করে তা দ্বারা কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত হয়। ০⁰ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার নিচের বরফকে তাপ দিতে থাকলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ০⁰ সেন্টিগ্রেড -এ আসবে। এর পর তাপ দিলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে না কিন্তু বরফ গলে ০⁰ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার পানিতে পরিণত হতে থাকবে। কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় পদার্থ যে তাপ শোষণ করে তা তার আন্তঃআণবিক বন্ধন ভাঙতে কাজ করে। ০⁰ সেন্টিগ্রেডতাপমাত্রার উক্ত পানিকে  আর তাপ প্রয়োগ করলে  তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। আবার এক পর্যায়ে এসে পানি যখন জলীয়বাষ্পে পরিণত হতে থাকে তখন আর তাপমাত্রা বাড়ে না। এই সময় পানি তাপ শোষণ করে বায়বীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। এক্ষেত্রেও তরলের আন্তঃআণবিক বন্ধন ভাঙতে তাপের প্রভাব বিদ্যমান। বিপরীতক্রমে বায়বীয় পদার্থ থেকে তাপ অপসারণ করে তাকে প্রথমে তরলে এবং তরল থেকে তাপ অপসারণ করে তাকে কঠিনে পরিণত করা যায়। সুতরাং পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনে তাপের প্রভাব উলে‡খযোগ্য।

 

 

পানির ঘনত্ব

শীতপ্রধান দেশে যখন উত্তাপ হিমাঙ্কের নিচে অর্থাৎ শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হয়ে যায় তখন হ্রদ এবং নদ-নদীর পানি বরফে পরিণত হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এসব বরফাবৃত হ্রদ ও নদীর জলচর প্রাণীরা কিন্তু বেঁচে থাকে। হ্রদের পানি আসলে আংশিকভাবে উপরিতলে জমে। কিন্তু নিচের পানি একই অবস্থায় থাকে অর্থাৎ জমে না। তাই উপরে বরফাবৃত থাকার সত্ত্বেও জলচর প্রাণীগুলো ভালোভাবেই বেঁচে থাকে। সাধারণত তরল সব পদার্থই উত্তাপে আয়তনে বাড়ে বা সম্প্রসারিত হয়। কিন্তু নিম্ন তাপমানে পানি এ নিয়মানুসারে চলে না। যখন শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানি ক্রমশ গরম হতে থাকে তখন তার তাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আয়তনও কমতে থাকে। উত্তাপ ৪ ডিগ্রি সেলিসিয়াসে না পেঁৗছানো পর্যন্ত। ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর পানি আয়তনে বাড়তে শুরু করে এবং এই আয়তনে বৃদ্ধি পাওয়াটা পরবর্তী তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সমতা রেখেই হয়। এ থেকে লক্ষ করা যায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট ভরের পানির আয়তন হচ্ছে তার নূ্যনতম আয়তন। অন্যদিকে বলা যায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বাপেক্ষা বেশি। পানির এ ধরনের অনিয়মিত প্রসারণকে জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ বলে। পানির এ ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ প্রকৃতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং শীতপ্রধান দেশের পুকুর এবং হ্রদগুলোর পানির উপরিতলকে বরফাবৃত করে দেয়। এ অবস্থায় নিচের স্তর কিন্তু অবিকল পানির আকারেই থাকে। এ কারণে পানির নিচের প্রাণীরা সহজেই বেঁচে থাকতে পারে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে শীত ঋতুতে যখন আবহাওয়ায় তাপমাত্রা অত্যন্ত নিচে নেমে যায়, তখন পানির ঘনত্ব হয় সর্বাধিক। ফলে সেটি নিচে নামতে থাকে এবং নিচের পানি উপরে জায়গা নিতে থাকে। এটি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠাণ্ডা হতে থাকে এবং ঘনত্ব হয়ে নিচের স্তরে নেমে যায়। পুরো পানির তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে না নামা পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে হলে পানির ঘনত্ব কমে আসে এবং পরিণামে উপরের পানি আর নিচে নেমে আসে না। অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে পানির উপরিতলের তাপ কমতে কমতে শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে পেঁৗছে বরফে পরিণত হয়। বরফ তাপ অপরিবাহী বলে নিচের দিকে পানি জমার প্রক্রিয়া চলে অত্যন্ত ধীর গতিতে। এর ফলে নিচের স্তরের পানিতে মাছ এবং অন্যান্য প্রাণী ও জলজ উদ্ভিদ বেঁচে থাকতে পারে। যদি পানির প্রসারণ ক্রিয়া একইরকম নিয়মিত হতো তাহলে হ্রদ ও পুকুরের পানি সবই বরফে পরিণত হতো এবং জলচর প্রাণী ও উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যেত। 

পাহাড়ে রান্না

প্রেসার কুকার

প্রেসার কুকার একটি অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র। এতে চাপ বৃদ্ধি করে পানির স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি করা হয় , ফলে মাছ , মাংস অতি দ্রুত সিদ্ধ হয়। ফলে রান্না অনেক দ্রুত হয়।

সাধারণত পাত্র ঢেকে রাখলে খোলা পাত্রের তুলনায় চাপ বেশি অনুভূত হয়। রাবার প্যাডের বেস্টনী দ্বারা ঢাকনিকে পাত্রের মুখে বায়ুনিরুদ্ধভাবে আটকে দেয়া হয়। 

