অন্যান্য শ্রেণি ও বিষয়

নবম - দশম শ্রেণি : পদার্থ বিজ্ঞান

পদার্থবিজ্ঞান

বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থ এবং শক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে বলা হয় পদার্থবিজ্ঞান। পদার্থবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং বিশ্লেষণের আলোকে বস্তু এবং শক্তির রূপান্তর ও সম্পর্ক উদঘাটন এবং পরিমাণগতভাবে তা প্রকাশ করা।

পদার্থবিজ্ঞানকে আমরা  প্রধানত নিম্নোক্ত শাখাগুলোতে ভাগ করতে পারি

(i)বলবিজ্ঞান

(ii)তাপগতিবিজ্ঞান

(iii)শব্দবিজ্ঞান

(iv)আলোকবিজ্ঞান

(v)তাড়িতচৌম্বক বিজ্ঞান

(vi)কঠিন অবস্থার বিজ্ঞান

(vii)পারমাণবিক বিজ্ঞান

(viii)নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান

(ix)কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান

(x)ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি।

থেলিস(খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৮-৫৬৯ ) সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত ভবিষৎবাণীর জন্য বিখ্যাত। তিনি লোডস্টোনের চৌম্বকধর্ম সম্পর্কে জানতেন।

 পিথাগোরাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৫২৭-৪৯৭ ) বিভিন্ন জ্যামিতিক উপপাদ্য ছাড়াও কম্পমান তারের উপর তাঁর কাজ রয়েছে। বর্তমান বাদ্যযন্ত্র এবং সংগীত বিষয়ক অগ্রগতির পিছনে তাঁর অবদান আছে।

গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০-৩৭০) পরমাণু সম্পর্কে প্রথমে ধারণা দেন।

গ্রিক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস(খ্রিষ্টপূর্ব ২৮৭-২১২ ) লিভারের নীতি ও তরলে নিমজ্জিত বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্বমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করে ধাতুর ভেজাল নির্ণয়ে সক্ষম হন। তিনি গোলীয় দর্পণের সাহায্যে সূর্যের রশ্মি কেন্দ্রীভূত করে আগুন ধরানোর কৌশল জানতেন।

আলোক তত্ত্বের উপর ইবনে আল হাইথাম(৯৬৫-১০৩৯) এবং আল হাজেন(৯৬৫-১০৩৮) এর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। টলেমী(১২৭-১৫১) ও অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে কোন বস্তু দেখার জন্য চোখ নিজে আলোক রশ্মি পাঠায়। আল হাজেন এই মতের বিরোধিতা করেন এবং বলেন যে বস্তু থেকে চোখে আলো আসে বলেই আমরা বস্তু দেখতে পাই। আতশি কাজ নিয়ে পরীক্ষা তাকে উত্তল লেন্সের আধুনিকতত্ত্বের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

আল মাসুদী(৮৯৬-৯৫৬) প্রকৃতির ইতিহাস সম্পর্কে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লেখেন। এই বইয়ে বায়ুকলের উল্লেখ পাওয়া যায়।

রজার বেকন(১২১৪-১২৯৪) পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবক্তা। তাঁর মতে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমেই বিজ্ঞানের সব সত্য যাচাই করা উচিত।

লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি(১৪৫২-১৫১৯) পাখি ওড়া পর্যবেক্ষণ করে উড়োজাহাজের একটি মডেল তৈরি করেছিলেন। তিনি মূলত চিত্রশিল্পি হলেও বলবিদ্যা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য জ্ঞান ছিল। ফলে তিনি বহু যন্ত্র দক্ষতার সাথে উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন।

ডা গিলবার্ট(১৫৪০-১৬০৩) চুম্বকত্ব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা এবং তত্ত্ব প্রদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

জার্মানির স্নেল(১৫৯১-১৬২৬) আলোর প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন।    

হাইগেন(১৬২৬-১৬৯৫) দোলকীয় গতি পর্যালোচনা করে ঘড়ির যান্ত্রিক কৌশলের বিকাশ ঘটান এবং আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।

রবার্ট হুক(১৬৩৫-১৭০৩) পদার্থের স্থিতিস্থাপক ধর্মের অনুসন্ধান করেন।

বিভিন্ন গ্যাসের ধর্ম বের করার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান রবার্ট বয়েল(১৬২৭-১৬৯১)।

ভন গুয়েরিক(১৬০২-১৬৮৬) বায়ু পাম্প আবিষ্কার করেন।

রোমার(১৬৪৪-১৭১০) বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে আলোর বেগ পরিমাপ করেন।

কেপলার(১৫৭১-১৬৩০) কোপার্নিকাস যে সৌরকেন্দ্রিক তত্ত্বের ধারণা উপস্থিত করেন তাঁর গাণিতিক বর্ণনা দেন তিনটি সুত্রের সাহায্যে। কেপলার গ্রহদের প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষের পরিবর্তে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা দেন। গ্রহদের গতিপথ সম্পর্কে তাঁর গাণিতিক সূত্রগুলোর সত্যতা তিনি যাচাই করলেন টাইকোব্রাহের(১৫৪৬-১৬০১) পর্যবেক্ষণ লব্ধ তথ্যের দ্বারা।

আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা ঘটে ইতালির বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর(১৫৬৪-১৬৪২) হাতে। তিনি প্রথম দেখান যে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং সুশৃঙ্খল ভৌত রাশির সংজ্ঞা প্রদান এবং এদের সম্পর্ক নির্ধারণ বৈজ্ঞানিক কর্মের মূল ভিত্তি। গাণিতিক তত্ত্ব নির্মাণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে সে তত্ত্বের সত্যতা যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা করেন গ্যালিলিও। তিনি সরণ, গতি, ত্বরণ, সময় ইত্যাদির সংজ্ঞা প্রদান ও তাদের মধ্যের সম্পর্ক নির্ধারণ করেন। ফলে তিনি বস্তুর পতনের নিয়ম আবিষ্কার ও সৃতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন।

নিউটন(১৬৪২-১৭২৭) তাঁর বিস্ময়কর প্রতিভার সাহায্যে আবিষ্কার করেন বলবিদ্যা ও বলবিদ্যার বিখ্যাত তিনটি সূত্র এবং বিশ্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র। আলোক, তাপ ও শব্দবিজ্ঞানেও তাঁর অবদান আছে। গণিতের নতুন শাখা ক্যালকুলাসও তাঁর আবিষ্কার।

জেমস ওয়াটের(১৭৩৬-১৮১৯) আবিস্কৃত বাষ্পীয় ইঞ্জিন শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড(১৭৭৭-১৮৫১) দেখান যে তড়িৎপ্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আছে।

মাইকেল ফ্যারাডে(১৭৯১-১৮৬৭), হেনরী (১৭৯৭-১৮৭৯) ও লেঞ্জ (১৮০৪-১৮৬৫) চৌম্বক ক্রিয়া তড়িৎপ্রবাহ উৎপাদন করে এই ঘটনা আবিষ্কার করেন। এর ফলে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।

১৮৬৪ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল(১৮৩১-১৮৭৯) দেখান যে আলোক এক প্রকার তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। তিনি তড়িৎক্ষেত্র এবং চৌম্বকক্ষেত্রকে একীভূত করে তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের বিকাশ ঘটান।

১৮৮৮ সালে হেনরিখ হার্জও(১৮৫৭-১৮৯৮) একই রকম বিকিরণ উৎপাদন ও উদঘাটন করেন।

১৮৯৬ সালে মার্কনী(১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে মোর্সকোডে সংকেত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর আগে বাঙালী বিজ্ঞান জগদীশ চন্দ্র বসু(১৮৫৮-১৯৩৭)  তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ করেন। এভাবে বেতার যোগাযোগ জন্ম লাভ করে।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে রনজেন(১৮৪৫-১৯২৩) এক্স রে এবং বেকেরেল(১৮৫২-১৯০৮) ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।

ম্যাক্স প্লাংক(১৮৫৮-১৯৪৭) আবিস্কার করেন বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব।  

আলবার্ট আইনস্টাইন(১৮৭৯-১৯৫৫) প্রদান করেন আপেক্ষিক তত্ত্ব।

আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের(১৮৭১-১৯৩৭) পরমাণু বিষয়ক নিউক্লিয় তত্ত্ব ও নীলস বোরের(১৮৮৫-১৯৬২) হাইড্রোজেন পরমাণুর ইলেকট্রন স্তরের ধারণা পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।

১৯৩৮ সালে অটো হান(১৮৭৯-১৯৬৮) ও স্ট্রেসম্যান(১৯০২-১৯৮০) বের করেন নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য। এর ফলে জন্ম নেয় নিউক্লিয় বোমা এবং নিউক্লিয় চুল্লী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১৮৯৪-১৯৭৪) তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ম্যাক্স প্লাংকের কোয়ান্টাম তত্ত্বের একটি শুদ্ধতর প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তাঁর তত্ত্ব বোস – আইনস্টাইন সংখ্যায়ন নামে পরিচিত। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি সরূপ এক শ্রেণীর মৌলিক কণাকে তাঁর নামানুসারে বোসন বলা হয়।

তিনজন নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী পাকিস্তানের আবদুস সালাম (১৯২৬-১৯৯৬), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেলডন গ্ল্যাশো(১৯৩২- ) এবং স্টিভেন ওয়াইনবার্গ(১৯৩৩- ) একীভূত ক্ষেত্রতত্ত্বের বেলায় মৌলিক বলগুলোকে একীকরণের ক্ষেত্রে তাড়িত দুর্বল বল আবিষ্কার করে অসামান্য অবদান রাখেন।

নোবেল বিজয়ী ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর রমন(১৮৮৮-১৯৭০) রমন প্রভাব আবিষ্কার করেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে পদার্থবিজ্ঞান যথেষ্ট অবদান রাখেন। এর ফলে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পাশাপাশি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বিভিন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিজ্ঞানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ  অগ্রগতি মহাশুন্য অভিযান।

কৃত্রিম উপগ্রহ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দানে এবং যোগাযোগকে সহজ করে দিয়েছে।

More Details...

বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থ এবং শক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে বলা হয় পদার্থবিজ্ঞান। পদার্থবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং বিশ্লেষণের আলোকে বস্তু এবং শক্তির রূপান্তর ও সম্পর্ক উদঘাটন এবং পরিমাণগতভাবে তা প্রকাশ করা।

পদার্থবিজ্ঞানকে আমরা  প্রধানত নিম্নোক্ত শাখাগুলোতে ভাগ করতে পারি

(i)বলবিজ্ঞান

(ii)তাপগতিবিজ্ঞান

(iii)শব্দবিজ্ঞান

(iv)আলোকবিজ্ঞান

(v)তাড়িতচৌম্বক বিজ্ঞান

(vi)কঠিন অবস্থার বিজ্ঞান

(vii)পারমাণবিক বিজ্ঞান

(viii)নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান

(ix)কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান

(x)ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি।

থেলিস(খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৮-৫৬৯ ) সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত ভবিষৎবাণীর জন্য বিখ্যাত। তিনি লোডস্টোনের চৌম্বকধর্ম সম্পর্কে জানতেন।

 পিথাগোরাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৫২৭-৪৯৭ ) বিভিন্ন জ্যামিতিক উপপাদ্য ছাড়াও কম্পমান তারের উপর তাঁর কাজ রয়েছে। বর্তমান বাদ্যযন্ত্র এবং সংগীত বিষয়ক অগ্রগতির পিছনে তাঁর অবদান আছে।

গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০-৩৭০) পরমাণু সম্পর্কে প্রথমে ধারণা দেন।

গ্রিক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস(খ্রিষ্টপূর্ব ২৮৭-২১২ ) লিভারের নীতি ও তরলে নিমজ্জিত বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্বমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করে ধাতুর ভেজাল নির্ণয়ে সক্ষম হন। তিনি গোলীয় দর্পণের সাহায্যে সূর্যের রশ্মি কেন্দ্রীভূত করে আগুন ধরানোর কৌশল জানতেন।

আলোক তত্ত্বের উপর ইবনে আল হাইথাম(৯৬৫-১০৩৯) এবং আল হাজেন(৯৬৫-১০৩৮) এর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। টলেমী(১২৭-১৫১) ও অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে কোন বস্তু দেখার জন্য চোখ নিজে আলোক রশ্মি পাঠায়। আল হাজেন এই মতের বিরোধিতা করেন এবং বলেন যে বস্তু থেকে চোখে আলো আসে বলেই আমরা বস্তু দেখতে পাই। আতশি কাজ নিয়ে পরীক্ষা তাকে উত্তল লেন্সের আধুনিকতত্ত্বের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

আল মাসুদী(৮৯৬-৯৫৬) প্রকৃতির ইতিহাস সম্পর্কে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লেখেন। এই বইয়ে বায়ুকলের উল্লেখ পাওয়া যায়।

রজার বেকন(১২১৪-১২৯৪) পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবক্তা। তাঁর মতে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমেই বিজ্ঞানের সব সত্য যাচাই করা উচিত।

লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি(১৪৫২-১৫১৯) পাখি ওড়া পর্যবেক্ষণ করে উড়োজাহাজের একটি মডেল তৈরি করেছিলেন। তিনি মূলত চিত্রশিল্পি হলেও বলবিদ্যা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য জ্ঞান ছিল। ফলে তিনি বহু যন্ত্র দক্ষতার সাথে উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন।

ডা গিলবার্ট(১৫৪০-১৬০৩) চুম্বকত্ব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা এবং তত্ত্ব প্রদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

জার্মানির স্নেল(১৫৯১-১৬২৬) আলোর প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন।    

হাইগেন(১৬২৬-১৬৯৫) দোলকীয় গতি পর্যালোচনা করে ঘড়ির যান্ত্রিক কৌশলের বিকাশ ঘটান এবং আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।

রবার্ট হুক(১৬৩৫-১৭০৩) পদার্থের স্থিতিস্থাপক ধর্মের অনুসন্ধান করেন।

বিভিন্ন গ্যাসের ধর্ম বের করার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান রবার্ট বয়েল(১৬২৭-১৬৯১)।

ভন গুয়েরিক(১৬০২-১৬৮৬) বায়ু পাম্প আবিষ্কার করেন।

রোমার(১৬৪৪-১৭১০) বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে আলোর বেগ পরিমাপ করেন।

কেপলার(১৫৭১-১৬৩০) কোপার্নিকাস যে সৌরকেন্দ্রিক তত্ত্বের ধারণা উপস্থিত করেন তাঁর গাণিতিক বর্ণনা দেন তিনটি সুত্রের সাহায্যে। কেপলার গ্রহদের প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষের পরিবর্তে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা দেন। গ্রহদের গতিপথ সম্পর্কে তাঁর গাণিতিক সূত্রগুলোর সত্যতা তিনি যাচাই করলেন টাইকোব্রাহের(১৫৪৬-১৬০১) পর্যবেক্ষণ লব্ধ তথ্যের দ্বারা।

আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা ঘটে ইতালির বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর(১৫৬৪-১৬৪২) হাতে। তিনি প্রথম দেখান যে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং সুশৃঙ্খল ভৌত রাশির সংজ্ঞা প্রদান এবং এদের সম্পর্ক নির্ধারণ বৈজ্ঞানিক কর্মের মূল ভিত্তি। গাণিতিক তত্ত্ব নির্মাণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে সে তত্ত্বের সত্যতা যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা করেন গ্যালিলিও। তিনি সরণ, গতি, ত্বরণ, সময় ইত্যাদির সংজ্ঞা প্রদান ও তাদের মধ্যের সম্পর্ক নির্ধারণ করেন। ফলে তিনি বস্তুর পতনের নিয়ম আবিষ্কার ও সৃতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন।

নিউটন(১৬৪২-১৭২৭) তাঁর বিস্ময়কর প্রতিভার সাহায্যে আবিষ্কার করেন বলবিদ্যা ও বলবিদ্যার বিখ্যাত তিনটি সূত্র এবং বিশ্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র। আলোক, তাপ ও শব্দবিজ্ঞানেও তাঁর অবদান আছে। গণিতের নতুন শাখা ক্যালকুলাসও তাঁর আবিষ্কার।

জেমস ওয়াটের(১৭৩৬-১৮১৯) আবিস্কৃত বাষ্পীয় ইঞ্জিন শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড(১৭৭৭-১৮৫১) দেখান যে তড়িৎপ্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আছে।

মাইকেল ফ্যারাডে(১৭৯১-১৮৬৭), হেনরী (১৭৯৭-১৮৭৯) ও লেঞ্জ (১৮০৪-১৮৬৫) চৌম্বক ক্রিয়া তড়িৎপ্রবাহ উৎপাদন করে এই ঘটনা আবিষ্কার করেন। এর ফলে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।

১৮৬৪ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল(১৮৩১-১৮৭৯) দেখান যে আলোক এক প্রকার তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। তিনি তড়িৎক্ষেত্র এবং চৌম্বকক্ষেত্রকে একীভূত করে তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের বিকাশ ঘটান।

১৮৮৮ সালে হেনরিখ হার্জও(১৮৫৭-১৮৯৮) একই রকম বিকিরণ উৎপাদন ও উদঘাটন করেন।

১৮৯৬ সালে মার্কনী(১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে মোর্সকোডে সংকেত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর আগে বাঙালী বিজ্ঞান জগদীশ চন্দ্র বসু(১৮৫৮-১৯৩৭)  তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ করেন। এভাবে বেতার যোগাযোগ জন্ম লাভ করে।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে রনজেন(১৮৪৫-১৯২৩) এক্স রে এবং বেকেরেল(১৮৫২-১৯০৮) ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।

ম্যাক্স প্লাংক(১৮৫৮-১৯৪৭) আবিস্কার করেন বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব।  

আলবার্ট আইনস্টাইন(১৮৭৯-১৯৫৫) প্রদান করেন আপেক্ষিক তত্ত্ব।

আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের(১৮৭১-১৯৩৭) পরমাণু বিষয়ক নিউক্লিয় তত্ত্ব ও নীলস বোরের(১৮৮৫-১৯৬২) হাইড্রোজেন পরমাণুর ইলেকট্রন স্তরের ধারণা পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।

১৯৩৮ সালে অটো হান(১৮৭৯-১৯৬৮) ও স্ট্রেসম্যান(১৯০২-১৯৮০) বের করেন নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য। এর ফলে জন্ম নেয় নিউক্লিয় বোমা এবং নিউক্লিয় চুল্লী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১৮৯৪-১৯৭৪) তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ম্যাক্স প্লাংকের কোয়ান্টাম তত্ত্বের একটি শুদ্ধতর প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তাঁর তত্ত্ব বোস – আইনস্টাইন সংখ্যায়ন নামে পরিচিত। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি সরূপ এক শ্রেণীর মৌলিক কণাকে তাঁর নামানুসারে বোসন বলা হয়।

তিনজন নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী পাকিস্তানের আবদুস সালাম (১৯২৬-১৯৯৬), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেলডন গ্ল্যাশো(১৯৩২- ) এবং স্টিভেন ওয়াইনবার্গ(১৯৩৩- ) একীভূত ক্ষেত্রতত্ত্বের বেলায় মৌলিক বলগুলোকে একীকরণের ক্ষেত্রে তাড়িত দুর্বল বল আবিষ্কার করে অসামান্য অবদান রাখেন।

নোবেল বিজয়ী ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর রমন(১৮৮৮-১৯৭০) রমন প্রভাব আবিষ্কার করেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে পদার্থবিজ্ঞান যথেষ্ট অবদান রাখেন। এর ফলে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পাশাপাশি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বিভিন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিজ্ঞানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ  অগ্রগতি মহাশুন্য অভিযান।

কৃত্রিম উপগ্রহ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দানে এবং যোগাযোগকে সহজ করে দিয়েছে।

পদার্থবিজ্ঞানের উদ্দেশ্য

পদার্থবিজ্ঞান প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন করে।

পদার্থবিজ্ঞান প্রকৃতির নিয়মগুলো বর্ণনা করে।

পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রগুলোর অনুসরণে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটে।

পদার্থবিজ্ঞান অধ্যয়ন একটি প্রকৃষ্ট মানবিক প্রশিক্ষণ।

পদার্থবিজ্ঞান আমাদের পর্যবেক্ষণ করতে শেখায়।

More Details...

