অন্যান্য শ্রেণি ও বিষয়

বি সি এস প্রিলিমিনারি: নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন (Ethics, Values & Good Governance)

সুশাসন

ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।

 'সুশাসন' একটি অংশগ্রহণমূলক শাসন ব্যবস্থা।তাই আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে 'সুশাসন' শব্দটি ব্যাপকভাবে আলচিত হয়।আধুনিক বিশ্বে এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে ১৯৯৫ সালে ADB এবং ১৯৯৮ সালে IDA সুশাসনের উপর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সকল জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে সর্বাধিক জনকল্যাণ সাধনই এর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

সুশাসনের গুরুত্বঃ     

'সুশাসন' একটি দ্বিমুখী প্রত্যয়।প্লেটোর 'রিপাবলিক' গ্রন্থে প্রথম এর ধারণা পাওয়া যায়।এখানে এক পক্ষ জনগণ ও অন্য পক্ষ সরকার।এটি নাগরিকদেরকে তাদের অধিকার ভোগ করার নিশ্চয়তা প্রদান করে।তাই সুশাসন  প্রতিষ্ঠিত হলে নাগরিকগণ আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ও অধিকার ভোগ করতে পারে।সুশাসন হচ্ছে এমন এক ব্যবস্থা যার মাধ্যমে শাসক-শাসিতের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।আর এই প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয় জীবনে সমৃদ্ধি আনায়ন করে।আর এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।এতে সরকার ও জনগনের অংশগ্রহন নিশ্চিত হয় ও উভয়েই  লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগনের 'Win Win Game' বলা হয়।আইএমএফ এর মতে,' দেশের উন্নয়নে প্রতিটি স্তরের জন্য সুশাসন আবশ্যক।' তবে সুশাসনের এই তাৎপর্য গ্রামীণ সাধারণ মানুষের নিকট অজানা।    

জাতিসংঘের মতে, 'সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।'    

UNDP এর মতে,'সুশাসন সকলের অংশগ্রহনের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।' 

অন্যদিকে,জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের মতে,'"Good governence is perhaps the single most important factor in eradicating proverty and promoting development।'' 

ম্যাককরনির মতে, 'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগনের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।' 

সুশাসনের উপাদানঃ 

সুশাসন একটি আপেক্ষিক প্রত্যয়,এটি সার্বজনীন কোন বিষয় নয়।তবে সুশাসনকে বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। 

UNHCR এর মতে, কোন দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে ৫ টি উপাদানের সমন্বয়ের প্রয়োজন।এগুলো হল- Transparency,Responsibility,Accountability,participation and Responsiveness । 

জাতিসংঘ চিহ্নিত সুশাসনের মূল উপাদান ৮ টি।এগুলো হল-দায়বদ্ধতা,কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন,স্বচ্চতা ন্যায় বিচার প্রবণতা,জবাব্দিহিতা,আইনের শাসনের অনুসারী,অংশগ্রহণমূলক এবং মতামতের উপর নির্ভরশীলতা।

মূল্যবোধ

মূল্যবোধ হল মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।অন্যভাবে বলা যায়,মূল্যবোধ হল কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি , প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হল মুল্যবোধ শিক্ষা। মূল্যবোধ হল সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।   

ফ্রাঙ্কেল এর মতে,''মূল্যবোধ হল আবেগি ও আদর্শগত ঐক্যের ধারনা''। 

মূল্যবোধের গুরুত্বঃ 

মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরনের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে্।মূল্যবোধের  পরিবর্তনের ফলে বয়সের সাথে আদর্শিক ধর্মীয় বা পবিত্র বিষয়গুলো জাগ্রত হয়।তাই এটি ব্যক্তিজীবনের গাইডলাইন হিসেবে ভুমিকা পালন করে। 

মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যমঃ 

নিম্নের বিষয়গুলো মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।এগুলো হল- 

১.পরিবার

২.বিদ্যালয়

৩.সম্প্রদায়

৪.খেলার সাথি

৫.সমাজ ও 

৬. প্রথা 

অন্যদিকে,দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি বো্‌ধ,পারিবারিক ও সামাজিক ভুমিকার শৈথিল্য,ব্যক্তিস্বার্থের প্রাধান্য্, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপর অধিক নির্ভরশীলতা   প্রভৃতি মূল্যবোধের অবক্ষয়ের নিয়ামক। 