তাপধারণ ক্ষমতা

তাপধারণ ক্ষমতা
 

কোনো বস্তুর তাপমাত্রা 1 K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন তাকে ঐ বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বলে। তাপধারণ ক্ষমতা বস্তুর উপাদান এবং ভরের উপর নির্ভরশীল। এর একক J/K

কোনো বস্তুর তাপমাত্রা  Δθ     বাড়াতে ধরা যাক Q পরিমাণ তাপ লাগে। তাহলে তাপধারণ ক্ষমতা, C = Q / Δθ  

 

আপেক্ষিক তাপ
 

1 Kg ভরের বস্তুর তাপমাত্রা 1 K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে। আপেক্ষিক তাপকে S দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

S = C / m = 1 / m ( Q / Δθ  )

আপেক্ষিক তাপের একক J kg¯¹k¯¹

সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 J kg¯¹k¯¹   বলতে বুঝায় 1kg সীসার তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 130J তাপের প্রয়োজন হবে

 

আপেক্ষিক তাপ তাপধারণ ক্ষমতার সম্পর্ক
 

তাপধারণ ক্ষমতা (C)= ভর (m) * আপেক্ষিক তাপ (S)

এটাই, আপেক্ষিক তাপ ও তাপধারণ ক্ষমতার সম্পর্ক। 

 

উচ্চতা ও বায়ুমণ্ডলীয় চাপ

উচ্চতা বায়ুমণ্ডলীয় চাপ
 

বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ভর করে বায়ুমণ্ডলের উচ্চতা এবং বায়ুর ঘনত্বের উপর। ভূপৃষ্ঠে অর্থাৎ সমুদ্র সমতলে বায়ুর সাধারণ চাপ হলো ৭৬ সেমি পারদতম্ভের চাপের সমান। ভূপৃষ্ঠের সমুদ্র সমতল থেকে যত উপরে উঠা যায় তত বায়ুতম্ভের ওজন এবং ঘনত্ব উভয়ই হ্রাস পায়। এজন্য উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমšডলীয় চাপ কম হয়।

এভারেস্ট শৃঙ্গের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমুদ্র সমতলের চাপের প্রায় 30%। সে জন্য বেশি উচ্চতায় শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া কষ্টের। বেশি উচ্চতায় মানুষের রক্তের চাপ বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তুলনায় বেশি বলে নাক দিয়ে রক্ত বের হতে পারে। বিমান যখন বেশি উচ্চতার নিম্নচাপ দিয়ে যায় তখন যাত্রীদের সুবিধার্থে অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় চাপ বজায় রাখা হয়।

রঙ

আমাদের চোখের রেটিনায় মূলত লাল, নীল এবং সবুজ- এই তিনটি রঙ ধরা পড়ে। এই রংগুলো মস্তিষ্কে পৌঁছে নিজের ওয়েভলেংথ অনুযায়ী মিলেমিশে তৈরি করে অফুরন্ত রঙের ভাণ্ডার।

বিশেষজ্ঞরা রঙকে হায়ার ফ্রিকোয়েন্সি এবং লোয়ার ফ্রিকোয়েন্সিতে ভাগ করেছেন। বেগুনি, নীল, আকাশি রঙ হল হায়ার ফ্রিকোয়েন্সি আর হলুদ, কমলা এবং লাল রঙ হল লোয়ার ফ্রিকোয়েন্সি। 

রংধনু

রংধনু  হল একটি দৃশ্যমান ধনুরাকৃতি আলোর রেখা যা বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত জলকণায় সূর্যালোকের প্রতিফলন এবং প্রতিসরণের ফলে ঘটিত হয়। সাধারণত বৃষ্টির পর আকাশে সূর্যের বিপরীত দিকে রংধনু দেখা যায়। রংধনুতে সাতটি রঙের সমাহার দেখা যায়। দেখতে ধনুকের মতো বাঁকা হওয়ায় এটির নাম রংধনু।

বৃষ্টির কণা বা জলীয় বাষ্প-মিশ্রিত বাতাসের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো যাবার সময় আলোর প্রতিসরণের কারণে বর্ণালীর সৃষ্টি হয়। এই বর্ণালীতে আলো সাতটি রঙে ভাগ হয়ে যায়। এই সাতটি রঙ হচ্ছে বেগুনী (violet), নীল (blue), আসমানী (indigo), সবুজ (green), হলুদ (yellow), কমলা (orange) ও লাল (red); বাংলাতে এই রংগুলোকে তাদের আদ্যক্ষর নিয়ে সংক্ষেপে বলা হয়: বেনীআসহকলা আর ইংরেজিতে VIBGYOR। এই সাতটি রঙের আলোর ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে এদের বেঁকে যাওয়ার পরিমাণে তারতম্য দেখা যায়। যেমন লাল রঙের আলোকরশ্মি ৪২° কোণে বাঁকা হয়ে যায়। অন্যদিকে বেগুনী রঙের আলোকরশ্মি ৪০° কোণে বাঁকা হয়ে যায়। অন্যান্য রঙের আলোক রশ্মি ৪০° থেকে ৪২°'র মধ্যেকার বিভিন্ন কোণে বাঁকা হয়। এই কারণে রংধনুকে রঙগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সারিতে সবসময় দেখা যায়।

প্র