পদার্থবিজ্ঞান প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন করে।

পদার্থবিজ্ঞান প্রকৃতির নিয়মগুলো বর্ণনা করে।

পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রগুলোর অনুসরণে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটে।

পদার্থবিজ্ঞান অধ্যয়ন একটি প্রকৃষ্ট মানবিক প্রশিক্ষণ।

পদার্থবিজ্ঞান আমাদের পর্যবেক্ষণ করতে শেখায়।

স্থান ও কাল

বিজ্ঞান তথা পদার্থবিজ্ঞানে স্থান ও কাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। কোন ঘটনা বর্ণনা করতে গেলে আমাদের স্থান ও কালের প্রয়োজন হয়।

ইউক্লিডের ধারণাঃ স্থানের জ্যামিতিক ধারণা প্রথম উপস্থাপন করেন ইউক্লিড। আমাদের চারপাশে যা আছে তাই স্থান।

গ্যালিলিওএর ধারণাঃ গ্যালিলিও তাঁর সৃতিবিদ্যায় স্থান এবং কালকে ব্যবহার করেছেন তাঁর  গতি এবং ত্বরণের সূত্রে। এর ফলে স্থান এবং কাল গুরুত্বপূর্ণ রাশি হিসেবে গাণিতিক সূত্রে প্রবেশ করেছে।

নিউটনের ধারণাঃ স্থান এবং কাল আরও স্পষ্ট এবং পরিমাণগত রূপ লাভ করেছে নিউটনের বলবিদ্যার মাধ্যমে।

নিউটনীয় বা চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানে স্থান হচ্ছে ত্রিমাত্রিক এক বিস্তৃতি। স্থানের শুরু বা শেষ নেই। স্থান নিরবিচ্ছিন্ন।

সময়ের যে কোন অংশ অন্য অংশের সমরূপ। সময় স্থান নিরপেক্ষ।

নিউটনীয় স্থান এবং কালের ধারনায় আমাদের এই মহাবিশ্ব ত্রিমাত্রিক স্থান ও একমাত্রিক সময় নিয়ে গঠিত।

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে নিউটনীয় স্থান এবং কালের ধারনায় পরিবর্তন এসেছে যার মূলে রয়েছে আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং ম্যাক্স প্ল্যাংকের কোয়ান্টাম তত্ত্ব।  

More Details...

বিজ্ঞান তথা পদার্থবিজ্ঞানে স্থান ও কাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। কোন ঘটনা বর্ণনা করতে গেলে আমাদের স্থান ও কালের প্রয়োজন হয়।

ইউক্লিডের ধারণাঃ স্থানের জ্যামিতিক ধারণা প্রথম উপস্থাপন করেন ইউক্লিড। আমাদের চারপাশে যা আছে তাই স্থান।

গ্যালিলিওএর ধারণাঃ গ্যালিলিও তাঁর সৃতিবিদ্যায় স্থান এবং কালকে ব্যবহার করেছেন তাঁর  গতি এবং ত্বরণের সূত্রে। এর ফলে স্থান এবং কাল গুরুত্বপূর্ণ রাশি হিসেবে গাণিতিক সূত্রে প্রবেশ করেছে।

নিউটনের ধারণাঃ স্থান এবং কাল আরও স্পষ্ট এবং পরিমাণগত রূপ লাভ করেছে নিউটনের বলবিদ্যার মাধ্যমে।

নিউটনীয় বা চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানে স্থান হচ্ছে ত্রিমাত্রিক এক বিস্তৃতি। স্থানের শুরু বা শেষ নেই। স্থান নিরবিচ্ছিন্ন।

সময়ের যে কোন অংশ অন্য অংশের সমরূপ। সময় স্থান নিরপেক্ষ।

নিউটনীয় স্থান এবং কালের ধারনায় আমাদের এই মহাবিশ্ব ত্রিমাত্রিক স্থান ও একমাত্রিক সময় নিয়ে গঠিত।

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে নিউটনীয় স্থান এবং কালের ধারনায় পরিবর্তন এসেছে যার মূলে রয়েছে আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং ম্যাক্স প্ল্যাংকের কোয়ান্টাম তত্ত্ব।  

ভৌত রাশি

এই ভৌত জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে আমরা রাশি বলি।

রাশি দুই প্রকারঃ মৌলিক রাশি আর লব্ধ বা যৌগিক রাশি।

যে সকল রাশি স্বাধীন বা যেগুলো অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের উপর নির্ভর করে তাদেরকে মৌলিক রাশি বলে।

মৌলিক রাশি সাতটি 

  1. দৈর্ঘ্য
  2. ভর
  3. সময়
  4. তাপমাত্রা
  5. তড়িৎ প্রবাহ
  6. দীপন তীব্রতা
  7. পদার্থের পরিমাণ

যে সকল রাশি মৌলিক রাশিগুলো থেকে লাভ করা যায় তাদেরকে লব্ধ বা যৌগিক রাশি বলে।

More Details...