 

মূল্যবোধের প্রকারভেদঃ 

স্থান,কাল ও জাতিভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।আবার একই সমাজে বিভিন্ন প্রকার মূল্যবোধ পরিলক্ষিত হয়।যেমন-

১. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধঃ গণতন্ত্র থেকে উৎসারিত মূল্যবোধ হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।পরমত সহিষ্ণুতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য।এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা রাখে এবং আইনের শাসনকে শক্তিশালী করে।তাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি বলা হয়।সহনশীলতা,আনুগত্য প্রভৃতি হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।  

২.সামাজিক মূল্যবোধঃযে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য মানুষের সামাজিক আচার ব্যাবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।ন্যায়পরায়ণতা ,সততা ও শিষ্টাচার হল সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।এটি মূল্যবোধ মানুষের আচরণ বিচারের মানদন্ড।স্টুয়ারট সি ডড এর এর মতে,''সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেসব রীতিনীতির সমস্টি যা ব্যাক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।' বড়দের সম্মান করা,আতিথেয়তা,সহনশীলতা, দানশীলতা প্রভৃতি হল সামাজিক মূল্যবোধ।সহনশীলতাকে সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে গন্য করা হয়।     

৩.বাহ্যিক মূল্যবোধঃপরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সরলতা ও পোশাক পরিচ্ছেদ প্রভৃতি হল বাহ্যিক মূল্যবোধ।  

৪.রাজনৈতিক মূল্যবোধঃ আনুগত্য,রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক শৃংখলাবোধ প্রভৃতি হল রাজনৈতিক মূল্যবোধ। ব্যক্তির রাজনৈতিক মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে জাতীয় মূল্যবোধ,জাতীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ে উঠে ।    

৫.সাংস্কৃতিক মূল্যবোধঃমানুষ তার ধারণকৃত সংস্কৃতি থেকে যে মূল্যবোধ গ্রহণ করে তাই সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ।সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ব্যক্তির মুল্য ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে।  

৬.ধর্মীয় মূল্যবোধঃধর্মীয় ঐতিহ্য,বিশ্বাস প্রভৃতি থেকে যে মূল্যবোধ গড়ে উঠে তাই ধর্মীয় মূল্যবোধ।সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা,অন্যের ধর্ম পালনে বাধা না দেয়া,কোন ধর্মকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রেষ্ট না ভাবা প্রভৃতি হল ধর্মীয় মূল্যবোধ ।  

৭.শারীরিক ও বিনোদনমূলক মূল্যবোধঃএটি ব্যক্তি জীবনের জৈবিক ও মানসিক চাহিদা পরিতৃপ্তিতে সহায়তা করে।  

৮.বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধঃ সত্যানুসন্ধ্যানের স্পৃহার সাথে সংশ্লিষ্ট বুদ্ধিপ্রসূত মানবীয় আচরণের আদর্শিক দিকই বৌদ্ধিক মূল্যবোধ।  

৯.পেশাগত মূল্যবোধঃপেশাগত মূল্যবোধ হল ব্যক্তির মুল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি । 

১০.নৈতিক মূল্যবোধঃব্যক্তির উচিত-অনুচিত,ভাল-মন্দ,ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদি বিচারের যে মূল্যবোধ তা হল নৈতিক মূল্যবোধ।যেমন-ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া,আর্তের সবা করা প্রভৃতি।  

১১.ব্যক্তিগত মূল্যবোধঃআধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের উপর।এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং প্রথমত পরিবার থেকেই শিশু এই মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।যেমন- সঞ্চয় করার প্রবনতা হল ব্যক্তিগত মূল্যবোধ।  

জার্মান দার্শনিক ও সমাজ বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড স্পেন্সার মূল্যবোধকে ৬ ভাগে বিভক্ত করেছেন।যথা-

তাত্ত্বিক মূল্যবোধ,অর্থনৈতিক মূল্যবোধ,সৌন্দর্যবোধ মূল্যবোধ,সামাজিক মূল্যবোধ,রাজনৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ।