এই ভৌত জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে আমরা রাশি বলি।

রাশি দুই প্রকারঃ মৌলিক রাশি আর লব্ধ বা যৌগিক রাশি।

যে সকল রাশি স্বাধীন বা যেগুলো অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের উপর নির্ভর করে তাদেরকে মৌলিক রাশি বলে।

মৌলিক রাশি সাতটি 

  1. দৈর্ঘ্য
  2. ভর
  3. সময়
  4. তাপমাত্রা
  5. তড়িৎ প্রবাহ
  6. দীপন তীব্রতা
  7. পদার্থের পরিমাণ

যে সকল রাশি মৌলিক রাশিগুলো থেকে লাভ করা যায় তাদেরকে লব্ধ বা যৌগিক রাশি বলে।

পরিমাপের একক

যে কোন পরিমাপের জন্য একটি আদর্শের প্রয়োজন, যার সাথে তুলনা করে পরিমাপ করা হয়।  পরিমাপের এ আদর্শ পরিমাণকে বলা হয় পরিমাপের একক।

১৯৬০ সালে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালু হয়।

এস.আই এর মৌলিক এককসমূহ

নিম্নে আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে মৌলিক এককগুলের জন্য সর্বশেষ গৃহীত আদর্শ উপস্থাপন করা হলঃ

দৈর্ঘ্যের একক (মিটার): ভ্যাকিউয়ামে বা বায়ু শূন্য স্থানে আলো '১/২৯৯৭৯২৪৫৮' সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকে ১ মিটার  বলে।

ভরের একক (কিলোগ্রাম): ফ্রান্সের স্যাভ্রেতে ইন্টারন্যাশনাল ব্যুর অব ওয়েটস্ এন্ড মেজারস-এ সংরক্ষিত প্লাটিনাম-ইরিডিয়াম সংকর ধাতুর তৈরি ৩.৯ সে.মি. ব্যাস এবং ৩.৯ সে.মি উচ্চতা বিশিষ্ট একটি সিলিন্ডারের ভরকে ১ কিলোগ্রাম  বলে।

সময়ের একক (সেকেন্ড): একটি সিজিয়াম- ১৩৩ পরমাণুর ৯১৯২৬৩১৭৭০টি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ১ সেকেন্ড বলে।

তাপমাত্রার একক (কেলভিন): পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রার '১/২৭৩.১৬' ভাগকে ১ কেলভিন  বলে।

তড়িৎ প্রবাহের একক (অ্যাম্পিয়ার): ভ্যাকিউয়ামে বা বায়ু শূন্য স্থানে এক মিটার দূরত্বে অবস্থিত অসীম দৈর্ঘ্যের এবং উপেক্ষণীয় প্রস্থচ্ছেদর দুটি সমান্তরাল সরল পরিবাহীর প্রত্যেকটিতে যে পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ চললে পরস্পরের মধ্যে প্রতি মিটার দৈর্ঘ্যে ২×১০^-৭নিউটন বল উৎপন্ন হয়, তাকে ১ অ্যাম্পিয়ার  বলে।

দীপন ক্ষমতার একক (ক্যান্ডলা): ১০১৩২৫ প্যাসকেল চাপে প্লাটিনামের হিমাঙ্কে (২০৪২ কেলভিন) কোনো কৃষ্ণবস্তুর পৃষ্ঠের '১/৬০০০০০' বর্গমিটার পরিমিত ক্ষেত্রফলের পৃষ্ঠের অভিলম্ব বরাবর দীপন ক্ষমতাকে ১ ক্যান্ডেলা  বলে।

পদার্থের পরিমাণের একক (মোল): যে পরিমাণ পদার্থ ০.০১২ কিলোগ্রাম কার্বন- ১২ এ অবস্থিত পরমাণুর সমান সংখ্যক প্রাথমিক ইউনিট থাকে, তাকে ১ মোল বলে।

 

More Details...

যে কোন পরিমাপের জন্য একটি আদর্শের প্রয়োজন, যার সাথে তুলনা করে পরিমাপ করা হয়।  পরিমাপের এ আদর্শ পরিমাণকে বলা হয় পরিমাপের একক।

১৯৬০ সালে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালু হয়।

এস.আই এর মৌলিক এককসমূহ

নিম্নে আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে মৌলিক এককগুলের জন্য সর্বশেষ গৃহীত আদর্শ উপস্থাপন করা হলঃ

দৈর্ঘ্যের একক (মিটার): ভ্যাকিউয়ামে বা বায়ু শূন্য স্থানে আলো '১/২৯৯৭৯২৪৫৮' সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকে ১ মিটার  বলে।

ভরের একক (কিলোগ্রাম): ফ্রান্সের স্যাভ্রেতে ইন্টারন্যাশনাল ব্যুর অব ওয়েটস্ এন্ড মেজারস-এ সংরক্ষিত প্লাটিনাম-ইরিডিয়াম সংকর ধাতুর তৈরি ৩.৯ সে.মি. ব্যাস এবং ৩.৯ সে.মি উচ্চতা বিশিষ্ট একটি সিলিন্ডারের ভরকে ১ কিলোগ্রাম  বলে।