মানবাধিকার সনদ

মানবাধিকার সনদঃ (Universal Declaration of Human Rights (UDHR)) একটি ঘোষণাপত্র।১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই ঘোষণা প্রদান করা হয়। প্রত্যেক মানুষের মানবাধিকার  নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই সনদ ঘোষিত হয়।

এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ধারাঃ 

১৮ তম ধারাঃ প্রত্যেকেরই মতামতের ও মতামত প্রকাশের স্বাধিকার রয়েছে।

২০ তম ধারা-প্রত্যেকেরই শান্তিপূর্ণভাবে সম্মিলিত হওয়ার অধিকার রয়েছে এবং কাউকেই কোন সংঘভুক্ত হতে বাধ্য করা যাবে না৷

১৭ তম ধারাঃপ্রত্যেকেরই একাকী এবং অপরের সহযোগিতায় সম্পত্তির মালিক হওয়ার অধিকার রয়েছে এবং কাউকেই তার সম্পত্তি থেকে খেয়ালখুশিমত বঞ্চিত করা চলবে না । 

১৩ তম ধারাঃনিজ রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে চলাচল ও বসতি স্থাপনের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে এবং প্রত্যেকেরই নিজ দেশসহ যে কোন দেশ ছেড়ে যাওয়ার ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অধিকার রয়েছে।  

 

শিক্ষা

শিক্ষা একটি জীবনব্যপী প্রক্রিয়া যা মানুষের পরিপূর্ণ জীবন বিকাশে ভূমিকা রাখে।বাংলায় 'শিক্ষা' শব্দটি 'শাস' ধাতু থেকে আগত,যার অর্থ শাসন করা,নিয়ন্ত্রণ করা।'Education' শব্দটির উপত্তি হয়েছে  'Educare' (যত্ন করা) বা  'Educatium'(শিক্ষা দান করা) বা 'Educere' (নিষ্কাশন করা) থেকে।

রবিন্দ্রনাথের মতে,''শিক্ষা তাই যা আমাদের কেবল তথ্য পরিবেশনই করে না বিশ্বসত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে।'' 

হার্বার্ট স্পেন্সার এর মতে,'পরিপূর্ণ জীবন বিকাশই শিক্ষা'।

সক্রেটিস এর মতে,'শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ'। 

উপনিষদ অনুসারে,''শিক্ষা হল সে প্রক্রিয়া যার শেষ কথা হল মানুষের মুক্তি ''।  

দার্শনিক রুশো এর মতে,'সু-অভ্যাস গঠনের নামই শিক্ষা।'। 

শিক্ষাকে সাধারণত তিনভাগে ভাগ করা যায়।এগুলো হল-  

১.আনুষ্ঠানিকঃ স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে শিক্ষা লাভ করা হয় তাই।  

২.উপ-আনুষ্ঠানিকঃকর্মজীবনে বা বিশেষ দক্ষতা অর্জনের জন্য যে শিক্ষা লাভ করা হয় তাই উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা।  

৩.অনানুষ্ঠানিকঃমানুষ বাস্তব জীবনে অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে যে শিক্ষা লাভ করে তাই অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা।  

সুশাসন ও বাংলাদেশ

সুশাসন ও বাংলাদেশের সংবিধানঃ 

আধুনিক রাষ্ট্রসমূহ কল্যানমূখী।আর রাষ্ট্রকে কল্যাণমূখী করতে সুশাসন বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই।সুশাসন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সংবিধানে বেশকিছু অনুচ্ছেদ  সন্নিবেশিত হয়েছে। 

অনুচ্ছেদ ১১ঃএখানে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।যেহেতু গণতন্ত্র হল সুশাসনের প্রাণ।তাই বলা যায়, এই অনুচ্ছেদে  গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের স্বীকৃতির মাধ্যমে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৫৯ ও ৬০ঃ এই দুই অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা (৫৯ অনুচ্ছেদ) ও এর ক্ষমতা (৬০ অনুচ্ছেদ) সম্পর্কে বলা হয়েছে।যেহেতু গণতন্ত্র মানেই জণগনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এনং  স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা  জণগনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিতের নিশ্চয়তা প্রদান করে।তাই বলা যায় এই দুই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সুশাসনের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।   