সময়ের একক (সেকেন্ড): একটি সিজিয়াম- ১৩৩ পরমাণুর ৯১৯২৬৩১৭৭০টি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ১ সেকেন্ড বলে।

তাপমাত্রার একক (কেলভিন): পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রার '১/২৭৩.১৬' ভাগকে ১ কেলভিন  বলে।

তড়িৎ প্রবাহের একক (অ্যাম্পিয়ার): ভ্যাকিউয়ামে বা বায়ু শূন্য স্থানে এক মিটার দূরত্বে অবস্থিত অসীম দৈর্ঘ্যের এবং উপেক্ষণীয় প্রস্থচ্ছেদর দুটি সমান্তরাল সরল পরিবাহীর প্রত্যেকটিতে যে পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ চললে পরস্পরের মধ্যে প্রতি মিটার দৈর্ঘ্যে ২×১০^-৭নিউটন বল উৎপন্ন হয়, তাকে ১ অ্যাম্পিয়ার  বলে।

দীপন ক্ষমতার একক (ক্যান্ডলা): ১০১৩২৫ প্যাসকেল চাপে প্লাটিনামের হিমাঙ্কে (২০৪২ কেলভিন) কোনো কৃষ্ণবস্তুর পৃষ্ঠের '১/৬০০০০০' বর্গমিটার পরিমিত ক্ষেত্রফলের পৃষ্ঠের অভিলম্ব বরাবর দীপন ক্ষমতাকে ১ ক্যান্ডেলা  বলে।

পদার্থের পরিমাণের একক (মোল): যে পরিমাণ পদার্থ ০.০১২ কিলোগ্রাম কার্বন- ১২ এ অবস্থিত পরমাণুর সমান সংখ্যক প্রাথমিক ইউনিট থাকে, তাকে ১ মোল বলে।

 

মাত্রা

কোন ভৌত রাশিতে উপস্থিত মৌলিক রাশির সূচককে তার মাত্রা বলে।

কোন রাশিকে প্রকাশ করতে মাত্রা ব্যবহার করা হয়। মাত্রা জানলে রাশির একক সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়। মাত্রার সমীকরণের সাহায্যে বিভিন্ন সমীকরণ প্রমাণ করা যায়। বিভিন্ন রাশির মাত্রা বিভিন্ন। এটি জানলে বিভিন্ন রাশির একক নির্ভুল ও সঠিক ভাবে যাচাই করা যায়।

More Details...

কোন ভৌত রাশিতে উপস্থিত মৌলিক রাশির সূচককে তার মাত্রা বলে।

কোন রাশিকে প্রকাশ করতে মাত্রা ব্যবহার করা হয়। মাত্রা জানলে রাশির একক সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়। মাত্রার সমীকরণের সাহায্যে বিভিন্ন সমীকরণ প্রমাণ করা যায়। বিভিন্ন রাশির মাত্রা বিভিন্ন। এটি জানলে বিভিন্ন রাশির একক নির্ভুল ও সঠিক ভাবে যাচাই করা যায়।

বৈজ্ঞানিক প্রতীক ও সংকেত

পদার্থবিজ্ঞানের পরিভাষা হচ্ছে গণিত। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলোকে আমরা সাধারণত গাণিতিক সমীকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকি।

More Details...

পদার্থবিজ্ঞানের পরিভাষা হচ্ছে গণিত। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলোকে আমরা সাধারণত গাণিতিক সমীকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকি।

পরিমাপের যন্ত্রপাতি

পরিমাপের জন্য আমরা বিভিন্ন যন্ত্র ব্যাবহার করে থাকি। বৈজ্ঞানিক কাজের জন্য যেসব যন্ত্রাদি সচরাচর ব্যবহৃত হয় সেগুলো হ'লঃ

ক) মিটার স্কেল

খ) ভার্নিয়ার স্কেল

গ) স্লাইড ক্যালিপার্স

ঘ) স্ক্রু গজ

ঙ) তুলা যন্ত্র

চ) থামা ঘড়ি

মিটার স্কেল হ'ল দৈর্ঘ্য পরিমাপের সবচেয়ে সরল যন্ত্র।

ভার্নিয়ার স্কেলও দৈর্ঘ্য পরিমাপক যন্ত্র (মিলিমিটারের ভগ্নাংশ)।

স্লাইড ক্যালিপার্স বস্তর দৈর্ঘ্য, চোঙ বা বেলনের উচ্চতা, ফাঁপা নলের অন্ত:ব্যাস ও বহির্ব্যাস, গোলকের ব্যাস নির্ণয় করা যায়।

স্ক্রু গজের সাহায্যে তারের ব্যাসার্ধ, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ এবং ছোট দৈর্ঘ্য নির্ণয় করা যায়। 

তুলা যন্ত্র খুব অল্পপরিমাণ জিনিসের ভর সুক্ষ্মভাবে নির্ণয় করার যন্ত্র।

ক্ষুদ্র সময় পরিমাপের জন্য থামা ঘড়ি ব্যবহার করা হয়

More Details...