অনুচ্ছেদ ৭৭ঃ এই অনুচ্ছেদে সরকারি কর্মচারিদের দুর্নীতি প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা হিসেবে ন্যায়পাল (Ombudsman) এর বিধান যুক্ত করা হয়েছে।ন্যায়পাল তার উপর অর্পিত ক্ষমতা বলে সরকারের যেকোন সংস্থার কার্যাবলি তদন্ত করার ক্ষমতা রাখেন।১৮০৯ সালে সুইডেনে সর্বপ্রথম ন্যায়পালের বিধান জারি করা হয়।পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের সংবিধানে এই বিধান যুক্ত করা হয়।তবে এটি এখন পর্যন্ত কার্যকর করা হয় নি।

এছাড়া সংবিধানে তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭) নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে এবং অষ্টম ভাগে ( অনুচ্ছেদ১২৭-১৩২) সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

সুতরাং বলা যায়,দেশে সুশাসন বাস্তবায়নের সকল প্রকার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা(Constitutional guarantee) আমাদের সংবিধানে সন্নিবেশিত হয়েছে হয়েছে।  

সরকারের বিভাগ

 সুশাসন ও সরকারের বিভিন্ন বিভাগঃ 

সরকারের তিনটি বিভাগের(নির্বাহী বিভাগ,আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ) সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমেই একটি দেশের  একটি দেশের সরকার ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।তাই সুশাসনের জন্য দেশে সাংবিধানিক শাসনের কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেলিনেকের মতে, সংবিধান রাষ্ট্রের বিভাগসমূহ নির্ধারণ করে, তাদের গঠন প্রণালী এবং পারস্পরিক সম্বন্ধ নির্ণয় করে, কার্যের সীমারেখা চিহ্নিত করে এবং সর্বশেষে রাষ্ট্রর সঙ্গে ওইসব বিভাগ ও শাখসমূহের কি সম্বন্ধ হবে তাও স্থির করে।

 

নির্বাহী বিভাগঃরাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম এই বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারি এই বিভাগের অন্তর্ভূক্ত।রাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে এই বিভাগের প্রধান।নির্বাহী বিভাগের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।সংবিধানের ৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি এই ক্ষমতা প্রাপ্ত হন। সংবিধানের চতুর্থ ভাগে(অনুচ্ছেদ ৪৮-৬৪) এই বিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

বিচার বিভাগঃ এই বিভাগ দেশের বিচারকার্য পরিচালনা করে থাকে।সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালত নিয়ে এই বিভাগ গঠিত।সুপ্রিম কোর্ট হল এই বিভাগের সর্বোচ্চ স্তর আর প্রধান বিচারপতি এই বিভাগের প্রধান।সংবিধানের ৬ষ্ঠ ভাগে(অনুচ্ছেদ ৯৪-১১৭) এই বিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।দেশে আইনের শাসন বাস্তবায়নে এটি 'ওয়াচ ডগ' হিসেবে ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগের গঠন নিম্নরূপ- 

আইন বিভাগঃ আইন বিভাগ দেশের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে।বাংলাদেশের আইনসভার নাম 'জাতীয় সংসদ'।এটি এক কক্ষবিশিষ্ট এবং ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত।বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম ভাগে(অনুচ্ছেদ৬৫-৯৩) এই বিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী পদাধিকারবলে এই বিভাগের প্রধান।

 

 

 

গণতন্ত্র

দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গণতন্ত্র হল অন্যতম মৌলিক ভিত্তি।কেননা গণতন্ত্র ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।আর তাই গণতন্ত্রকে  সুশাসনের প্রাণ বলা হয়।

গ্রিক শব্দ 'Democratia' থেকে 'গণতন্ত্র' (Democracy ) শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ।গণতন্ত্র হল জনগণের দ্বারা পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা।এখানে জনগণ তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। প্রাচীন গ্রিসে সর্বপ্রথম এর চর্চা শুরু হয়।যেহেতু এখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে।তাই এটি হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা ।এখানে জনগণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে তাদের এই ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটান।তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং জনগণকে গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়।    

আব্রাহাম লিঙ্কন এর মতে,''গণতন্ত্র হল জনগণের জন্য,জনগণের দ্বারা পরিচালিত জনগণের শাসন ব্যবস্থা।''

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রাচীনতম গণতন্ত্র প্রচলিত।আর ভারতকে বলা হয় বিশ্বের  বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ।    

   

সুশাসন ও উন্নয়ন

সুশাসন দেশে আইনের শাসন বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামাজিক শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করে।ফলে অর্থনৈতিক অনুকূল পরিবেশ পেয়ে লোকাল মার্কেট শক্তিশালি হয়,যা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

আবার, যেহেতু আইনের শাসন মানুষের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করে,তাই বলা যায় সুশাসন মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটিয়ে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে।

সুশাসন বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে।ফলে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয় এবং ফলশ্রুতিতে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। 

সুশাসনের ফলে  দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়ায় বহির্বিশ্বে দেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হয়।

আবার সুশাসন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতার অবসান ঘটায়।ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হয়,যা জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।এছাড়া সুশাসন দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করে।  

ই- গভরনেন্স

E-Governence হল ইলেক্ট্রনিক সরকার বা শাসন।তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশাসন ব্যাবস্থাকে উন্নত করাকে ই-প্রশাসন বা E-Governence বলা হয়।ই-গভরনেন্সের মডেলটি এক প্রকার ওয়ান স্টপ পোর্টাল।এ ব্যবস্থায় ওয়ান স্টপ সার্বিসের মত এক জায়গা থেকে সকল প্রকার সেবা প্রদান নিশ্চিত করা হয়। ১৯৯০ সালের শেষের দিক থেকে E-Governence শব্দটির ব্যবহার শুরু হয়।  

 UNDP এর মতে,'ই- গভরনেন্স হল ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সরকারি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডকে কার্যকর,দ্রুততর এবং স্বচ্ছ করার একটি প্রক্রিয়া।' 

শাসন ব্যবস্থার সকল কর্মকান্ডে ICT ব্যবহার নিশ্চিত করাই E-Governence লক্ষ্য।

কৌটিল্য

কৌটিল্য বা চাণক্য বা বিষ্ণুগুপ্ত (খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০-২৮৩ অব্দ -একজন প্রাচীন ভারতীয় অর্থনীতিবিদ, দার্শনিক ও রাজ-উপদেষ্টা এবং অর্থশাস্ত্র নামক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন। চাণক্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ে প্রাচীন ভারতের একজন দিকপাল ছিলেন এবং তাঁর তত্ত্বগুলি চিরায়ত অর্থনীতির বিকাশ লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তাঁর পাণ্ডিত্যের জন্য চাণক্যকে ভারতের মেকিয়াভেলি বলা হয়।

তিনি সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন।এগুলো হল-

1। Peoples caring administration 

2। Law and order 

3।Justice and rationality as the basis of decision making and 

4। Corruption free governance   

 

ম্যাগনাকার্টা

'Magna Carta' একটি ল্যাটিন শব্দ,যার অর্থ মহা সনদ। ১৫ জুন ১২১৫ সালে সামন্তদের ( ভূস্বামী বা ব্যারন নামেও পরিচিত) ইংল্যান্ড এর  রাজা জন এই চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য হন।এই চুক্তি মানবাধিকারের মহাসনদ নামেও পরিচিত।এই চুক্তির ধারাগুলো্র উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূত্রপাত হয় এবং আইনের শাসনের ভিত্তি রচিত হয়।ম্যাগনাকার্টা হল ব্রিটিশ শাসনতন্ত্রের বাইবেল এবং ইংল্যান্ডের প্রথম শাসনতন্ত্র।   

স্বাধীন বিচার বিভাগ

দেশে আইনের শাসন বাস্তবায়নে স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।স্বাধীন বিচার বিভাগ 'ওয়াচ ডগ' হিসেবে ভূমিকা পালন করে দেশে আইনের শাসন বাস্তবায়নে অংশ নেয়।বাংলাদেশের সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে স্বাধীন বিচার বিভাগের কথা বলা হয়েছে।২০০৭ সালের ১ নভেম্বর মাজদার হোসেন মামলার রায়ের উপর ভিত্তি করে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয়।  

আইন

আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law' ,যা টিউটনিক মূল শব্দ 'Lag' থেকে আবির্ভূত হয়েছে।আইন হল এমন কতগুলো নিয়ম-কানুন,যা সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত।

অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে,আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রযুক্ত।'' 