পরিমাপের জন্য আমরা বিভিন্ন যন্ত্র ব্যাবহার করে থাকি। বৈজ্ঞানিক কাজের জন্য যেসব যন্ত্রাদি সচরাচর ব্যবহৃত হয় সেগুলো হ'লঃ

ক) মিটার স্কেল

খ) ভার্নিয়ার স্কেল

গ) স্লাইড ক্যালিপার্স

ঘ) স্ক্রু গজ

ঙ) তুলা যন্ত্র

চ) থামা ঘড়ি

মিটার স্কেল হ'ল দৈর্ঘ্য পরিমাপের সবচেয়ে সরল যন্ত্র।

ভার্নিয়ার স্কেলও দৈর্ঘ্য পরিমাপক যন্ত্র (মিলিমিটারের ভগ্নাংশ)।

স্লাইড ক্যালিপার্স বস্তর দৈর্ঘ্য, চোঙ বা বেলনের উচ্চতা, ফাঁপা নলের অন্ত:ব্যাস ও বহির্ব্যাস, গোলকের ব্যাস নির্ণয় করা যায়।

স্ক্রু গজের সাহায্যে তারের ব্যাসার্ধ, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ এবং ছোট দৈর্ঘ্য নির্ণয় করা যায়। 

তুলা যন্ত্র খুব অল্পপরিমাণ জিনিসের ভর সুক্ষ্মভাবে নির্ণয় করার যন্ত্র।

ক্ষুদ্র সময় পরিমাপের জন্য থামা ঘড়ি ব্যবহার করা হয়

পরিমাপে ত্রুটি ও নির্ভুলতা

সব পরিমাপের নির্ভুলতারই একটি সীমা আছে। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি এবং পরীক্ষকের দক্ষতার উপর পরিমাপের নিরভুলতা নির্ভর করে।

পরিমাপের বেলায় সাধারণত তিন ধরনের ত্রুটি থাকতে পারেঃ

ক) দৈব ত্রুটি

খ) যান্ত্রিক ত্রুটি

গ) ব্যক্তিগত ত্রুটি

দৈব ত্রুটিঃ কোন একটি ধ্রুব রাশি কয়েক বার পরিমাপ করলে যে ত্রুটির কারনে পরিমাপকৃত মানে আসামঞ্জস্য দেখা যায় তাকে দৈব ত্রুটি  বলে। দৈব না থেকেই বুঝা যাচ্ছে এই ত্রুটি আগে থেকেই অনুমান করা যায় না এবং এই ত্রুটির প্রত্যাশিত মান হবে শূন্য। 

যান্ত্রিক ত্রুটিঃ যন্ত্রে কোন সমস্যা থাকলে এই ত্রুটি দেখা যায়। ভার্নিয়ার স্কেলের শূন্য দাগ মূল দাগের সাথে না মিললে এই ত্রুটি দেখা যায়।

ব্যক্তিগত ত্রুটিঃ পর্যবেক্ষকের ব্যক্তিগত ভুলের কারণে এই ত্রুটি হয়। কোন ক্ষেত্রে  পর্যবেক্ষক গণনা করতে এবং পাঠ নিতে ভুল করে ফেলে। এই ত্রুটি দূর করার জন্য পর্যবেক্ষককে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।

More Details...

সব পরিমাপের নির্ভুলতারই একটি সীমা আছে। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি এবং পরীক্ষকের দক্ষতার উপর পরিমাপের নিরভুলতা নির্ভর করে।

পরিমাপের বেলায় সাধারণত তিন ধরনের ত্রুটি থাকতে পারেঃ

ক) দৈব ত্রুটি

খ) যান্ত্রিক ত্রুটি

গ) ব্যক্তিগত ত্রুটি

দৈব ত্রুটিঃ কোন একটি ধ্রুব রাশি কয়েক বার পরিমাপ করলে যে ত্রুটির কারনে পরিমাপকৃত মানে আসামঞ্জস্য দেখা যায় তাকে দৈব ত্রুটি  বলে। দৈব না থেকেই বুঝা যাচ্ছে এই ত্রুটি আগে থেকেই অনুমান করা যায় না এবং এই ত্রুটির প্রত্যাশিত মান হবে শূন্য। 

যান্ত্রিক ত্রুটিঃ যন্ত্রে কোন সমস্যা থাকলে এই ত্রুটি দেখা যায়। ভার্নিয়ার স্কেলের শূন্য দাগ মূল দাগের সাথে না মিললে এই ত্রুটি দেখা যায়।

ব্যক্তিগত ত্রুটিঃ পর্যবেক্ষকের ব্যক্তিগত ভুলের কারণে এই ত্রুটি হয়। কোন ক্ষেত্রে  পর্যবেক্ষক গণনা করতে এবং পাঠ নিতে ভুল করে ফেলে। এই ত্রুটি দূর করার জন্য পর্যবেক্ষককে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।

বিস্তারিত প্র্যাকটিস করুন

সকল ডিজিটাল বই

পঞ্চম শ্রেণি
নবম-দশম শ্রেণি
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
বাংলা রচনা / ভাবসম্প্রসারণ ...
Essay / Compositions / Paragraph
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতি
বি সি এস