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫২ নং অনুচ্ছেদে আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে,'''আইন' অর্থ কোন আইন,আদেশ,বিধি,প্রবিধান,উপ-আইন,বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যে কোন রীতি বা প্রথা।'' 

সুশাসন মানেই আইনের শাসন।তাই দেশে সুশাসন বাস্তবায়নে আইনের শাসনের কোন বিকল্প নেই।এ.ভি.ডাইসি আইনের শাসন বলতে নিচের তিনটি বিষয়কে বুঝিয়েছেন-

১।Supremacy of law

২।Equality before law and 

৩।predominance of legal spirit  

সুতরাং, আইনের শাসন বলতে আইনের প্রাধান্য,আইনের দৃষ্টিতে সমতাকে বুঝিয়ে থাকে।এর ফলে ধনী-দরিদ্র,সবল-দুর্বল,পেশা-ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই আইনের আশ্রয় লাভ করবে এবং ফলশ্রুতিতে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। 

দুদক

দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti Corruption Commission - ACC) বাংলাদেশের একটি স্বাধীন কমিশন যা দেশের সকল স্তরে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চত করার লক্ষ্যে কাজ করে। ভারত উপমহাদেশে এ ধরণের কমিশন প্রথম শুরু হয়েছিল ১৯৪৩  সালে। পরবর্তীতে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বর্তমান দুদক গঠিত হয়েছে।ঢাকার সেগুনবাগিচায় এর সদর দপ্তর অবস্থিত। 

মানবাধিকার কমিশন

একটি রাষ্ট্র কতটা সভ্য তা পরিমাপ করা হয় ওই রাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নের মাধ্যমে।আর দেশের মানবাধিকার রক্ষা এবং তার উন্নয়নের প্রধান দায়িত্ব সরকারের। এ জন্য বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র নিজ নিজ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান গঠন করে।বাংলাদেশে ২০০৭ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের অধিনে একজন সভাপতি এবং দু'জন কমিশনার নিয়ে ২০০৮ সালের ১ ডিসেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যাত্রা শুরু করে।বর্তমানে ড.মিজানুর রহমান এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  

আমলাতন্ত্র

আমলাতন্ত্র এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Bureaucracy।এটি আমাদের দেশে 'লাল ফিতার দৌড়াত্ব' নামেও পরিচিত।এটি এমন এক ব্যবস্থা যার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়।জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েবারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।তিনি আমলাতন্ত্রের ৫ টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন।এগুলো হল- স্থায়িত্ব,নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, নিয়মানুবর্তিতা ও স্তরবিন্যাস।তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সুশাসন বাস্তবায়নে এটি একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়।   

সরকারের শ্রেণিবিভাগ

এরিস্টটল দুটি নীতির উপর ভিত্তি করে সরকারের শ্রেণিবিভাগ করেছেন।

১।সংখ্যানীতিঃএই নীতি অনুসারে এরিস্টটল তিন ধরণের সরকারের কথা বলেছেন-

a)একজনের শাসন(Rule by one)

b)কয়েকজনের শাসন(Rule by a few)

c)অনেকের শাসন (Rule by many) 

২। উদ্দেশ্যনীতিঃ এরিস্টটল এই নীতিকে আবার দুই ভাগে ভাগ করেছেন

a)স্বাভাবিকঃএটি আবার তিন ভাগে বিভক্ত।যথা-সৈরতন্ত্র(Tyranny),ধনিকতন্ত্র(Oligarchy) ও জনতাতন্ত্র (Democracy)। 

b)বিকৃতঃএটি আবার তিন ভাগে বিভক্ত।যথা-রাজতন্ত্র(Monarchy),অভিজাততন্ত্র(Aristrocracy) ও মধ্যমতন্ত্র(Polity)।  

আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস অনুসারে সরকার দুই প্রকার।যথা-

১।একনায়কতন্ত্র ও

২।গণতন্ত্র

আবার আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তিতে সরকার দুই প্রকার।যথা-

১।সংসদীয় বা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার ও 

২। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার  

বিস্তারিত প্র্যাকটিস করুন

সকল ডিজিটাল বই

পঞ্চম শ্রেণি
নবম-দশম শ্রেণি
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
বাংলা রচনা / ভাবসম্প্রসারণ ...
Essay / Compositions / Paragraph
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতি
বি সি এস